নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহে কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না
এফএনএস
কৃষিঋণ বিতরণে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আশানুরূপ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে কৃষিঋণ বিতরণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে অধিকাংশই ব্যাংকই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কৃষিঋণ বিতরণে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কৃষকের কাছে যাওয়ার চেয়ে কর্পোরেট ব্যাংকিংয়েই বেশি আগ্রহী। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জুলাই-নভেম্বর ৫ মাসে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ৭ হাজার ৪৭৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৭৫৫ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ কম। গতবছরের একই সময়ে তা ছিল ৮ হাজার ২৩০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। যা গতবছরের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি। ২০১৭ সালের একই সময়ে কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ ছিলো ৫ হাজার ৬১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি ঋণে বেসরকারি ব্যাংকের তুলনামূলক নজর কম। সরকারি ব্যাংকগুলোর যেখানে প্রায় ৮ শতাংশ ঋণ কৃষিতে বিতরণ করেছে, সেখানে বেসরকারি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ ২ শতাংশের কম। আবার কৃষি খাতের ঋণে বৈচিত্র্যও নেই। কৃষি ঋণের ৫৯ শতাংশই শস্য উৎপাদনে যায়। আর প্রাণিসম্পদ এবং পোল্ট্রিতে ১০ শতাংশ, মৎস্য খাতে ৯ শতাংশ, দারিদ্র্য বিমোচনে মাত্র ৬ শতাংশ ঋণ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দেয়া হয়েছে মাত্র এক শতাংশ ঋণ এবং শস্য গুদামজাতকরণে ওই হার শূন্যের কোটায়।

সূত্র জানায়, অন্যান্য ছোট ঋণে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি হওয়ার কথা বলে ব্যাংকগুলো সাধারণত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ সুদ নিয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাধ্যবাধকতার কারণে কৃষি ঋণে ৯ শতাংশের বেশি সুদ নেয়ার সুযোগ নেই। যদিও যেসব ব্যাংক এনজিওর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ কওে, সে ক্ষেত্রে কৃষি ঋণের সুদহার অনেক বেশি হয়ে যায়। ওসব কারণে সবসময়ই কৃষি খাতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো অনীহা দেখিয়ে থাকে। অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় সরকারের তাগিদ থাকলেও কৃষকরা ঋণ চেয়ে ঋণ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঋণের সুদহারও অনেক বেশি নেয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। কিন্তু ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ৬টি ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণ শুরুই করেনি। ৭ বাণিজ্যিক ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণ শুরু করলেও বিতরণের হার এক বা দুই শতাংশ। যেসব ব্যাংক এখনো কৃষিঋণ বিতরণ শুরুই করেনি, ওই ব্যাংকগুলো হলো- বিদেশি মালিকানার সিটি ব্যাংক-এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং উরি ব্যাংক। তাছাড়া বেসরকারি খাতের মধুমতি ব্যাংক ও সীমান্ত ব্যাংক।

সূত্র আরো জানায়, কৃষিঋণ বিতরণ বিতরণ কমলেও আদায় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে ওই খাত থেকে আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৪৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে গত নভেম্বর শেষে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৯ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের ২ শতাংশ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করার কথা। পল্লী অঞ্চলের দারিদ্র্য দূরীকরণে বিভিন্ন প্রকার কর্মসূচিতে ঋণ বিতরণও কৃষিঋণের আওতাভুক্ত। তথ্যনুযায়ী অন্যান্য ঋণের পাশাপাশি অনুপাতিক হারে কৃষি ঋণ বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। যেসব ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে শাখা নেই সেসব বাণিজ্যিক ব্যাংককেও এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে কৃষিঋণ বিতরণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে সুদ হার নির্ধারিত আছে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) নির্ধারিত ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণে নির্ধারণে যে সুদ হার ওই হার। সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের এই কার্যক্রম শুরু করে। তারপর থেকে প্রতিবছর ক্রমবর্ধমান হারে কৃষিঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওই হিসাবে গতবছর বিতরণ করা ঋণের সাথে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা যোগ করে ২১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ২২
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭০১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.