নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮
মোবাইল প্রযুক্তি এবং স্মার্ট জার্নালিজম
এস. কে. দোয়েল
একবিংশ শতাব্দির বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কার ইন্টারনেট প্রযুক্তির কল্যাণে বদলে গেছে আজকের যোগাযোগ মাধ্যম। নতুনত্ব সৃষ্টির ছোঁয়ায় রূপ নিয়েছে অত্যাধুনিকতা। ডিজিটাল মাইগ্রেশনের ফলে মানুষের চালচলন, কথাবার্তা, আচার_ব্যবহার থেকে শুরু করে সর্বত্রই এখন আধুনিকতার ছোঁয়া। সেক্ষেত্রে আজকের তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষে ব্যাপক পরিবর্তন গণমাধ্যমেও। এক সময় টেলিফোন, হ্যান্ডনোট, পোস্ট অফিসের ডাকবাঙ্ই ছিল অদূর মফস্বল অঞ্চল থেকে সংবাদ প্রেরণের একমাত্র মাধ্যম। আজ যেন এসব কালের সাক্ষী। অথচ আজ থেকে দশ বছর আগেও সাংবাদিকরা রেকর্ডার, টাইপিং মেশিন, টেলিফোন আর হ্যান্ডনোট পোস্ট অফিসের ডাকবাঙ্রে মাধ্যমে সংবাদ পাঠাতেন মিডিয়ায়। সে খবর পৌঁছতো দুই তিনদিন পর, কিংবা এরও বেশি সময় লেগে যেত। আর একটা সংবাদ সংগ্রহ, প্রেরণে কী পরিশ্রমই না হতো। শহর থেকে মফস্বল সাংবাদিকদের অবস্থা তো এখনো করুণ। ইন্টারনেট প্রযুক্তি চালু হওয়ার সাথে সাথে বদলে গেছে গণমাধ্যমের চেহারা। অনলাইন গণমাধ্যম চালু হওয়ার পর থেকে প্রিন্টিং পত্রিকার কদর কমলেও এর স্বাদ, গন্ধ, মাহাত্ম্য, গুরুত্ব শেষ হবার নয়। যদিও বলা হচ্ছে আগামী সব পত্রিকাই হবে অনলাইন ভার্সন। কিন্তু দিন দিন অনলাইন মিডিয়ার প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে প্রিন্টিং পত্রিকার হারও বাড়ছে। তাৎক্ষণিক সংবাদ প্রবাহ প্রতিযোগিতায় প্রিন্ট মাধ্যমগুলোও অনলাইন ভার্সন চালু করেছে। তারাও প্রতি মুহূর্তের সংবাদ আপডেট দিচ্ছেন। যার ফলে গণমাধ্যমের প্রসারতায় নতুন নতুন কর্মী তৈরি হচ্ছে। কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। মেধা বিকাশের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। সময়ের সাথে স্মার্ট জার্নালিজমের প্রসারতায় সাংবাদিকদেরও স্মার্টনেস বেড়েছে।

তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারের কারণে এখনকার সংবাদকর্মীরা অনেকটাই স্মার্ট। যদিও দেশের অনেক অঞ্চলে এখনো ইন্টারনেট প্রযুক্তির হাইস্পিড না পৌঁছায় সেসব অঞ্চলের মফস্বল অঞ্চলের সংবাদদাতা বা সংবাদকর্মীরা অনেক পিছিয়ে আছে। দুর্বল নেটওর্য়াকের কারণে গণমাধ্যমে একটি রিপোর্ট তারা সময়মতো পাঠাতে পারছেন না। অনেক কারণে অনেক সংবাদকর্মীদের অনলাইন সম্পর্কে ভালো ধারণাও নেই। এরকম বেশ কিছু সংবাদ কর্মীদের সাথে দীর্ঘদিনের উঠা-বসা। ইন্টারনেট গতি টু জি বা থ্রি থাকা সত্ত্বেও এদের প্রকৃত তথ্য-প্রযুক্তির সম্পর্কে ধারণা থাকলেও চর্চা নেই। তবে একথা সত্যি যে, যারা সবুজ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী, এই শ্রেণির সংবাদকর্মীরা সংবাদপত্রের প্রতি যথেষ্ট সময় দেন। চর্চা করেন। এ বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তাদের রিপোর্ট বা প্রতিবেদনে শিল্পের পরিচয় পাওয়া যায়। এদের কাছ থেকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পাওয়া যায়। এরা সর্বদা ঘটনার পর সংবাদের জন্য প্রস্তুত থাকেন। কখন, কোথায় কী ঘটনা ঘটছে তার খবরাখবর সব সময় রাখেন। আর যারা প্যাকেজ বা হলুদ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী, অর্থলোভী এই শ্রেণির ব্যক্তিরা সর্বদাই ক্লু নিয়ে পড়ে থাকেন। বাণিজ্যলোভী হওয়ায় গণমাধ্যমের সঠিক তথ্যগুলো এদের কাছ থেকে সময়মতো পাওয়া যায় না। তথ্য ফাঁকি দেন নয়তো তথ্য জানেনই না। হলুদ সাংবাদিকতার একটাই ধর্ম, সাংবাদিকতার নাম করে বাণিজ্য। কপি পেস্ট চর্চা, ক্লুর পথ ধরে চাঁদাবাজি, প্যাকেজবাজি ইত্যাদি অপরাধের সাথে নিভৃত থাকেন তারা। তবে সময় বদলানোর সাথে সাথে অসভ্যরাও দিন দিন সভ্য হয়ে উঠতে প্রয়াস পাচ্ছেন। হলুদ সাংবাদিকতার প্রবৃদ্ধি বাড়লেও এখান থেকে অনেকে বের হয়ে আসছেন প্রযুক্তির ওপর ধ্যান-ধারণা আসার কারণে।

অনলাইন গণমাধ্যমের যে দুরন্ত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তাতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সংবাদকর্মীদের ঘটনার পেছনে দুরন্তত্ম লড়াই। সংবাদ সংগ্রহের চরম প্রতিযোগিতা। তাৎক্ষণিক ঘটনা প্রকাশই হচ্ছে অনলাইন গণমাধ্যমের প্রাণ। 'যখনই ঘটনা, তখনই সংবাদ' এটাই হচ্ছে অনলাইন জার্নালিজমের মূলনীতি। বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় অনলাইন জার্নালিজম সম্পর্কে বলা হয়েছে-ঙহষরহব লড়ঁৎহধষরংস রং ফবভরহবফ ধং ঃযব ৎবঢ়ড়ৎঃরহম ড়ভ ভধপঃং ঢ়ৎড়ফঁপবফ ধহফ ফরংঃৎরনঁঃবফ ারধ ঃযব ওহঃবৎহবঃ. ১৯৭৪ সালে ব্রুস পারেলউ ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্লাটো প্রক্রিয়ায় একটি অনলাইন সংবাদপত্রের চালু করেন 'অনলাইন অনলি' ধারায় 'নিউজ রিপোর্ট'-ই প্রথম অনলাইন সংবাদপত্র বা সাময়িকীর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়েস স্টেট ইউনিভার্সিটি নিউজ রিপোর্ট নামে সর্বপ্রথম অনলাইনের গণমাধ্যমের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৭ সালের শুরু হওয়া সরকারি মালিকানাধীন ব্রাজিলীয় সংবাদপত্র জার্নালদোদিঅ্যা '৯০-এর দশকের দিকে অনলাইন সংস্করণের সূচনা করে। তবে ১৯৯০ সালের শেষার্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ১০০শ অধিক সংবাদপত্র অনলাইনে প্রকাশনা শুরু করে। যদিও সেসময় পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ সেভাবে শুরু হয়নি। এরপর কেটে যায় আর এক দশক। ২০০০ সালে যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত হয় সাউথপোর্ট রিপোর্টার নামের একটি নিউজ পোর্টাল। বেশ জনপ্রিয়তা পায় নিউজপোর্টালটি। সেই তুলনায় বাংলাদেশের অনলাইন গণমাধ্যমের যাত্রা শুরু হয় এরও অনেক পরে। তবে আজকের বাংলাদেশ গণমাধ্যমের দিক দিয়ে খুব বেশি কিন্তু পিছিয়ে নেই। ২০০৫ সালের প্রথম দিকে যাত্রা শুরু করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর পুরোপুরি কাজ শুরু করে বিডিনিউজ। এখন পর্যন্ত এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পঠিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল। এরপর যাত্রা শুরু করে বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। এরপর বাংলামেইল, ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল আসে। চলতি সালে অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করায় ১৭১৭টি অনলাইন নিউজপোর্টালের আবেদনের তথ্য তথ্যমন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়।

প্রযুক্তির উৎকর্ষে আজকের গণমাধ্যমের দিকে তাকালে মনটা ভরে যায়। কতো সহজ করে দিয়েছে আজকের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গণমাধ্যমকে। এখন আর চিঠির ডাকবাঙ্ খুলতে হয় না। ডাকঘরে দৌড়াতে হয় না। টেলিফোনের স্থলে মোবাইল ফোনে চলছে তথ্য আদান-প্রদানের কাজ। মোবাইল ইন্টারনেট প্রোটেবল যুক্ত হওয়ায় মোবাইল দিয়েই করা যাচ্ছে কম্পিউটারের কাজ। ভয়েস কল, এসএমএস, এমএমএস, ই-মেইল, সোস্যাল নেটওয়ার্ক (ফেসবুক, টুইটার, বেশতো, বস্নগ, হোয়াটস অ্যাপস, ইনস্ট্রাগ্রাম) এ অতি দ্রুত পাঠানো যাচ্ছে যাবতীয় তথ্য। ১৯৭৪ সালে মার্টিন কুপার বিখ্যাত মটোরোলা কোম্পানিতে থাকার সময় মোবাইল আবিষ্কার করেন। বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব টেলিফোন প্রযুক্তি। আশির দশকের শেষে চালু ছিল পেজার যন্ত্র, যা কোমরের বেল্টে বেঁধে ঘুরতেন অনেকেই। ঐ সময় ওয়াকিটকি ধরনের একটি মোবাইল ফোনও চালু হয়েছিল বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশে এশিয়ার প্রথম মোবাইল অপারেটর হাচিনসন বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। ১৯৯৬ সালে তিনটি প্রতিষ্ঠান 'গ্রামীণ ফোন', 'এ্যাকটেল' এবং 'সেবা', জিএসএম ঘরনার মোবাইল ফোন সেবা দেয়ার জন্য লাইসেন্স পায়। দ্রুত এই সেবা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে। ১৯৮৯ সালে যে কয়েকশ ব্যবহারকারী নিয়ে মোবাইল ফোন চালু হয়েছিল বাংলাদেশে আজ সেই মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ কোটিতে। এতো অল্প সময়ে মোবাইল প্রযুক্তির বিপ্লবের ফলে নতুন প্রজন্মের চিন্তাচেতনা অভূত পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষা-দীক্ষায়, আচার-ব্যবহারে, কাজে-কর্মে সর্বত্রই এখন তারহীন মোবাইল নেটওয়ার্কে নির্ভরশীল আজকের পৃথিবীর মানুষ।

মোবাইল প্রযুক্তির সাথে ইন্টারনেট প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় কাগজবিহীন গণমাধ্যম উদ্ভাবনে মানুষ প্রতিনিয়ত নির্ভরশীল অনলাইন নামক গণমাধ্যমে। ১৯৬৯ সালে ভিনটন জি কার্ফ ইন্টারনেট আবিষ্কার করেন। যা যুক্তরাষ্ট্রের লসএঞ্জেল্স-এর ইউসিএলএ ল্যাবরেটরিতে সর্বপ্রথম আরপানেট (অৎঢ়ধহবঃ-অফাধহপবফ জবংবধৎপয চৎড়লবপঃং অফসরহরংঃৎধঃরড়হ ঘবঃড়িৎশ) দিয়ে যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে ইন্টারনেট ব্যবহার চালু হয় এবং ১৯৯৬ সালে ইন্টারনেট ব্যবহার সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। নবব্বই দশকে চালু হওয়া ইন্টারনেট প্রযুক্তির সময়ের দ্রুত উৎকর্ষে বদলে গেছে আজকের গণমাধ্যমের চেহারা। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ ডটকম এর যাত্রা ধরে আজ বাংলাদেশে অনলাইন নিউজপোর্টাল দুই হাজারেরও বেশি। চলতি বছর অনলাইন নিবন্ধনের জন্য ১৭১৭টি আবেদনের তথ্য পাওয়া যায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে। এই অনলাইন নিউজপোর্টালকে আরো গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে মোবাইল প্রযুক্তি। মোবাইলে ইন্টারনেট ডিভাইস যুক্ত হওয়ায় সোস্যাল নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটিতে এখন সংবাদমাধ্যমের পাঠক কোটি কোটিতে পৌঁছে। একদিকে মোবাইলে ইন্টারনেট ডিভাইসের ফলে সোস্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের দ্রুত প্রসারে গোটা বিশ্ব এখন হাতের মুঠোফোনে। হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন। ক্রমাগত ইন্টারনেট প্রযুক্তি মোবাইল ডিভাইসে অন্তর্ভুক্ত করায় মোবাইল কোম্পানিগুলো তৈরি করছে সব স্মার্টফোন। এক স্মার্টফোনেই দেয়া হচ্ছে সব রকমের সুবিধা। মাল্টি কানেক্টিভিটি তৈরি হওয়ায় মোবাইলই এখন গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের বিকল্প মাধ্যম হচ্ছে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। কাগজবিহীন এক অন্তর্জালে মানুষ প্রতি মুহূর্তে পাচ্ছে আপডেট খবরাখবর। আর এটা সহজ করে দিয়েছে নিঃসন্দেহে মোবাইল প্রযুক্তি। গণমাধ্যমের নতুন মাধ্যম মোবাইল জার্নালিজম যাত্রা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন গণমাধ্যমের ওপর এ্যাডভান্স মোবাইল জার্নালিজম ক্যাটাগরি রেখেছেন। আজকে স্মার্টফোনেই মিলছে ল্যাপটপ. ডেঙ্টপ কম্পিউটার, রেকর্ডিং, ক্যামেরা, ই-মেইলের সুবিধা। দ্রুত ঘটনা আপডেট দিতে মোবাইলই দিচ্ছে সর্বসেবা। তাই গণমাধ্যমের নতুন মাধ্যম হিসেবে মোবাইল জার্নালিজম নতুন মাত্রার রূপ নিচ্ছে। আর এই নিবন্ধের লেখক মোবাইল প্রযুক্তিকে গণমাধ্যমের নতুন মাধ্যম হিসেবে মোবাইল নেটওর্য়াকভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন- মোবাইল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ গঠন করেছেন। ইতোমধ্যে সংগঠনটির কার্যক্রমের প্রচারণা সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে। সারাদেশে ৬৪টি জেলা/উপজেলা এর শাখা গড়ার সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে আজ সাধারণ মফস্বল সংবাদকর্মীরাও বেশ স্মার্টনেসের পরিচয় দিচ্ছেন তাতে সন্দেহ নাই। মোবাইলে, ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রতি মুহূর্তে পৌঁছে দিতে পারছেন খবরাখবর। আর গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। এদিক থেকে সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা ও সংবাদপত্র একটি ঝুঁকিবহুল শিল্প। যেখানেই সমাজবিরোধী, দুর্নীতিবাজ ও স্বার্থান্বেষী অশুভ চক্রের ষড়যন্ত্র, সেখানেই সাংবাদিকরা তৎপর হন। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা অনন্য সাধারণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। সাংবাদিক জাতির বিবেক এবং পাঠক সংবাদপত্রের প্রাণশক্তি। তাই স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে কথা বলার অধিকার প্রদান করতে হবে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের সাথে সাংবাদিকদের কাজের গতি বাড়াতে হবে। প্রতি মুহূর্তে সত্য খবর যাতে সংবাদপত্রে উঠে আসে সে ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তির ৫৭ ধারা অনেকটাই বিপজ্জনক। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করা হয়েছে। এটা বাতিল করা প্রয়োজন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিটি মানুষের মানবাধিকারের অংশবিশেষ হিসেবে সংবাদকর্মীকে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে ধরে নেয়া হয়। এক্ষেত্রে স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, মানবাধিকার উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে গণমাধ্যমকর্মী আর সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যধিক বেশি। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জেফারসন বলেছিলেন, তাকে যদি সংবাদপত্রহীন সরকার এবং সরকারবিহীন সংবাদপত্র বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে তিনি সরকারবিহীন সংবাদপত্রের জগতই বেছে নেবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, 'সংবাদপত্র যেখানে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং জনসাধারণ যেখানে পড়তে জানে সেখানে সবকিছুই নিরাপদ'। বিশ্বের রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, বাণিজ্য, সাহিত্য, শিল্পকলা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিনোদনসহ মানব সমাজের যাবতীয় আবশ্যকীয় বিষয়গুলোর সঞ্চার ঘটে সংবাদপত্রে। আর পৃথিবীর যেখানেই কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয় সেখানেই সংবাদপত্রের বলিষ্ঠ প্রতিবাদী কলম গর্জে ওঠে। তাই সংবাদপত্র সমাজের শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাসহ সকল শ্রেণির লোকেরই জ্ঞান বৃদ্ধি ও মনের কৌতূহল মিটিয়ে থাকে। সভ্যতার সার্বিক বিকাশের প্রয়োজনেই সংবাদপত্রের প্রয়োজন অবশ্যম্ভাবী। তাই আমি মনে করি বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিশ্বাসী। সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকার যেভাবে তথ্য-প্রযুক্তিকে প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। নতুন গণমাধ্যম হিসেবে অনলাইন গণমাধ্যমকে অত্যধিক গুরুত্ব দিয়ে চলেছেন তাতে সন্দেহ নেই। তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে নিজেদেরকে সদর্পে তুলে ধরবে এটা হয়তো আর বেশি দেরি নেই।

এস কে দোয়েল : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীফেব্রুয়ারী - ২০
ফজর৫:১২
যোহর১২:১৩
আসর৪:২০
মাগরিব৬:০০
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৬:২৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২১০৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.