নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৯
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় লবণ উৎপাদনে ব্যস্ত চাষিরা
এফএনএস
বঙ্গোপসাগরের উপকূল বেষ্টিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি উপজেলা আনোয়ারা। এখানকার দুই ইউনিয়নে এবার লবণ চাষের জন্য মাঠ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। সবেমাত্র ওই জায়গায় চিংড়ি ঘের গুটিয়ে লবণ মাঠ তৈরি করছেন তারা। গত দুই বছরে পরীক্ষামূলক লবণ চাষের সাফল্যকে পুঁজি করে এ বছর চাষিরা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন মাঠে। অল্প পুঁজিতে লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় স্থানীয় লোকজনও এ লবণ চাষে ক্রমেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তারা ওই লবণশিল্প আরো মানসম্মত করার জন্য সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করেছেন। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বারশত ইউনিয়নের পারকি এলাকায় প্রায় আড়াই'শ একর মাঠজুড়ে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যে মাঠ পরিচর্যায় নিয়োজিত আছেন অর্ধশতাধিক চাষি পরিবার। তারা সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন। অবদি যেন চাষিদের অন্য কোনো কাজ করার সময়ও নেই। উপকূলীয় এ দুই ইউনিয়ন রায়পুরের দক্ষিণ গহিরা ও বারশতের পারকি এলাকায় লবণ চাষ হচ্ছে। এখানে আগে তেমন জনপ্রিয় ছিল না এ লবণ চাষ।

কয়েক বছর ধরে কঙ্বাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও পেকুয়া এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাষিরা আনোয়ারা উপকূলে লবণ উৎপাদন শুরু করেন। এতে কম খরচে উৎপাদন ভালো হওয়ায় দিন দিন লবণ চাষে আগ্রহ বাড়ছে অনেকেরই। ফলে বছরের পর বছর বাড়ছে লবণ চাষের মাঠ। এসব মাঠে পুরোদমে শুরু হয়েছে লবণ উৎপাদনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া। জনশ্রুতি রয়েছে এ লবণ চাষীরা লবণ চাষে যুক্ত হয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করার

প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। গ্রামবাসী জানায়, দক্ষিণ গহিরা ও পারকি এলাকায় চলতি মওসুমে বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার অর্ধশতাধিক চাষি অন্তত ২৫০ একর জমি বন্ধক নিয়ে লবণ উৎপাদন শুরু করেছেন। অথচ গেল মওসুমে সেখানে লবণচাষ হয়েছিল ৪০ থেকে ৫০ একর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেড়েছে আরো চারগুণ। তাদের দেখতে দেখতে স্থানীয়রাও লবণ চাষে এবার উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

চাষিরা জানান, লবণ চাষের জন্য প্রথমে জমিকে ছোট ছোট ভাগ করে নেয়া হয়। এরপর ভেজা মাটিকে রোলার দিয়ে সমান করে বিছিয়ে দেয়া হয় মোটা পলিথিন। জোয়ার আসলেই মাঠের মাঝখানে তৈরি করা গর্তে জমানো হয় সাগরের লবণ পানি। বালতি ভরে বিছানো পলিথিনের ওপর রাখা হয় পানি। জলীয়বাষ্প হয়ে উড়ে যায় পানি আর মাঠে জমে যায় লবণের আস্তরণ। সেই লবণ তুলে স্তুপ করে রাখা হয়; যেন সরে যায় পানি। এরপরই বস্তায় ভরে লবণ তুলে দেয়া হয় বেপারীর হাতে। তবে চাষিরা আধুনিক পলিথিন ও সনাতন পদ্ধতিতে মাঠে লবণ চাষ করছেন। এ লবণ চাষে এখন প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি। চকরিয়ার আরাফাত (৩৭) ও কুতুবদিয়া থেকে আসা চাষি কামাল উদ্দিন (৪৫) জানান, প্রতি মওসুমের জন্য কানি প্রতি (৪০ শতক) জমি তিন হাজার টাকায় বন্ধক নিই। প্রতি কানিতে চাষাবাদে খরচ পড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে লাভ হয় খরচেরও দ্বিগুণ। ২৫০ একর মাঠে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫০ হাজার মণ। প্রতি মণ লবণের দাম কমপক্ষে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা রয়েছে। সেই হিসেবে বাজারমূল্য দাঁড়াবে আনুমানিক ছয় কোটি টাকা।

অন্যদিকে সাধারণ লবণচাষিরা বলেন, সরকার যদি আনোয়ারা উপকূলীয় এলাকায় উৎপাদিত এসব লবণ রফতানিতে সহযোগিতা করেন তাহলে এখানকার লবণচাষিরা আরো বেশি উপকৃত হবেন। তারা ওই লবণশিল্প রক্ষা এবং মানসম্মত করার জন্য লবণ উৎপাদনে সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে বারশত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ জানান, পারকি এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে লবণচাষ। কম খরচে লাভ বেশি তাই স্থানীয়রাও এ লবণচাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরো পাঁচ মাস লবণ উৎপাদন হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৪
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৬৯৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.