নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
যৌন হয়রানির শিকার ৪৪৪ শিশু নিহত ৩ সাংবাদিক
গত বছর বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার ৪৬৬ জন : আসক
স্টাফ রিপোর্টার
২০১৮ সালে সারাদেশে ৪৬৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন ও সালিশকেন্দ্র (আসক)। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) 'বালাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৮ : আসকের পর্যবেক্ষণ' শীর্ষক এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংগঠনের তদন্ত কর্মকর্তা আবু আহমেদ ফয়জুল কবির।

তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোর মতো ২০১৮ সালের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। বছরজুড়ে ক্রসফাযারে নিহত হয়েছেন ৪৬৬ জন। এর মধ্যে মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে ২৯২ জন নিহত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, নিখোঁজ ও গুমের শিকার হয়েছেন ৩৪ জন।

এ থেকে পরবর্তী সময়ে ১৯ জনের সন্ধান পাওয়া গেলেও তাদের অধিকাংশ বিভিন্ন মামলায় আটক আছে। সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০১৮ সালে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩২ জন নারী। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৬৩ জন ও আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন।

রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে জানানো হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪৭০টি সহিংসতার ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৯ জন ও বিএনপির ৪ জন রয়েছেন। এছাড়া ২০১৮ সালের ৭০১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে জানানো হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও তথ্য ও যোগাযোগ আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সমরূপ ৮টি ধারা সনি্নবেশিত হয়েছে। এসব ধারায় মতপ্রকাশের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির তথ্য তুলে ধরে আবু আহমেদ ফয়জুল কবির আরও বলেন, ২০১৮ সালে বখাটেদের কাছে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ১৭৩ জন। যার মধ্যে ১১৬ জন নারী। উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৮ জন নারী। এছাড়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ জন নারীসহ খুন হয়েছেন ১২ জন।

এছাড়া সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে ৭ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাড়াছা যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়ছেন ১৯৫ জন। এর মধ্যে নির্যাতনের কারণে মারা গেছেন ৮৫ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৬ জন। অন্যদিকে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪০৯ জন। এছাড়া ৫৮ জন নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪ নারী, শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন ২৬ নারী এবং নির্যাতনসহ বিভিন্ন কারণে মারা যান ১৮ জন। অপরদিকে এসিড নিক্ষেপের শিকার হন ২২ জন। এর মধ্যে একজন মারা যান। ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, বিদায়ী বছরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে ৯৭টি প্রতিমা ভাঙচুর ও অগি্নসংযোগ এবং ২৯টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগি্নসংযোগ করা হয়েছে। এতে একজন নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে আসক জানায়, বিদায়ী বছরে হামলা, মামলা, হুমকি ও হয়রানিসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২০৭ জন সাংবাদিক। এছাড়া দুর্বৃত্তদের হাতে ৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়ছেন। এ বছর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ৮ জন ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে ৬ জনসহ মোট ১৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে। শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে আসক জানায়, ২০১৮ সালের ১ হাজার ১১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব কারণে ২৮৩ জন শিশু নিহত, আত্মহত্যা করেছে ১০৮ জন শিশু এবং রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে ২৮ জন শিশুর। এছাড়া যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হয় ৪৪৪ শিশু।

সাংবাদিক সম্মেলনে ২০১৮ সালে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ৪৮৪টি দুর্ঘটনায় ৫৯২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এছাড়া আদিবাসীদের অধিকার পার্বত্য শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নসহ তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দীর্ঘদিনের দাবি এখনও পূরণ হয়নি। সাংবাদিক সম্মেলনে দেশের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বেশ কিছু চিকিৎসক ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, ত্রুটি এবং চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুসহ রোগীর ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রত্যাশা প্রকাশ করে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজ বলেন, সবার সমঅধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রয়াস জরুরি। বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার বাস্তবায়নও সরকারের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি হচ্ছে, যেসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- হয়েছে রাষ্ট্র সেসব হত্যাকা-ের অনুসন্ধান করবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ঘটানোর অধিকার স্বাধীন দেশে কারও নেই।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমার্চ - ২২
ফজর৪:৪৫
যোহর১২:০৬
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৪
এশা৭:২৬
সূর্যোদয় - ৬:০১সূর্যাস্ত - ০৬:০৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২৪৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.