নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮
স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি গৌরনদীর ৪ মুক্তিযোদ্ধা
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে রফিকুল হক
মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে নিজেদের জীবনবাজি রেখে পাক সেনাদের সাথে একাধিক সম্মুখ যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে লাল সবুজের বিজয় পতাকা ছিনিয়ে এনেছিলেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আ. হালিম সরদার, আব্দুল ছত্তার ঘরামী, মো. হাবিব মোল্লা, বেপারী ও বাসুদেবপাড়া গ্রামের আব্দুল মোল্লা। ২০০৪ সালের বাচাই তালিকায় তাদের সকলের নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম আজও অন্তর্ভুক্ত হয়নি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন কেউ কেউ। মো. আ. হালিম সরদার গৌরনদীর বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত আকুব্বর আলী সরদারের পুত্র ১৯৭১ সালে দেশ মাতৃকার টানে নিজের জীবনবাজি রেখে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি ভারতের কল্যাণগড় ক্যাম্প থেকে ট্রেনিং গ্রহণ করেছিলেন। ২০০৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা বাছাই তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। তার সকল প্রকার সনদ থাকা সত্বেও দীর্ঘদিনেও তিনি মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। আব্দুল মোল্লা উপজেলার বাসুদেবপাড়া গ্রামের মৃত তফি মোল্লার পুত্র। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি ফরিদপুরের জহরের কান্দি ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের ভূমিকা পালন করেন। তিনি আগৈলঝাড়ার পয়সার হাট, ঘাঘর, গৌরনদীর বাটাজোর এলাকায় সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধে বীরত্বের ভূমিকা পালন করার জন্য হেমায়েত বাহিনীর প্রধান তাকে হেমায়েত বাহিনী পদকও প্রদান করেছেন। তার সকল প্রকার সনদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনেও তিনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তভুক্ত হতে পারেননি। আব্দুল ছত্তার ঘরামী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত এলেম উদ্দিন ঘরামীর পুত্র। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েত উদ্দিনের নির্দেশে তারই পরিচালিত ফরিদপুরের জহরেরকান্দি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে হেমায়েত বাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে তিনি আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট, কোটালীপাড়ার শিকির বাজার, ঘাঘর এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এতকিছুর পরেও তিনি অদ্যাবধি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হতে পারেননি। একাধিবার গেজেটভুক্ত হওয়ার চেষ্টার পর ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

উপজেলার বাহাদুর গ্রামের মৃত মেছের আলী মোল্লার পুত্র হাবিব মোল্লা ১৯৭১ সালে জীবনবাজি রেখে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিনের অধীনে বিভিন্ন স্থানে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। তার সকল প্রকার সনদ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনে তিনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তভুক্ত হতে পারেননি। জীবনের শেষ বয়সে এসেও তিনি দিনমজুরের কাজ করছেন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও শুধুমাত্র গেজেটভুক্ত না হওয়ার কারণে ছেলে-মেয়েদের কোন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করে দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বুলেট সেন্টুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি গৌরনদীতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২২
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১০
আসর৪:০২
মাগরিব৫:৪১
এশা৬:৫৭
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯৭৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.