নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২৮ পৌষ ১৪২৫, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধনী বৈঠকে ১৩ ছাত্র সংগঠনের বিভিন্ন দাবি পেশ
ঢাবি'তে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সহাবস্থানের দাবি
প্রক্টর টিমের নিরাপত্তায় ছাত্রদলের অংশগ্রহণ
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পূর্র্বে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ১৩টি ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সাথে বৈঠকে করেছে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় ছাত্র সংগঠনের নেতারা প্রস্তাবিত সংশোধনী ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। অপরদিকে কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংগঠনগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ে লিখিত সুপারিশ জমা দেয়ার জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ১১টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সেমিনার কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান, কমিটির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা ও শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা প্রমুখ।

ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দীকী, ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক তমা বর্মণ, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীরসহ ১৩টি ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বৈঠক শেষে ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ করেছি। এখানে যেসব ছাত্র সংগঠন ক্রিয়াশীল রয়েছে, তারা তাদের বক্তব্য দিয়েছে। কোথায় কোথায় সংযোজন-বিয়োজন দরকার, তা কেউ কেউ লিখিতভাবে, কেউ মৌখিকভাবে জানিয়েছে। যেহেতু অনেকে দাবি করছে, তারা নিজেদের বক্তব্য বা প্রস্তাবনা উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার পর্যাপ্ত সময় পায়নি, তাই আগামী সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনগুলোকে সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য লিখিত আকারে জমা দিতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, মতবিনিময় সভায় নতুন নতুন সম্পাদকের পদ সৃষ্টির দাবি এসেছে। নারী নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হয়েছে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রীর পক্ষে একজন প্রতিনিধি থাকে। ডাকসুর বর্তমান গঠনতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য নেই এবং সভাপতির ক্ষমতা গণতন্ত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অনেকে দাবি করেছেন। একটি ক্ষেত্রে সকলে সমঝোতায় এসেছেন। নির্বাচনে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা প্রার্থী ও ভোটার হতে পারবেন। তবে নিয়মিত শিক্ষার্থী বলতে কী বোঝায় এ নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, আমরা চাই নিয়মিত শিক্ষার্থীরাই ডাকসু নির্বাচনে ভোট দেবে। নিয়মিত শিক্ষার্থী বলতে আমরা অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলের সহাবস্থান রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম চালাচ্ছে। কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না। তারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে রাজনীতির চর্চা করে তাহলে আমরা তাদের স্বাগত জানাবো।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, সহকারী প্রক্টর মো. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া, সহকারী প্রক্টর সীমা ইসলামসহ প্রক্টর টিমের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য ছাত্রদলের নেতাদের পাহারা দিয়ে সভার ভেতরে নিয়ে আসেন।

বৈঠক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সমস্যাগুলো কমিটির কাছে তুলে ধরেছি। কমিটির আহ্বায়ক আমাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো উপাচার্য ও প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। এখানে কোনো সহাবস্থান নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সচেতন, তাই আমরা আশা করি, প্রশাসন দ্রুত সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সাথে ডাকসু নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের অলঙ্কার। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সভা শেষে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনয়িন, ছাত্র ফেডারেশন ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় সভায় তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মধুর ক্যান্টিনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাদের প্রস্তাবিত সংশোধনী ও দাবি গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। এতে বক্তারা জানান, বৈঠকে তারা কর্তৃপক্ষকে হলসমূহে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা, পোলিং বুথগুলো হলের বাইরে করা, প্রেসিডেন্টের একচেটিয়া ক্ষমতা হরাস, সিনেট কার্যকর করা, বিভিন্ন সম্পাদক পদের পরিবর্তনসহ বাংলায় গঠনতন্ত্র তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

সভার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গঠনতন্ত্রের কোনো সংশোধনী প্রয়োজন আছে কিনা তা নিয়ে সভা হয়েছে। এ সভায় আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র যাদের ভোটার বলে চিহ্নিত করবে তারাই ভোটার হবে। ৩১ মার্চের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন করার প্রয়াস আছে। সেভাবেই আমরা এগোচ্ছি। সহাবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রভোস্ট কমিটি সকল হলে সহাবস্থান আছে বলে অবহিত করেছেন। সকল শিক্ষার্থীই ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যাবলী সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করতে পারছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৬
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৪
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫১৮১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.