নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
স্বতন্ত্র স্কাউট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি
কে.এম.তারেক আজিজ সুমন
স্কাউটিং হলো একটি আন্দোলন যার কাজ আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষা দান। এর মাধ্যমে একজন ছেলে বা মেয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। ১৯০৭ সালে রবার্ট স্টিফেন্সন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অফ গিলওয়েল সংক্ষেপে বি.পি এই আন্দোলনের শুরু করেন। তিনি তার কর্মজীবনে উপলব্ধি করেছেন যুব বয়সী ছেলে ও মেয়েরা কিভাবে পথভ্রষ্ট হয় সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে। এসব পথভ্রষ্টসহ সকল যুব-যুবতীদের আদর্শ ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি স্কাউট দল গঠন করেন। স্কাউটিং হল সহশিক্ষা কার্যক্রম। সেবার মহান আদর্শে উজ্জীবিত বাংলাদেশ স্কাউটস। কিশোর-কিশোরী ও যুব বয়সী ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশে কাজ করে স্কাউটের সদস্যরা। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্কাউটস এর যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার মহান স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর হাত ধরে মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্কাউটস পুনর্গঠিত হয়। স্কাউটিং আইন ও প্রতিজ্ঞা ভাল মানুষ হওয়ার জন্য একান্ত অপরিহার্য। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ২১ লাখ স্কাউট সদস্য গঠন করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। উন্নত - সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভালো ও সৎ মানুষের প্রয়োজন খুব বেশি। স্কাউট সেই জায়গায় কাজ করছে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা উন্নয়নে কাজ করে আসছে।

সময়ের প্রয়োজনে দিন দিন স্কাউটদের চাহিদা ও গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পেয়েছে। স্কাউট সদস্যরা কখনও জঙ্গিবাদ, মাদক ও অনৈতিক ক্ষতিকর কাজে জড়িত হয় না। এমন কোন নজির এখন পর্যন্ত বিশ্বে তথা বাংলাদেশে নেই যে, পূর্বে স্কাউট ছিল সে জঙ্গিবাদ ও রাষ্ট্রবিরোধী কোন কাজ করেছে বা তার দ্বারা অন্যের কোন প্রকার ক্ষতি হয়েছে। সামপ্রতিক সময়ে সড়ক শৃঙ্খলায় স্কাউট সদস্যরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা বাংলাদেশ নজিরবিহীন। বিশ্বের প্রায় ১৬৯টি স্বাধীন দেশে এই স্কাউটিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। ভালো মানুষ তৈরির বিশ্বব্যাপী চলমান এ কার্যক্রম নিভৃতে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। বাংলাদেশের স্কাউটিং কার্যক্রমে সারা বিশ্বের মধ্যে বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেছেন যা বাংলাদেশের জন্য সম্মান ও গৌরবের। সম্প্রতি এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল স্কাউট কমিটিতে ১ জন সদস্য এবং তিনটি উপ-কমিটিতে ৩ জন সদস্য হিসেবে মনোনীত হন। স্কাউটিং কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধশালী, যুগপোযোগী ও গবেষণালব্ধ করার জন্য একটি আলাদা স্কাউট বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। যেখানে সারা বিশ্বের স্কাউটরা স্কাউটিং এর ওপর স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষণা কাজে নিয়োজিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল শিক্ষার্থীর পোশাক হবে স্কাউট পোশাক। বিশ্ব স্কাউট সংস্থাভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সুযোগ পাবে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কাউটিং বিভাগের পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি-সংস্কৃতি, বিশ্ব পরিবেশ, অর্থনীতি, সমাজ ও বিজ্ঞানের মত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। স্কাউটিং এ বাংলাদেশের যে অবস্থান তা শতগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে স্কাউট বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত লাভ করতে পারবে। যা অন্য কোন মাধ্যমে সম্ভব বলে মনে করি না। জাতীয় রাজস্ব, বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এ বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারবে। বৈশ্বিক ভাব-মূর্তি বাড়াতে বাংলাদেশ এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। বিশ্ব স্কাউট সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে এ বিশ্ববিদ্যালয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এর চ্যান্সেলর। মাহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ স্কাউটস এর চিফ স্কাউট ব্যাক্তিত্ব। সে হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে সতন্ত্রভাবে স্কাউট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হতে পারে ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম অগ্রগামী উদ্যোগ। উল্লেখ্য বাংলাদেশ স্কাউটস এর পরিচালনায় গাজীপুরে স্কাউট স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। এ স্কুলের সকল শিক্ষার্থীদের পোশাক স্কাউট ইউনিফর্ম। এক ঝাঁক স্কাউট শিক্ষার্থী মানে এক ঝাঁক ভাল ভবিষ্যতের ঝাঁক। স্কাউটিং-এর সমপ্রসারণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বদ্ধ পরিকর। স্কাউট শতাব্দী ভবন নির্মাণ, জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আধুনিকায়ন, স্কাউটিং এ তথ্য-প্রযুক্তির সমপ্রসারণ সরকারের স্কাউটিং এ অনন্য উন্নয়নের উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২টি করে স্কাউট দল গঠন করা হয় সারা বাংলাদেশে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্কাউটিং এর উন্নয়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। উন্নত বাংলাদেশে সৎ ও ভালো মানুষের প্রয়োজন হবে অনেক বেশি। স্কাউটিং নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী এমন স্কাউটদের ঠিকানা হতে পারে বাংলাদেশ স্কাউট বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে, জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এখনই প্রয়োজন স্কাউট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

কে.এম.তারেক আজিজ সুমন : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২১
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০০৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.