নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৯
জনতার মত
লজ্জার অনুভূতি ভোঁতা হলে
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
মানুষ ও পশুর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে লজ্জার অনুভূতি। হযরত আদম (আ.) ও মা হাওয়া যখন আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে ইবলিশের চক্রান্তে পা দিয়েছিলেন, তখন সর্বপ্রথম তাদের দেহ থেকে পোশাক নামক আবরণটি খুলে গিয়েছিল। অর্থাৎ শাস্তিস্বরূপ প্রথম বেহেশতের পোশাকই হরণ করা হলো এবং তাদেরকে লজ্জার পরীক্ষায় নিক্ষেপ করা হলো।

লজ্জাকে দুভাগে ভাগ করা যায়- (১) বাহ্যিক লজ্জা (২) অন্তরের লজ্জা।

প্রথমে অন্তরের লজ্জা প্রসঙ্গে। হযরত আদম (আ.) অপরাধের কারণে খুবই লজ্জিত হয়ে আল্লাহ তায়ালার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। মানব জাতির জন্য এই দোয়া শিক্ষা দিলেন 'রাব্বানা জালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরীন'।

লজ্জার অনুভূতি যখন ভোঁতা হয়ে যায়, তখনই মানুষ অমানুষ হয়ে যায়। সামাজিক লোক লজ্জার ভয়ই তখন তাদের থাকে না। যার কারণে আমাদের সমাজে সুদ, ঘুষ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, ইয়াতিমের সম্পদ আত্মসাৎ, জেনা, ব্যভিচার, ধর্ষণ, পতিতাবৃত্তি, ভিক্ষাবৃত্তি, যৌতুক প্রথা এবং নারী নির্যাতনের মতো মারাত্মক পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ি আমরা। এই ঘৃণিত কাজগুলো শুধু আইনের মাধ্যমে উচ্ছেদ সম্ভব নয়। অবশ্যই এজন্য লজ্জা নামক আন্তরিক ভূষণের একান্ত প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত বাহ্যিক লজ্জা। অর্থাৎ শারীরিক আবরণ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে 'হে নবী! মুমিন পুরুষদের বলে দিন তারা যেন নিজেদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের লজ্জা স্থানের হেফাজত করে। এই পন্থাই তাদের জন্য উত্তম'। আর 'হে নবী! মুমিন নারীদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও লজ্জা স্থানের হেফাজত করে। আর তাদের সাজসজ্জা যেন প্রকাশ না করে। যা আপনা আপনি প্রকাশ হয়ে পড়ে তা ছাড়া, আর তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল দিয়ে তাদের বুক ঢেকে রাখে। তারা যেন তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে, তবে এসব লোক ছাড়া-স্বামী, পিতা, স্বামীর পিতা, নিজের পুত্র, নিজের মালিকানাধীনের অধীনস্থ পুরুষ। যাদের অন্যরকম উদ্দেশ্য নেই এবং শিশুদের যেসব শিশু মেয়েদের গোপন বিষয়ে এখনো অজ্ঞ। তারা যেন যে সৌন্দর্য তারা লুকিয়ে রেখেছে তা লোকদের সামনে প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে সজোরে পা না ফেলে। (সুরা আন-নূর, ৩০-৩১)।

উপরোক্ত আয়াতে আমরা দেখতে পাই, নারী পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখার প্রাথমিক হুকুম দিয়ে তারপরই লজ্জা স্থানের হেফাজতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুরুষদের ব্যাপারে নিজের স্ত্রী ও মুহাররাম নারী ব্যতীত অন্য কোনো নারীকে নয়ন ভরে দেখা সম্পূর্ণ না জায়েজ। হঠাৎ দৃষ্টি পড়লে সেটা ক্ষমার যোগ্য কিন্তু পুনরায় ভালোভাবে দেখার উদ্দেশ্যে দৃষ্টি দেয়া চোখের জিনা, ফুসলানো কণ্ঠের জিনা, তৃপ্তির সাথে শ্রবণ করা কানের জিনা, হাত লাগানো ও অবৈধ উদ্দেশ্য নিয়ে চলা হাত ও পায়ের জিনা, ব্যভিচারের এ জাতীয় ভূমিকা যখন পুরোপুরি চলতে থাকে, তখন লজ্জাস্থানগুলো তাকে পূর্ণতা দান করে।

(বোখারী, মুসলিম ও আবু দাউদ শরীফ)

হযরত আব্দুল্লাহ বাজালী (রহ.) বলেন, আমি দয়াল নবী (দ.)কে জিজ্ঞাস করলাম, হঠাৎ চোখে পড়ে গেলে কি করব? বললেন ফিরিয়ে নাও। (তিরমিজি, আবু দাউদ ও নাসাঈ)। হাদিসে কুদসীতে বলা হয়েছে 'দৃষ্টি হচ্ছে ইবলিশের বিষাক্ত তীরগুলোর মধ্য থেকে একটি তীর'। যে ব্যক্তি আমাকে ভয় করে তা ত্যাগ করে আমি তার বদলে তাকে এমন ঈমান দান করবো। যার মিষ্টি স্বাদ সে নিজের হৃদয়ে অনুভব করবে। (তাবরানী)

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত-প্রিয় নবী (দ.) বলেছেন 'যে মুসলমানের দৃষ্টি কোনো মেয়ের সৌন্দর্যের উপর পড়ে এবং সে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়, আল্লাহ তার জন্য ইবাদতে বিশেষ স্বাদ করে দেন'। শেষ কথা, দৃষ্টির হেফাজত এবং লজ্জার অনুভূতি নিয়ে যাতে আমরা আমাদের জীবন অতিবাহিত করতে পারি। আমিন।

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : সাংবাদিক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২৪
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১১
আসর৪:০৪
মাগরিব৫:৪৩
এশা৬:৫৮
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:৩৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯৫৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.