নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮
প্রেক্ষিত : পরিবেশ দূষণ ও প্রতিরোধ
এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সিআরপিসির আলোকে বিভিন্ন অধ্যাদেশের ধারাবাহিকতা ও নির্দেশনায় যথাযথ আইনের বিধি বিধানের প্রয়োগে বিচার ও শাস্তির দিক নির্দেশনা ও ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক সময় ধীরগতি ও সম্বন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তাছাড়া আইনের ফাঁক ফোকড়ে অনেক সময় অপরিণামদর্শীরাও বড় ধরনের অপরাধ করে যেমনি রেহাই পেয়ে যায় তেমনি সামান্য কারণেও অনেকেই বিচারের সম্মুখীন হয়ে সায় সাক্ষী ও আইনের ফাঁক ফোকড়ে যার পর নাই নাজেহাল, কষ্ট ও ভোগান্তির সম্মুখীন হয়ে থাকে। যার উদাহরণের (ঊীধসঢ়ষব) অন্ত নেই। অনেকেই মনে করে থাকে যদি আইন নিজ গতিতে চলতো এবং সঠিক প্রয়োগও বাস্তবায়িত হতো, তবে অপরাধীদের এসব থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগই অবশিষ্ট থাকতো না। এ প্রসঙ্গে সুপ্রীম কোর্টের ১৯ দফার গাইড লাইন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশে অসংখ্য দফতর, পরিদফতর, অধিদফতর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থাকলেও সেখানেও লক্ষ্য করলে দেখা যায় যতোসব গাফিলতি ও বেহালদশার সুস্পষ্ট ছাপ বিদ্যমান। যা বেদনা ও ভোগান্তির দৃশ্যপট। তারপরও নেই তাদের জবাবদিহিতা। অন্তত যদি জবাবদিহিতার পথ খোলা থাকত এবং তা বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো, তাতে যেমনি তাদের ভয়ভীতি কাজ করতো, তেমনি অপরাধ সম্প্রসারিত না হয়ে একটা জায়গায় অবস্থান করতো। সমপ্রতি গণমাধ্যমে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসপি এবং গাইবান্ধার এসপি লাগামহীন বচনের কারণে শোকজ পেয়ে হাইকোর্টে এসে ভুল স্বীকার করে নিষ্কৃতি লাভ করেছেন। এর জন্য বিচার বিভাগ দেশের মানুষের কাছে যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছেন। এমনিভাবে যদি সকল ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা, কর্তব্যে অবহেলার কারণে আইন ও বিচারের সম্মুখীন হতে হতো, তবে যেমনি তাদের উদাসীনতা ও কর্তব্যবিমুখতা ও কথাবার্তার লাগামহীনতা কমে যেত তেমনি সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতো সমুন্নত আইনের শাসন। সর্বক্ষেত্রে বেড়ে যেত রক্ষণশীলতা। এসব কিছুর অবর্তমানে ও বাধাহীনভাবে চলার কারণেই বর্জ্যের মতো স্তূপাকার হয়ে দুর্গন্ধের পাহাড় পর্বতের মতো তা দিনের পর দিন সমপ্রসারিত হয়ে বিশাল আকারের রূপ ধারণ করে রয়েছে। যা হাড়ে মাংসে লেগে গেছে।

অপরদিকে এসব জঞ্জাল সরানোর ব্যাপারে বড় বড় কথার ফুলঝুড়িও চমক দেখানো হলেও, বাস্তবে রয়েছে ছন্দপতন, জিরো টলারেন্স, জিরো মাইনাস জিরো এবং জিরো প্লাস জিরো ফর্মূলারই নামান্তর। যা গোপাল ভাঁড়ের কিচ্ছার মতো। এমনি

একটি মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর হচ্ছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদফতর। যার শাখা প্রশাখা মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে দেশের সবকটি বিভাগ ও জেলায় সমপ্রসারিত। তদুপরি এ ব্যাপারে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ওপর রয়েছে দিক নির্দেশনা। যাকে এককভাবে দোষারুপের তীর বিদ্ধ না করাই সংগত। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদফতর থাকলেও পরিবেশ দূষণের চরম লংঘন দৃশ্যমান হলেও, এসব কিছু দেখাশুনা ও পর্যবেক্ষণের কেউ আছে বলে দৃশ্যমান হয় না। যদিও বছরে একবার পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের রমরমা বিজ্ঞাপন অনেকেই লক্ষ্য করে থাকে। যাতে পরিবেশ দূষণ থেকে পরিত্রাণে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করার নামে কিছু উপদেশ সংবলিত সুন্দর সুন্দর কথার বিন্যাস হয়ে থাকে। যা দেখে অনেকেরই খুব ভালো লাগে। তারপর পরিবেশ দূষণে যা হওয়ার তাই হয়ে থাকে। এক দু'টা উদাহরণ দিয়ে পরিবেশের দূষণ ও অবক্ষয় বুঝানো বাস্তবিকই যে কারো পক্ষে অসাধ্য। দুচোখ মেলিয়া যে দিকেই তাকানো যায় যেন পরিবেশ দূষণের ভা-ার। এই অভিশাপ দেশের মানুষের বাঁচার উপায় হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও তৎসংশ্লিষ্ট অধিদফতরের যেমন দরকার উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা তেমনি দরকার কথা নয়, কাজের মাধ্যমে এর পরিস্ফুটন ঘটিয়ে এবং পরিবেশ দূষণ আইনের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন ও যথাযথ কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার ৬ নং পুমদি ইউনিয়নে রাকিব ব্রিকস (জকই) এবং আজিজ রাশেদা ব্রিকস (অজই) দুটিই পরিবেশের উপর মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। যা ইটভাটা প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩, ৮ এর উপধারা ১ (ক), (গ), (ঘ) এবং উপধারা ৩ (চ) এবং ৫ এর উপধারা (৪) এর সুস্পষ্ট লংঘন। জনস্বার্থে ভাটা দুটি সরানোর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে এলাকাবাসী মনে করে থাকে।

পরিবেশ দূষণ নিবারণের জন্য যে আইন রয়েছে, তা শুধু কাগজে কলমেই রয়েছে বলে অনেকেই মনে করে থাকে। যা কুমীরকে শিয়ালের একই বাচ্চা বার বার দেখানোর গল্পেরই নামান্তর। প্রায় সময় দেশের এখানে সেখানে পরিবেশের উপর মারাত্মক ক্ষতিকারক ইটভাটার ধোঁয়া ও ইটভাটার লাকড়ি পোড়ানোর ব্যাপারে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা করা হলেও তুলনামূলকভাবে এতো কম পরিলক্ষিত হয় যা সময় সময় লোক দেখানো তামাশা ও সমুদ্রের পানিতে আম, জাম, বড়ই গাছের মতো ঢিল নিক্ষেপেরই নামান্তর। এ নিবন্ধটি লেখার আগেভাগে পরিবেশ দূষণের উপর মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কিছু আলামত দৃশ্যপটে চলে আসে। যেমন- (ক) শিষাযুক্ত নির্গত গাড়ির বিষাক্ত কালো ধোঁয়া (খ) স্বর্ণ পাকা করার নাইট্রিক এসিড পোড়ানো বিষাক্ত ধোঁয়া (গ) জনাকীর্ণ স্থানে সিল ফ্যাক্টরির স্থাপন (ঘ) পলিথিনের উৎপাদন, সঞ্চালন, বিপণন ও ব্যবহার করে যথায় তথায় ফেলে রাখা (ঙ) ইটভাটার অনিয়ন্ত্রিত কালো ধোঁয়া ও বন উজাড় করা নিষিদ্ধ লাকড়ির ব্যবহার (চ) নদী-নালায় ট্যানারির বর্জ্যসহ মিল ফ্যাক্টরির বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণ (ছ) হাসপাতালের বর্জ্য ও ব্যবহৃত সিরিঞ্জ এখানে সেখানে ফেলানো (জ) অবাধে বনাঞ্চল ও গাছ নিধন (ঝ) সুগার মিলের বর্জ্য (গাদ) ও ব্যবহৃত গন্ধকের নিষ্কাশন (ঞ) হাঁস মুরগির খামারের বিষ্টা যেখানে সেখানে ফেলানো ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার (ট) সার ফ্যাক্টরির এমোনিয়া নিষ্কাশন ব্যবস্থা (ঠ) কাপড় ফ্যাক্টরির ব্যবহৃত দূষিত রং নিষ্কাশন প্রক্রিয়া (ড) মশার কয়েল প্রস্তুতে বিষাক্ত কেমিক্যালের ব্যবহার (ঢ) হোটেল রেস্তোরাঁর বর্জ্য এখানে সেখানে রাখা ইত্যাদি। যা সংক্ষিপ্ত কলেবরে এ নিবন্ধে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবে এসবের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট পরিবেশ দূষণের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে অনেকেই দায়ী করে থাকে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের এদিকে সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে, এসব পরিবেশ দূষণমুক্ত করা যেতো বলে প্রায় সময় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়ামে অনেকেই মন্তব্য ও আশাবাদ ব্যক্ত করে থাকে।

উলি্লখিত এসব কারণ ও অনুলি্লাখিত আরো অনেক কারণ যেমন পরিবেশ দূষণের মারাত্মক হাতিয়ার তেমনি অনেক দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে এসব কিছুতে রয়েছে মরণব্যাধি ক্যানসার, ফুসফুস আক্রান্তের জীবাণুসহ অনেক মারাত্মক রোগের জীবাণু। তাছাড়া পলিথিনের অবাধ ব্যবহারের কারণে ভূমির উর্বরতা শক্তি যুগ যুগ ধরে হরাস পাওয়ার ফলে উৎপাদনের বিশাল গাত্রদাহের সৃষ্টি করার আশঙ্কাও করা হয়ে থাকে। পরিবেশ দূষণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সম্প্রতি ঢাকার সিরডাপে অনুষ্ঠিত আয়োজিত দেশি বিদেশি পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞদের আলোচনা, পর্যালোচনা ও অভিমত থেকে জানা যায় পরিবেশ দূষণের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। তারমধ্যে অনেক কিছুর মারাত্মক পরিবেশ দূষণের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেলেও গাড়ির কালো ধোঁয়া, নাইট্রিক এসিডের অবাধ ব্যবহার, মিল ফ্যাক্টরির বর্জ্য, দূষিত কালো ধোঁয়া, নিয়ন্ত্রণহীন ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, ট্যানারির দূষিত ও বিষাক্ত বর্জ্য, হাসপাতালের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও বর্জ্য, সুগার মিলের ব্যবহৃত গন্ধকের গাদ সমেত বর্জ্য, হাঁস মুরগির বর্জ্য, সার ফ্যাক্টরির ব্যবহৃত এমোনিয়ার নিষ্কাশন অব্যবস্থা, কাপড় ফ্যাক্টরির ব্যবহৃত দূষিত রং নিষ্কাশন অব্যবস্থা, কয়েলে ব্যবহৃত বিষাক্ত কেমিক্যাল, পলিথিনের রক্ষণহীন অবাধ ব্যবহার, পলিথিনের নিয়ন্ত্রণহীন ফ্যাক্টরি, অবাধে গাছ গাছড়া নিধন ইত্যাদি পরিবেশের দূষণ ও ভারসাম্যহীনতার কথা বলা হয়ে থাকে। তারপর বলা হয়, দুনিয়ার কোনো সভ্য ও উন্নত দেশে পরিবেশ দূষণের সাথে উলি্লখিত এমন কিছু জিনিসের ব্যবহার ও যথেচ্ছা ব্যবহার হচ্ছে বা আছে কিনা? এ নিয়েও উক্ত সেমিনারে অনেকেই প্রশ্ন রেখে ও মত প্রকাশ করে আক্ষেপের সুরে কথা বলে থাকেন। এ নিবন্ধটি লেখার আগে পরিবেশ দূষণের অনেক ক্ষেত্র দৃশ্যমান হয়ে থাকে। যা বলার অবকাশ নেই। সমপ্রতি ঢাকা থেকে সড়কপথে গাজীপুর হয়ে ময়মনসিংহ এবং ময়মনসিংহ থেকে সড়কপথে কিশোরগঞ্জ ভৈরব হয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে যেমন দৃশ্যমান হয় অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটার কালো ধোঁয়া, তেমনি ভৈরব থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার পথে আশুগঞ্জ সড়কের দুই পাশে দৃশ্যমান হয় অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটার কালো ধোঁয়া। মাড়াই কলের ধান সিদ্ধ করার পদ্ধতি ও দূষিত পানির ব্যবহার ও পরিবেশ দূষণে একটি কারণ হিসেবে দৃষ্টিতে আসে। নরসিংদী থেকে বাবুরহাট বা শেখের হাট, মাধবদী ও ভেলা নগর রাস্তা পার হওয়ার সময় কাপড় ফ্যাক্টরির দূষিত রং নিষ্কাশন অব্যবস্থাপনা ও দুর্গন্ধে নাক মুখে অনেকের মতো হাত ও কাপড় গুছিয়ে পার হতে হয়েছে। তেমনিভাবে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ব্যবহৃত বর্জ্য ও ব্যবহৃত সিরিঞ্জ রাখার অব্যবস্থাপনা না দেখলে এ নিয়ে সামান্য দৃষ্টিপাত করে বুঝানো বাস্তবিকই অসম্ভব, কঠিন ও দুরূহ।

হাসপাতালের বর্জ্য ও সিরিঞ্জ যেভাবে টোকাইরা কুড়িয়ে নিচ্ছে, সেটা আরো ভয়াবহ। তাছাড়া রোগীদের জন্য কিশোরগঞ্জ হাসপাতালের রন্ধনশালার অপরিচ্ছন্নতা এ নিবন্ধে উল্লেখ করার মতো ভাষা খুঁজে পাওয়া বড়ই মুশকিল। এসব কিছুই যেমন একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক ও সাধারণ নিবন্ধক হিসেবে তুলে ধরা যেমন দুঃখ বেদনার পুঞ্জীভূত ভা-ার, তেমনি অশ্রুধারা ও বেদনার মহাকাব্যও বটে। এসব কিছুর পরিত্রাণের লক্ষ্যে প্রয়োজন (ক) বছরে এক দুবার শুধু বিজ্ঞাপনই নয়, সংশ্লিষ্টদের ফিল্ডে এসে গণসচেতনতা, পরিবেশ দূষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও পরিত্রাণের উদ্যোগ গ্রহণ। (খ) পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতর, পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ সম্পর্কিত বিভিন্ন এনজিও, জেলা, উপজেলা প্রশাসনের নিয়মনীতি শর্তভঙ্গের বিরুদ্ধে পরিচালিত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের যথাযথ আইনের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থাসহ এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে তাদের লাইসেন্স বাতিল ও প্রতিষ্ঠান বন্ধের ব্যবস্থা করে দৃষ্টান্তমূলক জেল জরিমানা ব্যবস্থা গ্রহণ (গ) এ সমস্ত প্রতিষ্ঠান তদারকি, দেখাশুনা, পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের সাথে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাদের নিয়মিত পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির ব্যাপারে কোনো আগাম সংকেত বা ওয়ার্নিং নয় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত কারণে বিভাগীয় শাস্তি প্রদানসহ সংশ্লিষ্ট পরিবেশ কোর্টে দায়ী দোষীদের সাথে সোপর্দ ও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ (ঘ) যে সমস্ত উপজেলা এবং জেলার পরিবেশ দূষণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং পরিবেশ দূষণ আইন শিথিলতার প্রশ্ন দেখা দেয়, তাদেরকে চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ (ঙ) দেশের প্রায় জেলাতেই ইটভাটা, মুরগির খামার (ফার্ম), সরকারি বেসরকারি হাসপাতালসহ এ নিবন্ধে উলি্লখিত মিল ফ্যাক্টরি ও প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অনুলি্লখিত সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন ছোট বড় অজস্র প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানেই এ ব্যাপারে ব্যত্যয় বা অনিয়ম ধরা পড়ে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যেখানে স্বজনপ্রীতি বা অন্য কিছুর ছাপ দৃশ্যমান না হয়। যে কারণেই হয়তোবা বর্তমান দুদক চেয়ারম্যান তার দফতর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করে এবং তা অব্যাহত রেখেছেন। উনি উনার ঘর ঠিক করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেমেছেন বলেই ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছেন। তাই আগে নিজে সংশোধন হয়ে অপরকে সংশোধনের তাগিদ ও উপদেশ দেয়া যায়। তাই কোরআন হাদীসের আলোকে বারংবার আত্মশুদ্ধির তাগিদ এসেছে।

পরিবেশের উপর ক্ষতিকারক সকল প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা এড়িয়ে পরিবেশ দূষণ ও পরিবেশ নষ্টের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তৎ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম, অবহেলা খতিয়ে দেখে তাদের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থাই পারে দেশ, জাতি ও জনগণকে পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্তি দিয়ে সুন্দর, ভারসাম্যপূর্ণ কাঙ্ক্ষিত দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা। পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা, দায়িত্ব, কর্তব্যহীনতা ও দায়সারা ভাব ত্যাগ করে কথা ও কাজের মধ্যে সমন্বয়, অনুপ্রেরণা, জাতীয়তাবোধই জনপ্রত্যাশা ও আশার আলো। শুধু মোবাইল কোর্টেই এর নিরাময় ওষুধ নয়। এ নিরাময়ের পথ কঠিন, বন্ধুর ও সুদৃঢ় বিস্তৃত। উত্তরণই হোক সকল জল্পনা, কল্পনা ও ব্যর্থতার অবসান।

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু : কলামিস্ট
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২০
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯০৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.