নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮
আর্সেনিক দূষণে বাংলাদেশ
হেলেনা জাহাঙ্গীর
বাংলাদেশের ১২ ভাগ মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে। আর্সেনিক দূষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভয়াবহ বিপদসংকুল অবস্থায় রয়েছে। সমস্যার সমাধানে সরকার যদি তৎপর না হয় তবে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে আর্সেনিক সংক্রান্ত রোগে।

২০১২ সালে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে জেলাভিত্তিক তালিকা দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আর্সেনিকজনিত কারণে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ৭১৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর মতে, দেশে বর্তমানে ১২ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক দূষণজনিত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থার মোকাবিলায় ঝুঁকি নিরসনে এক হাজার ৯৬৬ কোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে আর্সেনিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে নেয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। তাই যতদ্রুত সম্ভব এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।

পানিবাহিত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি এলাকার পানিতেই কিছু না কিছু আর্সেনিক রয়েছে। আর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাবার পানিতে মানবদেহের জন্য সহনীয় মাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতি লিটার পানিতে ০.০৫ পিপিবি (পার্টস পার বিলিয়ন) বা ০.০৫ মিলিগ্রাম। অথচ বাংলাদেশে খাবার পানি হিসেবে যা ব্যবহৃত হয়, তার পাঁচ ভাগের একভাগ পানিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি আর্সেনিক রয়েছে। স্বভাবতই এটি ভয় এবং উদ্বেগের কারণ।

মানব সমাজের জন্য বেদনাদায়ক ও দুঃসংবাদ হচ্ছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে আজ পর্যন্ত এমন কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি, যা দিয়ে আর্সেনিক বিষাক্রান্ত থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় লাভ করা যেতে পারে। তবে বিষাক্রান্তের প্রাথমিক পর্যায়ে যদি রোগী দূষিত পানি পান বন্ধ করে নিরাপদ পানি পান শুরু করে, তাহলেই পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা আশা করা যায়। এ বিবেচনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের নিশ্চয়তার মাধ্যমেই আর্সেনিকের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব বলেই প্রতীয়মান হয়।

সরকারি উদ্যোগে ওয়াটার মিটিগেশন ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্সেনিক প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল সত্য, কিন্তু প্রকল্প বেশিদূর এগোয়নি। অথচ আর্সেনিকজনিত স্বাস্থ্য সমস্যাকে সমাধান করতে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাটা জরুরি।

নব্বই দশকে আর্সেনিক ইস্যু যে মাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছিল, সময়ের ব্যবধানে তা কমে এসেছে। এ নিয়ে এখন বড় কোনো প্রকল্প বা কর্মসূচিই নেই। এমনকি আর্সেনিকের কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কতো মানুষ মারা গেছে, সে হিসাবও হয়তো নেই। কিন্তু জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এ ক্ষেত্রকে কিছুতেই অবহেলা করা যাবে না। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সামর্থ্যগত সীমাবদ্ধতার কথা মনে রেখেই বলতে চাই, ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের পানি ব্যবহারে বিশেষজ্ঞ পরামর্শকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। পাশাপাশি আর্সেনিক নীতিমালা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর্সেনিকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা না গেলে এ ভয়াবহতা থেকে উত্তরণ সত্যিই কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগই পারে শতভাগ আর্সেনিকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে।

'বর্তমানে বাংলাদেশের ১২ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে বলে গত বছরের ২৫ জুন শনিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মন্ত্রী জানান, ২০০৩ সালে দেশের ২৭১ উপজেলার ৫০ লাখ নলকূপের আর্সেনিক পরীক্ষা করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। এর মধ্যে ১৪ লাখ ৫ হাজার নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত (৫০ পিপিবি'র উপরে) আর্সেনিক পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সেই সময়ে ২৯ শতাংশ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক ঝুঁকিতে ছিল। আর্সেনিক ঝুঁকিতে থাকা জনসাধারণকে রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার। পল্লী এলাকায় প্রতি ৮৮ জনের জন্য ১টি পানির উৎস নিশ্চিত হয়েছে। পানি সরবরাহ ক্ষমতা ৮২ শতাংশ থেকে ৮৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০০ এর বেশি গ্রামে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো জানান, গত ১৫ বছরে প্রায় ৩ লাখ পানির উৎস স্থাপন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। এর মধ্যে আর্সেনিক সমস্যার মধ্যে থাকা এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার পানির উৎস। এর পাশাপাশি ১ লাখ ৫৭ হাজার পানির উৎসের গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়েছে। সারাদেশে গ্রামীণ জনগণের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে 'ভিলেজ ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট' শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। ঐ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের ৬৩ হাজার নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ রুরাল ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড স্যানিটেশন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। ঐ প্রকল্পে সার্বিক আর্সেনিক কবলিত ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার প্রদান দিয়ে আর্সেনিক আক্রান্ত এলাকায় ৩৭টি রুরাল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম এবং ১৪ হাজারটি পয়েন্ট ওয়াটারের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে 'আর্সেনিক রিস্ক রিডাকশন প্রজেক্ট ফর ওয়াটার সাপ্লাই' শীর্ষক প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।'

স্মর্তব্য, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ২০০৩ সালে সারা দেশের ২৭১ উপজেলায় ৫০ লাখ নলকূপের আর্সেনিক পরীক্ষা করে, যার মধ্যে ২৯ ভাগ নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত অর্থাৎ ৫০ পিপিবি এর ওপরে আর্সেনিক পাওয়া যায়। বাংলাদেশে নিরাপদ পানির উৎস হলো গভীর ও অগভীর নলকূপ। কিন্তু এ পানিও সব সময় নিরাপদ থাকে না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাটির গুণাগুণ ভিন্ন থাকায় এবং অতিমাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হওয়ায় মাটির নিচেও অঙ্েিজন প্রবেশ করছে। পানিবাহী শিলাস্তরের আর্সেনিক তরল অবস্থায় ভূগর্ভস্থ পানিকে আর্সেনিকযুক্ত করছে। আর্সেনিক হুমকি থেকে রক্ষা পেতে ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধে উদ্যোগ নিতে হবে।

হেলেনা জাহাঙ্গীর : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২২
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১০
আসর৪:০২
মাগরিব৫:৪১
এশা৬:৫৭
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২০৪৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.