নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী
আগুন সন্ত্রাসে যারা মানুষ হত্যা করেছে গণআদালতে তাদের বিচার হবে
স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা মানুষ হত্যা করে, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায় তাদের হাতে গণতন্ত্র ও মুখে গণতন্ত্র সুরক্ষার কথা মানায় না। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী কর্মকা-ের মাধ্যমে জঙ্গিদের উস্কানি দিচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণই একদিন এর বিচার করবে। গণ আদালতে এসব অপরাধেরও একদিন বিচার হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রমুখ।

খালেদার উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষ সুখে থাকলে তার অন্তর্জ্বালা হয়। এটাই দুর্ভাগ্য। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আজ থেকে ২৫ বছর আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হত। তিনি বলেন, তাদের কাছে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ভাষা শিখতে হবে, তা জনগণ মানবে না। তিনি বলেন, খালেদা দুই বিষয়ে পাস করেছিলেন। অংক আর উর্দু। ফলে তার মনে একটা দুঃখ ছিল। নিজে যেহেতু পাস করতে পারেননি, তাহলে ছেলেমেয়েরা এত পাস করবে কেন? তিনি সাক্ষরতার হার কমিয়ে দিলেন।

পঁচাত্তরের পরই বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু : পঁচাত্তরের পরই বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়েছিল মন্তব?্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত?্যাকা-ের পরই দেশের উন্নয়ন কর্মকা- থেমে যায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে ২৫/৩০ বছর আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত?্যা করা হয়। আর এরপর যারাই ক্ষমতায় এসেছে, 'নিজেদের আখের গোছানোই' ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ?্য বলে মন্তব?্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা কখনো জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দিতে চায়নি। কারণ তাদের দেহ এ দেশে থাকলেও মন পড়ে থাকত পাকিস্তানে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ২৫-৩০ বছর আগেই বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হতে পারত, সবাই সুখে শান্তিতে জীবন-যাপন করতে পারত।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়ে নয় মাস যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছিল। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল এ দেশের জনগণ। ৩২ নম্বরের বাসা থেকে বঙ্গবন্ধু যেসব নির্দেশ দিতেন, তা জনগণ মেনে নিতো। কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী এদেশে গণহত্যা শুরু করে। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করে দেশকে শত্রুমুক্ত করার আহ্বান জানান। তার ডাকেই সাড়া দিয়ে যুদ্ধ করে এদেশের মানুষ দেশকে স্বাধীন করে। এই মাঠেই হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী জাতির পিতাকে গ্রেফতার করে হত্যা করতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণের চাপে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল তারা। পরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেয়ে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসেছিলেন। আমরা সবাই সেদিন এখানে এসেছিলাম। তিনি বলেন, এই উদ্যানেই বঙ্গবন্ধু কীভাবে একটি স্বাধীন দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা যায়, তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ভাষণে বলেছিলেন, আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য, আশ্রয় পাবেন, উন্নত জীবন পাবেন , এই আমার স্বাপ্ন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দেখিয়েছি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যা ওয়াদা করি তা পালন করি। আওয়ামী লীগ সরকার কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, অনেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে ঠাট্টা করেছিল, তারা বিশ্বাস করতে পারেননি। কিন্তু আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দেখিয়েছি। পৃথিবীর কোনো দেশ শিক্ষার্থীদের এতো বই বিতরণ করতে পারেনি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিনামূল্যে এতো বই দিয়েছি, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বই দিয়েছি। কেবল আমরাই এটা পেরেছি। তিনি বলেন, এদেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, সেইভাবে সম্মানিত জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় আমরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছি, সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলেছিল বিএনপি-জামায়াত : বিএনপি-জামায়াতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা বাংলাদেশে থাকলেও মন-আত্মা ছিল পাকিস্তানে। তারাই মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলেছিল। বাংলার মানুষ কখনো কোনো অন্যায়কে মেনে নেয়নি, তাদের এই অন্যায়ও টেকেনি। ২১ বছর পর সরকার গঠন করে, উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি মানুষের মুখে আল্লার রহমতে খাদ্য তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। আজকে আর ক্ষুধায় কাতর হতে হয় না। বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। যারা বাকি, তাদের সবাইকে ঘর বানিয়ে দেবো। এছাড়া চিকিৎসা সেবা পাবে প্রতিটি মানুষ।

খালেদা জিয়ার কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী শুধু অংকে আর উর্দুতে পাস করেছিলেন। যিনি মাত্র দুটি বিষয়ে পাস করেন তার কাছ থেকে শিক্ষার মর্যাদা আশা করা যায় না। তিনি বলেন, ভুতের পা যেমন পেছনের দিকে যায়, খালেদা জিয়া তেমনি দেশেকে পেছনের দিকে নিয়েছিলেন। শিক্ষার মর্যাদা তার কাছে মূল্যায়িত হয়নি বলেই জ্বালাও পোড়াও করে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থা ধংস করতে চেয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, খালেদার সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছি। মানুষের শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে খালেদা জিয়া ৩ মাস ঘরে ঢুকেছিলেন। খালেদা জিয়া আর ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যেতে পারবেন না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে মানুষ আজ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মানুষ আর জঙ্গি-সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। সন্ত্রাস মোকাবিলায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বলেন, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ সংকট নেই। কিন্তু খালেদা জিয়ার আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়েছিল। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ঐ সময়ে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে খাম্বা ব্যবসা খুলেছিলেন। সারাদেশে খাম্বা শুইয়ে রাখলেও বিদ্যুতের খবর ছিলনা। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন। এ নিয়ে মামলা মাথায় নিয়ে আদালতে হাজিরাও ঠিক মতো না দিয়ে পালিয়ে বেড়ান।

জন স্রোত মিশেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দিতে ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে এসেছিলেন দলের নেতাকর্মীরা। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তা যেন জনস্রোতে পরিণত হয়েছে। সব স্রোত মিশেছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সমাবেশে আগত কর্মীদের হাতে ছিল সরকারের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন সস্নোগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। দুপুরের পর থেকেই 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার জন্য বাংলাদেশ ধন্য'সহ মুহুর্মুহু সস্নোগানে পুরো উদ্যান ও এর চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কর্মীদের ব্যান্ডপার্টির বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে জনসভায় যোগ দিতে দেখা গেছে আগত নেতা কর্মীদের। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চার পাশের রাস্তায় দূর-দূরান্ত থেকে বাস, ট্রাক, মাইক্রো, পিকআপযোগে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। এদিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে বেলা আড়াইটায় ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু করেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভাস্থলে উপস্থিত হন বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে। দলের জেষ্ঠ নেতারাও সভামঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন। সমাবেশ উপলক্ষে দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা পতাকা ও ব?্যানার নিয়ে মিছিল করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে শুরু করেন। তাদের অনেকেরই গায়ে দেখা যায় সবুজ-লাল টি শার্ট, মাথায় সবুজ ক?্যাপ। 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' সস্নোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে উদ?্যানের চারপাশ। এদিকে সভামঞ্চ এবং সোহরাওয়ার্দীর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তার ব?্যবস্থা। জনসভা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ মোড় থেকে মৎস্য ভবন মোড়ের দু'পাশে এবং টিএসসির মোড় থেকে দোয়েল চত্বর মোড়ের দুপাশের রাস্তা বন্ধ থাকবে জানিয়ে চালকদের বিকল্প পথ ব?্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। জিপিও মোড়, প্রেসক্লাব, কাকরাইল মসজিদ মোড়, এলিফেন্ট রোডের বাটা সিগন্যাল মোড়, দোয়েলচত্বরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়ায় গুলিস্তান, মতিঝিল, ফার্মগেট, মগবাজারসহ আশপাশের সড়কগুলোতে দেখা যায় তীব্র যানজট। অনেককেই বাস থেকে নেমে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ১৭
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৯
আসর৩:৫৯
মাগরিব৫:৩৭
এশা৬:৫৪
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৮৬০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.