নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১১ জানুয়ারি ২০১৭, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮
জনতার মত
রোহিঙ্গা নিয়ে আর কতো খেলবেন
রবিউল আলম
অপরাধ প্রতিটি রাষ্ট্রেই হয়ে থাকে, অপরাধের বিভিন্ন ধরন আছে, অপরাধীর বিচার আছে, যে কারণে রাষ্ট্রের একটি সংবিধান আছে, পৃথিবীর শাসন ব্যবস্থার নির্দেশক জাতিসংঘ আছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা তা দেখারও কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওআইসি এবং আরব দেশসমূহ দাবি করে তারা মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, কুয়েত, আরব আমিরাত চুপ করে আছে কেন? মায়ানমারে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে রোহিঙ্গা নাম দিয়ে। কোথাও কিছু হচ্ছে না, শুধু জাতিসংঘ বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দিতে বলেছে। যে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আজ মায়ানমার সরকার ও জনসাধারণ হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছেন, তার পূর্ব ইতিহাসে যেতে হবে। রোহিঙ্গা কারা, কাদেরকে রোহিঙ্গা নাম দিয়ে মায়ানমার থেকে আলাদা করতে চাইছেন? ১৯৪২ সাল থেকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারত, পাকিস্তানের সৈন্যরা তৎকালীন বার্মা বর্তমান মায়ানমারে যান, কালক্রমে সেখানেই থেকে যান। ১৯৪৭ সাল থেকে কাজের সন্ধানে একের পর এক পরিবার-পরিজন নিয়ে রেঙ্গুন ও আসামে গিয়ে উঠেন। তৎকালীন সময় আসাম ও বার্মায় কৃষি কাজে লোক না থাকায় এই বাঙালিদের কদর ছিলো আকাশছোঁয়া। জমি নিতে কোনো টাকার প্রয়োজন হতো না। আমার দাদা ১৯৩৭ সালে আসাম যান, সেখানে নিয়ম ছিল যে যতো জমি ফসল ফলাতে পারবেন সেই জমির জমিদার পাট্টা দিয়ে দিবেন, আপনি শুধু খাজনা দিবেন আর জমি চাষাবাদ করবেন। দাদা তার ভাই, ভাইপোসহ সবাইকে আসাম আসতে উৎসাহিত করলেন। অনেক জমির মালিক ছিলেন তবুও সব ফেলে ১৯৬৩ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করতে হয়েছিল। সে অনেক কথা, আজ বার্মা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আমাদের জানামতে, একসময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ছিল বার্মা, আসাম, কলকাতা। পাকিস্তানে যেতে কোনো পাসপোর্ট ভিসা লাগতো না। তাই কাজের সন্ধানে যে কেউ যে কোনো স্থানে আসা যাওয়ার কোনো বাধা ছিল না। রেঙ্গুন, ঢাকা, গোহাট্টি, কলকাতার মাঝে কোনো বাধা বিপত্তি ছিল না। দেশগুলোর স্বাধীনতা না থাকলেও মানুষের স্বাধীনতা ছিল। সেই স্বাধীনতা থেকেই সাধারণ মানুষ বার্মায় বসবাস শুরু করলো। ১৯৪২ সালের জেনারেশন এখন আর বেঁচে নাই, এখন যারা মায়ানমার বাসিন্দা তারা জন্মসূত্রে মায়ানমারের নাগরিক। মুসলমান হওয়া কি অপরাধ? আমি যতোটুকু জানি বৌদ্ধ ধর্মের মানুষ অহিংস হয়। আমরা আমাদের দেশের বৌদ্ধ ধর্মের মানুষদের অনেক সম্মান দিয়ে থাকি। শান্তিতে নবেল বিজয়ী অন সাং সূচি বিজয়ী হলে মায়ানমারে ধর্মের কোন ভেদাভেদ থাকবে না, এই নেত্রীর গৃহবন্দীর প্রতিবাদে বাংলাদেশেও মিছিল হয়েছিল, আজ সেই নেত্রীর মুখ থেকে একটা কথাও বের হচ্ছে না। একদিকে মায়ানমার, অন্যদিকে তুরস্ক যে কা--কারখানায় মেতে উঠেছে এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তা কোনো সুস্থ নাগরিক ও দেশ সমর্থন করতে পারে না। জানিনা আরাকান রাজ্যে শান্তি আসবে কিনা, তবে এই অশান্তি পুরো মায়ানমারকে বহন করতে হবে। সামরিক জান্তা গণতন্ত্র হরণ করে যা করেছে, সেই মাসুল মায়ানমার জনগণকে দিতে হয়েছে, এখনো দিতে হচ্ছে। আশা ছিল গণতন্ত্রের মুক্তির স্বাদ মায়ানমার জনগণ ভোগ করতে পারবে, পৃথিবীর মুক্ত আলো-বাতাস, শ্বাস-প্রশ্বাস নিবে, দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বিরত থাকবে, অং সান সুচির বন্দিত্ব জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ পরিচালনা করবে। আমাদের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা গুড়েবালি দিয়ে আজ হত্যাযজ্ঞে মাতোয়ারা হয়ে পড়েছে মায়ানমার সামরিক বাহিনী ও সর্বসাধারণ। হত্যাকে হত্যা দিয়ে সমাধান করা যায় না এবং হবেও না। তবে যে বিশ্বসমাজ সভ্যতার দাবিদার তারা কোথায়? পাকিস্তান, ইরান, সৌদীআরবে কি এখন আর মুসলমান নাই? না কি চীনের সাথে বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আওয়াজ বন্ধ করে রেখেছে? বাংলাদেশের একজন সন্ত্রাসী পুলিশের গুলিতে মারা গেলে মানবাধিকারের দোহাই তুলে দুনিয়া একাকার করে তুলেন। গণতন্ত্রের কথা বলেন, মানুষের অধিকারের কথা বলেন, মানবাধিকারের কথা বলেন, আরো কতো কি। কিন্তু মায়ানমার জনগণের জন্য, মুসলমানদের জন্য কোনো কথা নাই, কারো জন্য আশ্রয় নাই, সাহায্য নাই। শুধু বাংলাদেশই পারে আশ্রয় দিতে এবং দিয়েছেও। আমরা ৭১-এ দেখেছি, ভারতে আশ্রয় নিয়েছি, আমরা মানুষের কষ্ট বুঝি, তাই মানুষকে আশ্রয় দিতে হবে, মানুষকে বাঁচাতে হবে। মায়ানমারে একদিন শান্তি ফিরে আসবে। এই মানুষগুলোই দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি আনবে, মায়ানমার তাদের ভুল বুঝবে, কিন্তু সেদিন আর এই মানুষগুলো ফিরে আসবে না। হারানো স্বজনকে কেউ ফিরে পাবে না। তাই বলে ধ্বংসকারীদের উৎসাহ দেয়া যাবে না। মানুষের জন্ম হয়েছে পরের উপকার করতে, আমরা তাই করবো। তবে অন্যের দেশের স্বাধীনতা নিয়ে কোনো কথা বলবো না। জাতিসংঘের পাশে থেকে মানুষের জন্য কিছু করতে হবে বাংলাদেশকে। তবে বুঝতে হবে নোবেল পুরস্কার কাদেরকে দেয়া হয়। আমাদের দেশেও শান্তির নামে দেয়া হয়েছে ড. ইউনুসকে। এখন নোবেল পুরস্কারের ঠেলায় আজ পৃথিবী দিশেহারা। তাই মায়নমার এর কাছে জানতে ইচ্ছে করে, রোহিঙ্গা নিয়ে আর কতো খেলবেন?

রবিউল আলম : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২১
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭১৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.