নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি
ফিলিপাইনে ব্যাংক কর্মকর্তার ৫৬ বছর জেল ও জরিমানা
বাংলাদেশে তদন্ত প্রতিবেদন আদৌ প্রকাশ করা হয়নি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সাইবার চুরির ঘটনায় প্রথম কাউকে সাজা দেয়া হলো
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
তিন বছর আগে সাইবার জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লোপাটের ঘটনায় ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) তৎকালীন ম্যানেজার মায়া সান্তোস দেগুইতোকে ৩২ থেকে ৫৬ বছর কারাদ- দিয়েছে ফিলিপাইনের একটি আদালত। একই সাথে তাকে ১০ কোটি ৯ লাখ ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ সাজা দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে ৮টি অর্থপাচারের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় প্রত্যেকটিতে ৪ থেকে ৭ বছর করে কারাদ- ঘোষণা করা হয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি, ফিলিপাইনের এবিএস-সিবিএন নিউজ ও জিএমএ নিউজসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের এই ঘটনায় অর্থ স্থানান্তরের সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়েছিল। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরি যাওয়ার পর প্রায় ১ মাস ঘটনাটি চেপে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে মার্চ মাসে ফিলিপাইনে প্রকাশিত সংবাদের বরাতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের এ সংক্রান্ত খবর বের হলে ঘটনাটি স্বীকার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঘটনার জের ধরে সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন আতিউর রহমান। সেই সাথে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল ২ জন ডেপুটি গভর্নরকেও।

রিজার্ভ চুরির তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের যে কমিটি গঠিত হয়, তারা যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন। এরপর কয়েক দফায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দিনক্ষণ জানানো হলেও সেই প্রতিবেদন আজও প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, যে ব্যাংক কর্মকর্তাকে সাজা দেয়া হলো তিনি ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) একটি শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। তার নাম মায়া সান্তোস দেগুইতো। এর মাধ্যমে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সাইবার চুরির ঘটনায় প্রথম কাউকে সাজা দেয়া হলো।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন থেকে কিছু অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও বাকি অর্থ ফিরে পাওয়া এখনো অনিশ্চিত। সেই সাথে বাংলাদেশের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় এই ঘটনার কারা দায়ী সেটিও জানা সম্ভব হচ্ছে না।

ঘটনা তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে সে বছর ১৫ মার্চ ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। তদন্ত কমিটি গত ৩০ মে অর্থমন্ত্রীর কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২২ সেপ্টেম্বর রিজার্ভের অর্থ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের ঘোষণা দিলেও মাত্র একদিন আগে জানিয়ে দেন যে প্রতিবেদনটি আপাতত প্রকাশ করা হবে না। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, চুরি যাওয়া অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তবে এরপর বিভিন্ন সময় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার ব্যাপারে কথা উঠলেও শেষ পর্যন্ত এর স্থান হিমাগারে হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সর্বশেষ, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দেয়ার জন্য গত বুধবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন ঢাকার একটি আদালত।

এদিকে মায়া দেগুইতো এই অবৈধ ব্যাংক লেনদেন সহজে বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ে জড়িত ছিল বলে দাবি আদালতের। তবে আদালতের সামনে তিনি (দেগুইতো) জানিয়েছেন, এই অর্থ লেনদেনের পেছনে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। রায় ঘোষণার পর মায়া দেগুইতোর আইনজীবী দেমিত্রিও কাস্টোডিও বলেছেন, তার মক্কেল ভীষণভাবে হতাশাগ্রস্ত। তবে আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন এরই মধ্যে ম্যানিলা জাঙ্কেট অপারেটর থেকে চুরি করা অর্থের মাত্র দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার জন্য আলোচনা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এই মুহূর্তে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই মাসের মধ্যেই মামলা দায়ের করার কথা রয়েছে। সেজন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সচিব, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের প্রধানসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানে তারা এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মামলা করবেন বলে জানান তিনি। মামলা করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক তার সমস্ত অর্থ ফেরত পাবে বলেও তিনি আশাবাদী। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কবে নাগাদ পুনরুদ্ধার হতে পারে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি।

তিনি বলেন, মূলত অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যেই এই মামলা করা হচ্ছে। মামলার রায় ঘোষণার পরই অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। রায় কবে ঘোষণা হতে পারে সেটা তো বলা যায় না। তবে চলতি মাসের মধ্যে না হলে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই মামলা করার সময় চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেখানে এই অর্থ চুরির পেছনে জড়িত পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এদিকে এই অবৈধ অর্থ পাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণে ২০১৬ সালের আগস্টে আরসিবিসিকে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ১শ কোটি পেসো অর্থাৎ ১ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরসিবিসি'র সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং যে শাখাটি থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল সেখানকার ৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আমরা আশা করি শিগগিরই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে এই মামলাটি দ্রুত বিচারের মুখোমুখি হবে।

তবে আরসিবিসি'র দাবি, সাইবার হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হলো, সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের অভিযোগ, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের গাফিলতিকে ঢাকার চেষ্টা করছে। পরে এই অর্থ চুরিতে দেশের ভেতরের কোনো একটি চক্রের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়। বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সরকার। প্রথম দিকে তৎপরতা চালানো হলেও এখনও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীনের তদন্তে ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকেরই কয়েকজনের নাম উঠে আসে। তবে সেই তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৬
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৪
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫১৯২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.