নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
আন্দোলন যাদের ব্যর্থ, নির্বাচনে তারা জয়ী হতে পারে না : প্রধানমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের সব আন্দোলনই ব্যর্থ হয়েছে। আর আন্দোলন যাদের ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে তারা জয়ী হতে পারে না। নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের ব্যর্থতার কারণ তাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে। যারা নমিনেশন নিয়ে ট্রেড (বাণিজ্য) করেছে, অকশন (নিলাম) করেছে, তারা কী করে আশা করে যে নির্বাচনে জয়ী হবে।

তিনি বলেন, আগামী ৫ বছর আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষার। দেশকে উন্নয়নের যে মহাসড়কে নিয়েছি, তা অব্যাহত রাখতে হবে। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে। কেন্দ্রীয়ভাবে সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন এবং ২০২০ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের সময় বাংলাদেশকে অবশ্যই একটি উন্নত ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে পারবো। ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশকে আরো উন্নত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবে। এটা বাস্তবায়িত হতে থাকবে। বাংলাদেশেকে আর কেউ পিছনে টেনে নিতে পারবে না। বাংলাদেশের মাটিতে যেন আর কখনো যুদ্ধাপরাধী, খুনী, সন্ত্রাসী, অগি্নসন্ত্রাসী আর কখনো ফিরে আসতে না পারে দেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা শুরু, জাতির পিতা যে কথা বলে গেছেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না, কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই, ভবিষ্যতেও পারবে না। জাতির পিতার প্রতি এটাই আমাদের ওয়াদা।

সরকারের পরিকল্পনার পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। সভায় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরে সভাপতি একে এম রহমতউল্লাহ, মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মো.শাহে আলম মুরাদসহ অনেকে। আলোচনা মঞ্চে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু সন্ত্রাস, লুটপাট, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা এবং ব্যাপক হারে মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে তাদের এই ভরাডুবি। একই আসনের জন্য সকালে একজন, দুপুরে একজন ও বিকেলে একজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। তাদের অনেকেই আমার সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের দুঃখের কথা বলেছেন। একজন তো আমাদের দলে জয়েন করলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির যেসব প্রার্থী উইনেবল ছিল তারা কেউই মনোনয়ন পাননি। টাকা বেশি না দিতে পারায় তারা মনোনয়ন পাননি। সকালে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়, তার চেয়ে বেশি টাকা দেয়ার পর দুপুরে আরেকজন মনোনয়ন পান। বিকেলে তার চেয়ে বেশি টাকায় পাওয়ায় সকাল ও দুপুরের প্রার্থী মনোনয়ন থেকে আউট হয়ে যান। এভাবে যে দল মনোনয়ন দেয় তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে? এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সিলেটে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি, যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই নমিনেশন দেয়া হয়েছে। ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে নমিনেশন দিলে তিনি হয়তো জিততে পারতেন। ধামরাইয়ে আতাউর রহমান খানের ছেলে জিয়াউর রহমান খান নমিনেশন পাবে বলেই ধারণা ছিল। তিনি হয়তো জিততেনও কিন্তু তাকে নমিনেশন দেয়া হয়নি, নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে নমিনেশন দেয়া হয়নি, চট্টগ্রামে মোর্শেদ খানকেও মনোনয়ন দেয়া হয়নি, এরকম আরো অনেক জায়গায় তারা যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে নমিনেশন দিয়েছে। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জনকে মনোনয়ন দেয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দেবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য যারাই ক্ষমতায় ছিলেন তাদের সময়ে এ দেশের মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়েছে, তারা অনেক কষ্ট পেয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে দেশ পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি। মাত্র ১০ বছরে আমরা যা পেরেছি, ২৮ বছরেও অন্যরা তা কেন পারেনি? কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়। যখনই জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন ক্ষমতায় এসেছে তখনই মানুষের উন্নতি হয়েছে এবং এই উন্নয়ন গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ায় এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে বিপুল এই বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দলের সকল নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করা প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আদর্শ নিয়ে জাতির পিতা রাজনীতি করে গেছেন। তার বই অসমাপ্ত জীবনী পড়লে দেখবেন একজন মানুষ তার জীবনে কতখানি ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, একটি দেশের জন্য জনগণের জন্য। কারাগারে রোজনামচা পড়লেও দেখবেন কিভাবে তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এবিষয়ে শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আজকে এদেশের মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে, তাদের বাসস্থান হবে চিকিৎসা, শিক্ষার সুযোগ হবে। উন্নত জীবন পাবে, এটাই তো ছিল জাতির পিতার একমাত্র লক্ষ্য, একমাত্র উদ্দেশ্য।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সকালে ধানমন্ডিতে এই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের পর স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদীতে আরেকটি শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেন। এর পরেই একে একে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন- আওয়ামী যুব লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগে উত্তর ও দক্ষিণ শাখাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনের পুষ্পাঘ্র্যে ফুলে ফুলে আচ্ছাদিত হয়ে যায় জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদী।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১২
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৫৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.