নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮
অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে মৃত্যু
দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হয়েছে এবং মানুষের যাতায়াতকে সহজ করতে নিত্যনতুন পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু মনে রাখা দরকার, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যদিয়ে যদি মানুষকে ক্রমাগত চলাচল করতে হয়, তবে তার ফল ভয়ানক হতে পারে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে যেভাবে দুর্ঘটনায় মৃত্যু থেকে শুরু করে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির চিত্র পরিলক্ষিত হয় তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সংগত কারণেই অগ্রগতির ধারা গতিশীল রাখতে যাতায়াতের পথ নির্বিঘ্ন করতে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

সম্প্রতি জানা গেল, আবারো ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এবারে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় অরক্ষিত একটি লেভেল ক্রসিংয়ে একটি প্রাইভেট কারে মৈত্রী এঙ্প্রেসের ধাক্কায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। কালিয়াকৈরের গোয়ালবাথানের নয়ানগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, শুধু দুর্ঘটনায় মৃত্যু নয়, কিছুদূর গিয়ে মৈত্রী এঙ্প্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরবঙ্গ এবং ময়মনসিংহের পথে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ধারকারী দল গিয়ে বগি সরিয়ে নিলে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়। আমরা মনে করি, যখন দেশে একের পর এক সড়ক, নৌ, রেল দুর্ঘটনা ঘটছে তখন তা আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। পত্রপত্রিকায় পাতা উল্টালেই যেভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মানুষের মৃত্যুর খবর আসে তা অত্যন্ত উদ্বেগের। বলার অপেক্ষা রাখে না, এবারই শুধু নয়, নানা সমেয়ই রেলক্রসিং অরক্ষিত থাকার দরুন মৃত্যুর মতো বেদনাবহ ঘটনা ঘটেছে। ফলে যখন এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হচ্ছে না, তখন এর দায় সংশ্লিষ্টরা কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। সঙ্গত কারণেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলেই আমরা মনে করি।

এবারের ঘটনাটিতে জানা যায় যে, রেললাইনের ওপর দিয়ে গ্রামের রাস্তায় ঐ ক্রসিংয়ে কোনো বাঁশকল ছিল না। গাড়ির চালক খেয়াল না করে রেললাইনে উঠে পড়েন এবং ঐ পথে দ্রুতগতিতে আসা মৈত্রী এঙ্প্রেসের সামনে পড়ে যায় ঐ গাড়ি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর প্রাইভেটকারটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে আটকে যায়। ঐ অবস্থায় আটকে থাকা গাড়িটি নিয়েই এগিয়ে যায় ট্রেন। এ সময় গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে আক্ষরিক অর্থেই দলা পাকিয়ে যায়। প্রায় দেড় কিলোমিটার যাওয়ার পর ট্রেন একটি সেতুতে উঠলে নিচে ফাঁকা জায়গা পেয়ে প্রাইভেটকারের ভাঙা বিভিন্ন অংশ নিচে পড়ে। রেলসেতুর নিচে কংক্রিটের প্ল্যাটফর্মে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকে আর সেতু পেরিয়ে আরও আধা কিলোমিটার যাওয়ার পর ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনাটি আমলে নিলে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়, তা হলো দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। কিন্তু সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বগিও লাইনচ্যুত হওয়ার ফলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল। সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখা জরুরি রেলক্রসিং অরক্ষিত থাকলে তার ভয়াবহতা কিরূপ হতে পারে। আমরা প্রসঙ্গত বলতে চাই, শুধু এই রেলক্রসিং নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানেই রেলক্রসিং অরক্ষিত, এমন খবর বিভিন্ন সময়েই পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া গেটম্যান না থাকাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, যখন একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে তখন এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি ক্রমাগত ভয়ানক হয়ে উঠতে থাকবে। একের পর এক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এই বিভীষিকা রোধে যদি পদক্ষেপ নিশ্চিত না হয় তবে এর খেসারত দিতে হবে ক্রমাগত, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা মনে করি সংশ্লিষ্টদের এই ঘটনাটি আমলে নিয়ে, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২৩
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৪৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.