নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
রায়গঞ্জে আবাদি জমিতে লাইসেন্সবিহীন অর্ধশত ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে কৃষি জমিতে নতুন-পুরাতন মিলে মোট অর্ধশত ইটভাটায় পুড়ছে জ্বালানী কাঠ। আর ২০টি ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন থাকলেও বাকি ইটভাটাগুলোর নেই কোনো বৈধ লাইসেন্স। এদিকে অবৈধ ইটভাটায় বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করার ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের আবাদি জমি জুড়ে প্রায় নতুন-পুরাতন মিলে ৬০টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এদিকে প্রতিবছরই আবাদি জমিতে নতুন নতুন ইটভাটা গড়ে ওঠায় ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে আবাদি জমি। গত ৫ বছরে এই উপজেলার ইটভাটার সংখ্যা ছিল প্রায় ২০টি। এ বছরে ইটভাটার সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৬০টিতে। অপরদিকে নতুন ৪০টি ইটভাটায় নেই কোন প্রকার লাইসেন্স। আর এই ইটভাটাগুলোতে নেই কোন পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, বিএসটিআই লাইসেন্স, শ্রম অধিদপ্তরের লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স। আর এই অবৈধ ইটভাটাগুলো চলছে মালিক পক্ষের ইচ্ছায়। ইটভাটা নীতিমালার নিয়ম উপেক্ষা করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই অবৈধ ইটভাটার প্রভাবশালী মালিকরা তাদের ইচ্ছামত উপজেলার যেখানে সেখানে প্রায় ৩০-৪০ বিঘা আবাদি জমি জুড়ে গড়ে তুলছে ইটভাটা। এমনকি ইট পোড়ানো কাজে জ্বালানো হচ্ছে শত শত মণ জ্বালানি কাঠ। তাদের ভাটা পরিচিত করতে ইট পোড়ানোর ছবি তুলে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচার করে যাচ্ছে। ইট তৈরি এবং শুকানোর কাজে স্থানীয় এবং বাহিরের শ্রমিকদের অতিরিক্ত মূল্য এবং দাদন দিয়ে শ্রমিক আটকে রাখায় ধানকাটা মৌসুম সহ অন্যান্য মৌসুমে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। স্থানীয় কৃষকরা জানান, যেভাবে ইটভাটা ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে এতে করে রায়গঞ্জে ধান চাষের পরিবর্তে ইটভাটা ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠছে। এতে করে লাভবান হচ্ছে ধনাঢ্য ব্যক্তিরা আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ কৃষক। অপরদিকে ইট পোড়ানো কাজের শুরু ও শেষে ইটভাটার কালো বিষাক্ত ধোঁয়া আর বিষাক্ত বায়ু গ্যাস ছাড়ায় ইটভাটার আশপাশের আবাদি জমিগুলোতে ফসল ফলনে প্রতি মৌসুমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর এই অবৈধ ইটভাটাগুলো গড়ে ওঠার স্থান চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা, ষোলমাইল, পশ্চিম লক্ষ্মিকোলা, পাইকড়া, ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের হাসিল, কয়ড়া, ব্রহ্মগাছা, পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর, ধানগড়া ইউনিয়নের মকিমপুর, পলাশতলা, ঝাপড়া, গুনগাঁতী, বিলচন্ডী, নলছিয়া, ধুবিল ইউনিয়নের আমশড়া, ঘুড়কা ইউনিয়নর জঞ্জালিপাড়া, দেওভোগ, কালিকাপুর, মোরদিয়া, ভুইয়াগাঁতী, লাঙ্গমোড়া, শ্যামনাই, সোনখাড়া ইউনিয়নে নিমগাছী, পুল্লা, মেঘুরিয়া, উটড়া হাজিপুর, আকড়া, ধামাইনগর ইউনিয়নের ক্ষিরিতলা, নলকা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ। এ বিষয়ে উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ জানান, রায়গঞ্জ উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ৭-৮টি দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৫-২০টি ইটভাটা ছিল, বর্তমানে তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০টি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হক ম-ল বলেন, এই উপজেলায় ইটভাটার সংখ্যা অনেক বেশি। তবে আমি যোগদানের পর আমার অফিস থেকে কোন ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। পরিবেশ অধিদফতর বগুড়া অফিস থেকে জানা গেছে রায়গঞ্জে বেশির ভাগ ইটভাটাগুলোর কোন ছাড়পত্র দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নূসরাত আজমেরী হক জানান, অবৈধ ইটভাটার তালিকা অনুযায়ী আমাদের ভ্রাম্যমান অভিযান কর্মসূচি চালু আছে।

উল্লেখ্য, গত বছরে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে প্রাক্তণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল আখতার ও সাবেক সহকারি কমিশনার (ভূমি) সোহেল মারুফের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রায়গঞ্জে একটি ইটভাটার কাগজপত্র না থাকায় ধ্বংস করা হয়। সাবেক ইউএনও ইকবাল আখতারের পদন্নোতি জনিত বদলি হওয়ার কারণে ইটভাটার উপর ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে ইউএনও হিসেবে মৌসুমী মাহবুব যোগদানের কিছুদিন পর তিনিও বদলি হয়ে যান। এরপর সম্প্রতি নবাগত ইউএনও মো. শামীমুর রহমান যোগদানের ১ সপ্তাহের মধ্যে এসিল্যান্ড নূসরাত আজমেরী হক ষোলমাইল এলাকায় একটি অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমার্চ - ২১
ফজর৪:৪৬
যোহর১২:০৬
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৬
সূর্যোদয় - ৬:০২সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৯৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.