নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
মতলব সেতুতে যান চলাচল শুরু
আড়াই বছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আড়াই কোটি টাকা
মতলব (চাঁদপুর) থেকে রাকিবুল ইসলাম সোহাগ
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর ও দক্ষিণে নির্মাণাধীন মতলববাসীর স্বপ্ন পূরণে মতলব সেতুর কাজ শতভাগ সম্পন্ন করেছেন বলে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে। ২০১৯ সালের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকেই এর ওপর দিয়ে চলাচল শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুর আসার পর এর উদ্বোধন করা হয়েছে। সওজ বিভাগ মতলব শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. জসীম উদ্দীন রোববার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চাঁদপুর সওজ বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে মতে, এতে আড়াই বছরে সবকারি খাতে টোল জমা হবে ২ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা যা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ রাত ১২টা থেকে ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বছরে ৮৮ লাখ ৩২ হাজার টাকা দেশের রাজাস্ব খাতে জমা হবে। মতলবের ঢাকাস্থ 'টেকবে ইন্টারন্যাশনাল' নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে মতে আরো জানা গেছে, প্রতি টেইলর ১২৫ টাকা,হেবি ট্রাক ১২৫ টাকা, ট্রাক ৫০ টাকা, বাস ৪৫ টাকা, মিনি ট্রাক ৪০ টাকা, কৃষি কাজে ব্যবহৃত যান ৩০ টাকা, মিনি বাস ২৫ টাকা, সাধারণ যানবাহন ১৫ টাকা, ৪ চাকার যান ২০ টাকা, সিডনি কার ও সিএনজি ১০ টাকা, মটরসাইকেল ৫ টাকা ও মাল ভর্তি ভ্যান ৫ টাকা করে টোর আদায় প্রযোজ্য বলে জানা গেছে।

মতলব উত্তর ও দক্ষিণ তথা চাঁদপুরের সাথে ঢাকার দূরত্ব কমানো, সময় বাঁচাতে এবং মতলববাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মতলব বাজার সংলগ্ন পূর্বদিকে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর মতলব সেতু নির্মাণের একটি বড় রকমের প্রকল্প হাতে নেয় চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ। যার কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের জানুয়ারি এবং শেষ হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল ২০১৭ সালের ৩০ জুন।

এর নির্মাণ ও এপ্রোজ কাজ ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে চলাচলের উপযোগী করা হয় বলে নির্ভরযোগ্যটি সূত্র জানায়। বর্তমানে সেতুর উত্তর প্রান্ত বাইশপুরে এবং দক্ষিণ প্রান্ত বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কের ভাঙ্গার পাড় এপ্রোজ সড়কের কাজ চলমান থাকায় বিলম্ব হয়েছ।

এদিকে এ সেতু চালু হলে চাঁদপুর, হাইমচর, শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ, রামগঞ্জ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, হাজীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষজনকে কুমিল্লা হয়ে দীর্ঘ পথ না ঘুরে এ পথে সহজেই স্বল্প সময়ের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হবে।

সেতুর দু'পাশের সংযোগ সড়ক ও এপার্টমেন্ট নির্মাণে এ বিভাগকে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে এবং এ খাতে প্রকল্পের ২৮ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রদান করতে হয়েছে। যথাসময়েই কাজ শেষ করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রকল্পটি নিয়মিত মনিটরিং করছে।

চাঁদপুর সওজ বিভাগের একজন উপ-প্রকৌশলী বলেন, মতলব সেতুর কাজ কিছুদিন হলো শেষ হয়েছে। সতুটি মতলববাসীর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নপূরণ করেছে। এতে ঢাকা যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমে যাবে, মতলব উত্তর ও দক্ষিণের সাথে সেতুবন্ধন, মৎস্য, খাদ্যশস্য, অন্যান্য কৃষিপণ্য ও উৎপন্ন মালামাল পরিবহণে সহজতর ও সাশ্রয় হবে। জেলা সদর চাঁদপুরসহ নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর প্রভৃতি জেলার সাথে চমৎকার যোগাযোগ মাধ্যম সৃষ্টি হবে। প্রবাসীদের যাতায়াতের সুবিধা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন নতুন মাত্রা যোগ হবে।

প্রসঙ্গত, চাঁদপুর জেলায় অবস্থিত ধনাগোদা মেঘনার একটি শাখা নদী। এটি মতলব শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহমান। ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উত্তর মতলব উপজেলা গঠিত। ঐ নদীটির কারণে জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অনুন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে খাদ্যশস্য এবং শিল্পজাত পণ্য স্বল্পসময়ে দেশের অন্যত্র পৌঁছানো সম্ভব হতো না।

সেতুটি নির্মাণ হলে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার ৭ লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি হবে এ সেতু। লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও মাদারীপুরসহ দেশের পশ্চিমাংশের জেলাসূমহের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজতর হবে।

বর্তমানে হরিণা-ভাটিয়ালপুর সড়কের সাথে একটি ফেরি চালু রয়েছে কিন্তু যাত্রী সাধারণ ও মালামাল পরিবহণের জন্যে তা খুবই অপ্রতুল এবং অধিক সময় ব্যয় হয়।

চাঁদপুর সড়ক বিভাগ বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কে ৩শ ৪. ৫১ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করে। প্রকল্পটির প্রস্তাব পাওয়ার পর ২০১২ সালের ৫ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

৯ জুন ২০১৩ সালে পুনরায় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে ৩শ ৪ দশমিক ৫১ মিটার আরসিসি দৈর্ঘের সেতু, এপ্রোচ সড়কের ওপর ৩০.৫০ মিটার একটি সেতু, ১২ মিটার দুটি আরসিসি কালভার্ট, ১০ মিটার দুটি আরসিসি আন্ডারপাশ, ১.৮৬ কি.মি. সার্ফেসিং এবং নতুন পেভমেন্ট তৈরি, ৯ দশমিক ৩৪ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ৩.২৩ লাখ ঘনমিটার সড়ক বাঁধ, জিও টেঙ্টাইল, টো-ওয়াল, সার্ফেস ড্রেন, দুটি ইন্টারসেকশন আইল্যান্ড এবং সাইন, সিগন্যাল ইউটিলিটি সিফটিংসহ আনুষঙ্গিক কাজ করার কথা রয়েছে। ১০.২৫ মিটার প্রস্থের সেতুতে ৭টি স্প্যান থাকবে। সেতুর দু'পাশে এপ্রোজ সড়কটি থাকবে ১.৮৬ কি.মি।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ২১
ফজর৪:১৭
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৬৮০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.