নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
বিপথে নারী স্বাধীনতা, সংগ্রাম হোক সম-মর্যাদার পক্ষে
মুক্তা আক্তার
বলা হয়ে থাকে, 'স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন'। এটা একটি কঠিন বাস্তবধর্মী প্রবাদ। বর্তমান সময়ের নারী স্বাধীনতার বিপথে গমনের দিকে লক্ষ্য করলে এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে বর্তমানের আধুনিক নামধারি সংখ্যাগরিষ্ঠ নারীকুল বহু ত্যাগের 'নারী স্বাধীনতা' এখন মর্যাদার সাথে টিকিয়ে রাখতে অপারগ। নারী পুরুষ সমান অধিকারের দাবি নিয়ে যুগে যুগে মানব সমাজে যে রেষারেষি চলে এসেছে এটার ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে এখনই ভাবার সময়। সম-অধিকারের সূচনালগ্নে যতটা যৌক্তিকতার সাথে পথ চলা শুরু হয়েছিল তাতে পুরুষ সমাজও নারী আন্দোলনে সমান তাল মিলিয়েছিল কিন্তু আধুনিকতা আর প্রযুক্তির হাত ধরে আজকের নারীকুল প্রতিযোগিতায় নিজেদের সম্মান, সম্ভ্রম আর আত্ম-মর্যাদা বলিদান দিতে চলেছে এতে না অর্জন হচ্ছে সম-অধিকার না থাকছে মর্যাদা। দিন শেষে প্রাপ্তির পথ ক্ষীণ।

বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে ধর্মীয় মূল্যবোধের রয়েছে এক নিবিড় সম্পর্ক । অথচ পশ্চিমা অপসংস্কৃতির ভয়াল থাবায় বর্তমান সময়ে সে মূল্যবোধ হয়ে উঠেছে রীতিমত বিভীষিকাময়। আধুনিকতার নাম নিয়ে এ যুগের মেয়েদের ঘরের তুলনায় বাইরের জগতের প্রতি যে মোহ তৈরি হয়েছে তা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক গ-ি ছাড়িয়ে একরকম জাতীয় সমস্যায় রূপান্তর হওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। 'সম-অধিকার' নামক আক্রমনাত্মক একটি শব্দকে কেন্দ্র করে এ যুগের মেয়েরা একরকম নারীত্বকে বিসর্জন দিতে চলেছে। সামাজিক সম্পর্কগুলোকে খুব হালকাভাবে নিয়ে মেয়েদের অতিমাত্রায় স্বাধীনতার চেতনা কোন দিক থেকেই সমাজে মূল্যবৃদ্ধি তো করছেই না বরং ঠেলে দিচ্ছে এক অনিশ্চিত জগতে। চাকচিক্যময় সে জগতে থেকে রোজ মিথ্যে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে দিন শেষে সম্মানের স্থান ধরে রাখা হয়ে উঠেছে কষ্টসাধ্য। খোলামেলা জীবনটাকে শালীনতার গ-িতে খুব কম নারী আজ বাঁধতে পারে। হাজারটা ত্যাগ স্বীকার তো রোজই হয় কিন্তু নানা পারিপাশ্বর্িক কারণে মূল্যায়ণের পরিমাণ শূন্যের কোঠায়। নারী স্বাধীনতা, নারী মুক্তি কিংবা সম-অধিকার নামক কিছু আক্রমণাত্মক শব্দকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ যুগের মেয়েদের জগৎ দিনদিন শুধু দুর্বল নয়, হয়ে উঠছে সংকীর্ণ।

অধিকার মানে ন্যায্য পাওনা উপভোগ করার সুযোগকে নিশ্চিত করা। অথচ নারী স্বাধীনতার যে পর্যায়ে আজ আমরা পৌছে গেছি তাতে অধিকার আদায়ের নিমিত্তে রীতিমত নিজেদের বিলিয়ে দিতে নেই বিন্দুমাত্র দ্বিধা কিংবা সংকোচ। সম-অধিকারের বিষয়টা আমার কাছে কিংবা অনেকের কাছেই আজ অস্পষ্ট। সম-অধিকার মানে যদি ছেলেরা যা যা করবে, যেভাবে চলবে, যতটা স্বাধীনতা বা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জীবনকে উপভোগের উদ্দেশ্যে মানিয়ে নেবে কিংবা সামাজিকতাকে একঘরে করে নিজের সুবিধা মত পথ তৈরি করে নেয়া বোঝায় তাহলে ইতিমধ্যে আজকের নারীকুল তা জয় করে ফেলেছে। ছেলেদের সাথে তালমিলিয়ে রাত করে বিভিন্ন কার্যক্রম করে বেড়ানো, ঘরে ফেরার অনাসক্তি কিংবা রাত করে ঘরে ফেরা, রাস্তায় উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা তো রীতিমত চোখে সয়ে যাবার মত ঘটনা। পোশাকি ভদ্রতা তো অনেক আগেই ঘুঁচেছে, এখন প্রকাশ্যে ধুমপান, মদ্যপানেও আমরা পিছিয়ে নেই। মিষ্টি করে মেয়েদের গালি দিতে শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠলেও এটাকে আমরা বাক-স্বাধীনতা হিসেবে চালিয়ে দিতে পারি। তবে হ্যাঁ, ছেলেদের মত খোলামেলা জায়গায় প্রাকৃতিক কাজগুলো সারতে আমি এখনো কোন মেয়েকে দেখি নি, তবে শীঘ্রই এই স্বাধীনতাও অর্জন হয়ে যাবে হয়তো। অযথা পাবলিক টয়লেটের পিছনে কমে যাবে রাষ্ট্রীয় খরচ।

সম-অধিকার বলে কথা!

কী ভয়াবহ অবস্থা আমরা নিজেরাই নিজেদের জন্য তৈরি করেছি তা বোঝার ক্ষমতাটুকুও আজ আমাদের নেই। আজকের পুরুষ সমাজ নারীকুলের শুধুই একপক্ষ অন্য পক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বী রোজ রাস্তায় চলন্ত যানবাহনে সম্মানের সাথে আমি কোন নারী যাত্রীকে আসন ছেড়ে দিতে দেখিনা, ধর্ষিতা মেয়েটির জন্য আমি অনেকদিন কাউকে আহারে! বলতে শুনিনি।

রাস্তায় মেয়েদের বেহায়াপনা চলাফেরা দেখে সংখ্যালঘু কিছু শালীনতাসম্মত পরিবারের সদস্যরা তাদের মেয়েদের নিয়ে সবসময় ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে। এরই প্রভাবে কত মেয়েদের লেখাপড়া কিংবা শখের বশে ঘর থেকে বেড় হওয়া পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়।

কি অদ্ভুত! নারী স্বাধীনতার যুদ্ধবিগ্রহ চলেছে যুগ যুগ ধরে যেখানে এক নারী অন্য এক নারীর জন্য বিপদজনক হয়ে উঠেছে। সামাজিক এ অবক্ষয়ের পেছনে নানাবিধ কারণও তো রয়েছে। তবে সর্বজনস্বীকৃত হলো পারিবারিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব। বাস্তবিকঅর্থে, এগুলোই প্রাথমিক ও সবচেয়ে বড় কারণ যা ধীরে ধীরে নারীকুলকে আজকের এই সংকটের সময়ে দাঁড়িয়ে অনৈতিক স্বাধীনতার ভয়াল থাবায় মর্যাদার শেষ বিন্দু হারাবার পর্যায়ে পৌছে দিয়েছে। তাছাড়া সমঝোতা ও সহনশীলতার অভাব অনেকটাই দায়ী।

কয়েক বছর আগেও মেয়েরা শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও একজন ভালো রাধুনি, আদর্শ স্ত্রী কিংবা মমতাময়ী মা হবার স্বপ্ন দেখত। আফসোসের সাথে লক্ষ্য করা যায় যে আধুনিকতার এই মায়াজালে আমরা মেয়েরা এত কঠিনভাবে আটকে গেছি যে ভালোবাসার সম্পর্কগুলো থেকে বাইরের জগতের চাকচিক্য আমাদের বেশি আকৃষ্ট করে। কষ্ট করে রান্না না করে শহরের নামিদামি রেস্তোরাঁয় বসে গল্প করতে করতে খাওয়ার মাঝে কৃত্রিম আনন্দ খুঁজে নিয়েছি। বাচ্চাদের সময় দেয়ার জায়গাটা খুব সহজে ছেড়ে দেই বাসায় পড়াতে আসা শিক্ষকের হাতে। সন্তান জন্ম দেয়ার মধ্যে যে তীব্র যন্ত্রনাময় আনন্দ রয়েছে তা আজ সিজারিয়ান ডেলিভারি নামক আধুনিকতার খাঁচায় বন্দি। এরকম হাজারটা আনুসাঙ্গিক কারণ রয়েছে নারী স্বাধীনতার অপপ্রয়োগের।

কারণগুলোর পিছনে আমরা নারীকুল, সমাজ ব্যবস্থা, পারিবারিক শিক্ষা, মূল্যবোধ এমনকি রাষ্ট্র ব্যবস্থা সবার কিছু না কিছু দায় থেকেই যায়। স্বাধীনতার জন্য আজকের নারীকুল যতটা ব্যস্ত, আমাদের পুরুষ সমাজ তার থেকে কয়েকগুণ তৎপর তাদের পরাধীন করে রাখতে। ফলে নিষিদ্ধ বিষয়ে মেয়েদের আগ্রহ বেড়ে যায়। আমরা ভালো থাকার জন্য কঠিন পথ ঠিকই বেছে নেই তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভালো থাকাটাই হয়ে ওঠে না। এই জটিলতা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবার, ছেলেমেয়েদের জীবন ব্যবস্থা এমনকি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক মানুষকে জড়িয়ে যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিদ্যমান।

পারিবারিক মর্যাদা, মূল্যবোধ ও নিজেদের ধর্মীয় অনুশাসনে গড়ে তোলার মাধ্যমে বিপথে চলা চাকচিক্যময় জীবনের মায়াজাল থেকে নারীকুলের বেড়িয়ে আসা প্রয়োজন।

যুগে যুগে নারী স্বাধীনতার আন্দোলন যে কষ্টকর পথ পাড়ি দিয়ে অর্জিত হয়েছিল তাকে আধুনিক আর সম-অধিকার নামক আক্রমণাত্মক শব্দের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আজকের মেয়েদের অতিমাত্রায় স্বাধীনতার পথে কিছু সীমানা নির্ধারণ আবশ্যক যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সাহায্য করবে বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের নারীমুক্তি কিংবা অধিকার আদায়ের সংগ্রাম হোক সম-মর্যাদার, সম-অধিকারের নয়। আমাদের নারীমুক্তি কিংবা অধিকার আদায়ের সংগ্রাম হোক সম-মর্যাদা সমেত সম-অধিকার। সুশীলা ও প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির জন্য নারী অধিকার নামক বিপথগামীতা থেকে সতর্ক হতে হবে।

হয়তো আবার সুদিন আসবে যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের জন্য আন্দোলনের প্রয়োজনও হবে না, সেদিন সমাজ গঠনে সম্মানের সাথে মানুষ হিসেবে পুরুষের সাথে আমরা নারীরাও সমান অংশ নেব।

মুক্তা আক্তার : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমে - ২৩
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০২
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৩০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.