নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
জনতার মত
মাজারের আশপাশে গাঁজার আসর কেন?
আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার
ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামের ইতিহাসে আউলিয়া কেরামের অবদান অনস্বীকার্য। আউলিয়া কেরামদের হাত ধরে এই উপমহাদেশে ইসলাম এসেছে। যাদের হাত ধরে এই উপমহাদেশে ইসলাম এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন। হযরত খাজা মইন উদ্দিন চিশতী (রহ), হযরত শাহজালাল (রহ), হযরত শাহপরাণ (রহ.)। আমাদের বাংলাদেশে অসংখ্য আউলিয়া কেরাম এসেছেন। এর মধ্যে প্রসিদ্ধ হচ্ছেন হযরত শাহজালাল (রহ)সহ ৩৬০ আউলিয়া। চট্টগ্রামে আমানত শাহ (রহ), মহসিন আউলিয়াসহ বার আউলিয়া। বাগেরহাটে খান জাহান আলী। সেসব ওলী আউলিয়ারা ইসলামের দাওয়াত প্রচার করে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় শুয়ে আছেন। তাদের কবরকে কেন্দ্র করে মাজার গড়ে উঠেছে। সেসব মাজারে অসংখ্য ভক্ত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে জিয়ারত করতে আসেন। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ মাজার গুলির আশপাশে গাঁজার আসর বসায়। উরুসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন নাচ গানের আসর বসায়। নারী পুরুষ মিলে নাচানাচি করে। এসব মানুষগুলো লম্বা লম্বা বিচিত্র রকমের চুল রাখে। অনেক বিচিত্র রকমের মানুষ দেখা যায় মাজারগুলোতে গেলে। এদের কি প্রতিহত করার কেউ নেই? মাজারকে কেন্দ্র অনেক কওমী মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে। মাজারকে কেন্দ্র করে এই মাদ্রাসাগুলো চলে। তারা কি এসব দেখে না। নাকি দেখে না দেখার ভান করে। মাজারকে কেন্দ্র করে যে মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে আপনারা এগুলো বন্ধ করুন। ইসলাম শান্তির কথা বলে ইসলাম হক কথা বলে। আপনারা ইসলামের কথা বলেন, ইসলামের কোনো জায়গায় আছে গাঁজা টানার কথা। গান বাজনার কথা। মাজার কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বলি আপনারা এসব গাঁজাখোরদের প্রতিহত করেন না কেন? নাকি এদের আপনারা ভয় পান মাদ্রাসাগুলোর মতো। আপনাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। আপনাদের এই উদাসীনতার জন্য এদের দ্বারা মাজার শরীফের পবিত্রতা নষ্ঠ হচ্ছে। মানুষ এখন মাজারে আসতে চায় না। সাধারণ মানুষ কেন মাজার জিয়ারতের মতো পবিত্র সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। যেখানে মাজার কিংবা কবর জিয়ারত সম্পর্কে স্পষ্ট বলা আছে হাদীস শরীফে হযরত বুরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ ফরমান, ইতিপূবে আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন থেকে জিয়ারত করো (মুসলিম শরীফ, মেশকাত ১৫৪ পৃষ্ঠা)। মাজার জিয়ারত সাধারণত সাধারণ মানুষ আসে আউলিয়া কেরামের উসিলা নিয়ে আল্লাহ দরবারে দোয়া করার জন্য। ওসিলা নিয়ে দোয়া করার প্রমাণ ওসমান ইবনে হানীফ (রা.) বলেন, এক অন্ধ সাহাবী নবী করিম (দ.)-এর খেদমতে এসে আরজ করলো- ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমার অন্ধত্ব দূর করে দেন। হুজুর আকরাম (দ.) তাঁকে বললেন- যদি তুমি চাও, তাহলে আমি দোয়া করবো। আর যদি ইচ্ছা করো, তাহলে সবর করতে পারো। এটা তোমার জন্য মঙ্গলজনক হবে। উক্ত সাহাবী বললেন- বরং আপনি আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করুন। তার অনুরোধে নবী করিম (দ.) তাঁকে উত্তমরূপে ওজু করে এই দোয়া পড়তে শিখিয়ে দিলেন- 'হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি এবং তোমার নবী যিনি রহমতের নবী সে নবী মুহাম্মদ (স.)কে উছিলা করে তোমার দিকে আমি মুতাওয়াজ্জাহ (মনোযোগী) হলাম। হে প্রিয় মুহাম্মদ (দ.), আমি আমার এই মাকসুদ পূরণের জন্য আপনার মাধ্যমে (উছিলায়) আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জহ হলাম। হে আল্লাহ! তুমি আমার মাকসুদ পূরণের ব্যাপারে হুজুর (দ.)-এর সুপারিশ কবুল করো।' এই দোয়া করে ঐ সাহাবী চলে গেলেন। তারপর পুনরায় ফিরে আসলেন। ইত্যবসরে আল্লাহ্? তার চক্ষু ভালো করে দিয়েছেন। বায়হাকীর বর্ণনায় আছে উক্ত সাহাবী উঠে দাঁড়াতেই তার চক্ষু ভালো হয়ে গেলো।' তিরমিজি, নাছায়ী, বায়হাকী, তাবরানী উপরে দুটি হাদিস প্রমাণ হলো মাজার জিয়ারত এবং ওসিলা নিয়ে দোয়া করা জায়েজ। কিন্তু গাঁজাখোরদের জন্য কিছু ভ-দের জন্য অনেক মানুষ মাজার জিয়ারতে আসতে চায় না। এদের প্রতিহত করতে হবে। মাজার কমিটি, মাজারে অবস্থিত মাদ্রাসাগুলো, সাধারণ মানুষ, প্রশাসন মিলে এদেরকে প্রতিহত করতে হবে। যাতে মানুষ মাজার জিয়ারতে আসে এই পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০২১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.