নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৯
দুর্বল ভিত্তির ওপর সুউচ্চ ইমারত হয় না
মোহাম্মদ নজাবত আলী
শিক্ষাক্ষেত্রে নানা অনিয়ম, শুধু আর্থিক সংকটই নয় সামাজিকভাবেও শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় প্রতিনিয়ত। স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার খবর আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখি। উন্নত ও সভ্য রাষ্ট্রগুলোতে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অতি গুরুত্ব দেয়া হয়।

আমাদের সংবিধানে শিক্ষা ব্যবস্থা হবে অভিন্ন, এমন কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ সার্বজনীন গণমুখী শিক্ষার কথা বলা আছে। যেখানে একই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা থাকবে, কোনো বিভাজন থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সরকারি-বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়ামসহ আরও নানা ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। যে সংবিধানের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, অথচ সংবিধানের অনেক দিক-নির্দেশনা দৃশ্যমান নয়, উপেক্ষিত।

প্রকৃতপক্ষে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ সিংহভাগ প্রতিষ্ঠান বেসরকারি যা দেশের মূল শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। মাধ্যমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এ সমস্ত সিংহভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকে পাস করছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। এর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে শিক্ষাবিদ গবেষকরা বর্তমান শিক্ষার গুণগত মানকে দায়ী করেছেন। শিক্ষার গুণগত মান ভালো না হওয়ার অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে নোটবই, প্রাইভেট, প্রশ্নফাঁস কোচিং বাণিজ্যকে দায়ী করেন। শিক্ষা গবেষণায় উঠে আসা কারণগুলো যে অকারণ তা নয় বরং বহুলাংশে সঠিক। কারণ বর্তমান সরকার যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছেন তাতে নোট গাইড, কোচিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে এজন্য যে, তাতে শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীর বোধগম্যতা, সৃজনশীলতা, মেধা শিকলে বাঁধা, কেননা মুখস্থ বিদ্যা পরিহার করে শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ ঘটানোর জন্য সৃজনশীল পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়। সনাতন পদ্ধতি পরিহার করে যখন নতুন এক ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হলো তখন দেশবাসী শিক্ষিত বিশিষ্টজরা সাধুবাদ জানায়। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে এ পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। শতভাগ পাস, নোট গাইড, প্রশ্ন ফাঁস, কোচিং বাণিজ্য, ভর্তি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় ইত্যাদি কারণে এ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। সমপ্রতি দেশ বরেণ্য ব্যক্তি, বিশিষ্টজন শিক্ষাবিদরা বর্তমান ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন বাতিলেরও পরামর্শ দেন। কারণ অনেক সময় পরীক্ষার হলে বাহির থেকে এ ৩০ নম্বরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর সাপ্লাই দেয়া হয় পরীক্ষার্থীর কাছে। একটি শিক্ষা ব্যবস্থায় যদি নানা ধরনের নেতিবাচক দিক থাকে তাহলে সে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে কিভাবে ভালো কিছু আশা করা যায়?

আমাদের শিক্ষার্থীরা মূল বই শ্রেণিমুখী না হয়ে নোট গাইড, প্রাইভেট, কোচিংনির্ভর। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সৃজনশীলতা অর্জন, মেধার বিকাশ, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা। বর্তমান শিক্ষার্থীরা সেটা অর্জন করবে মূল বই ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের আলোচনায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, মুখস্থ বিদ্যা নকলের চেয়েও ভয়াবহ। সে ভয়াবহ পথে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই হাঁটছে, কোচিং সেন্টারগুলোতে নোট মুখস্থের মাধ্যমে। উপরন্ত নোট গাইড তো রয়েছেই। এভাবে একটি জাতি প্রকৃতপক্ষে কখনো মেধাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না। একই সঙ্গে সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। আমরা অনেক আগে থেকে শুনে আসছি সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বিশেষ মনোযোগের জন্য প্রাইভেট কোচিং নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। অর্থাৎ সরকারি বেতন-ভাতাদি পান এমন এমপিওভুক্ত শিক্ষক প্রাইভেট বা কোচিং করাতে পারবে না নিজ বিদ্যালয়ে বা অন্যত্র। কিন্তু কবে এ আইন হবে, কবে বাস্তবায়ন হবে তা আমরা জানি না। তবে বাস্তবায়ন হলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গোড়া দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুণগত পরিবর্তন আসবে এবং একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা বই ও শ্রেণিমুখী হবে বলে অভিজ্ঞমহল এবং বিশিষ্টজনরা মনে করেন। কারণ শিক্ষাকে এক শ্রেণির অতি মুনাফালোভী শিক্ষক, কর্মকর্তা, নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত সারাবছর প্রাইভেট, কোচিংয়ের লোভনীয় ফাঁদে ফেলেছে শিক্ষার্থীদের, যার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা বাণিজ্যকরণ হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা অনিয়ম, দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত। বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, নকল, খাতা অবমূল্যায়ন। শ্রেণি কক্ষের পড়ালেখা, গাইড, শিট, টিউশনি, কোচিং সেন্টারে। প্রশ্ন প্রণয়নে ভুল ইত্যাদি অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগের এক শ্রেণির নেতা। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরেও চলছে এ অনিয়ম, দুর্নীতি। সরকার এখনও কোচিং সেন্টার, নোট গাউড বন্ধ করতে ও প্রশ্ন ফাঁস হোতাদের চিহ্নিত বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না পারাটা কি এক ধরনের ব্যর্থতা নয়?

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও ননএমপিওভুক্ত বেশ কয়েকজন শিক্ষক আমাকে মোবাইলে অনুরোধ জানিয়েছেন তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে লিখতে। ননএমপিও শিক্ষকরা তাদের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে লেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। উপরন্ত আমার লেখা অনিয়মিত হওয়ার কারণও জানতে চেয়েছেন। আমি তাদের এই বলে আশ্বস্ত করেছি সবার অনুরোধ যেমন রক্ষা করা কঠিন তেমনি পত্রিকা কর্তৃপক্ষের ওপর লেখা ছাপানো নির্ভর করে। যা হোক, আমি ব্যক্তিগতভাবে পেশায় একজন বেসরকারি শিক্ষক। প্রায় সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করতে হয়। তবুও এর ফাঁকে অনেক কষ্ট করে ও গভীর রাত অবধি লেখার খসরা তৈরি করি। আমি যেহেতু বেসরকারি শিক্ষক তাই স্বাভাবিকভাবে শিক্ষকদের প্রতি আমার সহানুভূতি রয়েছে। আমিও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কোনো কিছুর ভিত যদি দুর্বল হয় তাহলে তা টেকসই হয় না। হঠাৎ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। বেসরকারি শিক্ষকদের যে আর্থিক সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে, তা শক্ত মজবুত নয়। দুর্বল ভিত্তির ওপর সুউচ্চ ইমারত হয় না। আমরা যারা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত, আর্থিক দিক থেকে আমাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি পূর্ণভাবে। এখনো বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত বেসরকারি শিক্ষকরা। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় একজন সজ্জন ব্যক্তি এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি এখনো শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম, শিক্ষকদের দুর্ভোগ, শিক্ষার মান বাড়ানোর বড় ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেননি। সময়ের পরিক্রমায় যুগের পরিবর্তনে নানা সময়ে বিভিন্নভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ও সংস্কার বাধিত হয়। একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নানা ধরনের অনিয়ম রয়েছে। প্রশ্নফাঁস, কোচিং বাণিজ্য, পিইসি, জেএসসি,জেডিসি পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা, অতিরিক্ত সিলেবাসের বোঝা শিক্ষার্থীদের সইবার সক্ষমতা কতটুকু রয়েছে?

শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম, শুধু আর্থিক সংকটই নয় সামাজিকভাবেও শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় প্রতিনিয়ত। স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য, রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার খবর আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখি। উন্নত ও সভ্য রাষ্ট্রগুলোতে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অতি গুরুত্ব দেয়া হয়।

একদিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম, বিশৃঙ্খলায় যোগ্যতা ও মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী তৈরি হচ্ছে না। অন্যদিকে শিক্ষকদের আর্থিক দৈন্যতা এ দুটো বিষয় দুর্বল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই দুর্বল ভিত্তির ওপর কোনো টেকসই ইমারত তৈরি করা যায় না। আমাদের সরকারের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তিরা প্রায় একটি কথা গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে চান। শিক্ষকদের বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে, কথাটা ঠিক। কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ২০-২৫ বছর শিক্ষকতা পেশায় জড়িত এমন দক্ষ, অভিজ্ঞ, শিক্ষকের বেতন ১৬ হাজার স্কেলে কেন? এ স্কেলে বেতন পায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পাস একজন পিয়ন বা দপ্তরী। আর সরকারি হাসপাতালের একজন নার্সের বেতন ১৬ হাজারের চাইতেও অনেক বেশি। একজন শিক্ষক যদি একজন পিয়নের স্কেলে, একজন নার্সের স্কেলের চেয়ে কম বেতন পান তাহলে শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার স্কেলের অন্তর্ভুক্ত যেসব শিক্ষক আছেন, তাদের অপরাধ কি? আমার বিবেচনায় তাদের অপরাধ দুটি। তারা বিএড প্রশিক্ষণের আগেই টাইম স্কেল নিয়েছেন অথবা বেসরকারি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। সরকারি অনুমোদিত বেসরকারি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড সনদের যদি কোনো মূল্যায়ন না হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে অনুমোদন দেয়া হলো কেন? আর প্রশিক্ষণের আগেই টাইমস্কেল নিলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেল যে, তাকে ১৬ হাজার স্কেলে পড়ে থাকতে হবে। সরকার বা শিক্ষামন্ত্রীর এ দ্বৈতনীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। এখনো বেসরকারি শিক্ষকরা শতভাগ বোনাস পান না। বরাদ্দ নেই বৈশাখী ভাতা ও প্রবৃদ্ধি। অন্যদিকে নন-এমপিও শিক্ষকদের অবস্থা তো আরও খারাপ। তারা যুগের পর যুগ বিনা বেতনে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন অথচ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। একটি সভ্য সমাজের এ চিত্র হতে পারে না। তাদের এমন অবস্থা যে, জীবন-মরণ সমস্যা। তারা দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৮ বছর চাকরি করার পর অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, না পারছে চাকরি ছাড়তে না পারছে অন্য কিছু করতে। এ দীর্ঘ সময়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ সমস্ত শিক্ষকদের একটি স্নেহের সম্পর্ক যোগসূত্র হলেও তারা বেতন ভাতাদি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। তাদের অসহায় অন্তর বার বার কেঁদে ওঠে। সরকার তাদের বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোনো ফল হচ্ছে না। তাদের কান্না থামানো যায় না। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে তাদেরও জীবন, সংসার রয়েছে। অন্ততপক্ষে একবারে না হলেও পর্যায়ক্রমে তাদের বেতন ভাতাদির ব্যবস্থা করা সরকারের মানবিক দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি।

সভ্য দেশগুলোতে শিক্ষা খাতে বড় ধরনের পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়, একটি সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরিতে। কেননা সুশিক্ষিত জনগোষ্ঠী ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের দেশেও শিক্ষা খাতে পুঁজি বিনিয়োগ করা হয়। কিন্তু এর সিংহভাগ অর্থের অপচয় হয় শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে। আমরা প্রতিনিয়ত বড় বড় কথা বলি। আইন করে নোট, গাইড, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করছি। আমাদের রাষ্ট্রের কথা ও কাজের মধ্যে এ ক্ষেত্রে কোনো মিল নেই। কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কখনো বলতে শুনি না দেশের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন কাঠামো পুনঃবিন্যাস, বৈষম্য দূরীকরণ ও নন-এমপিও শিক্ষকদের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা। প্রকৃতপক্ষে বেসরকারি সব শিক্ষকদের একপর্যায়ে এনে এ পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে শিক্ষার ভিত আরও দুর্বল হবে এবং এ দুর্বল ভিত্তির ওপর সুউচ্চ ইমারত তৈরি সম্ভব নয়।

মোহাম্মদ নজাবত আলী : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৩
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৮৮৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.