নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৯
সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি নার্সিং অধিদফতর
দুর্নীতি অনিয়ম নির্বিঘ্ন রাখতেই অভিজ্ঞদের সরানোর পাঁয়তারা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর। সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য ও আর্থিক কেলেঙ্কারির একের পর এক অভিযোগ ওঠার পরও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। বরং নানা কৌশল আর ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় নিজেদের অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকা- নির্বিঘ্ন রাখতে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে দুর্নীতিবাজরা। এরই অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তার মদদেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে সবকিছু। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিন্ডিকেট সদস্যরা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তাদের অপকর্ম ফাঁসকারীকে চিহ্নিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। এরই মধ্যে অভিজ্ঞ কয়েক কর্মকর্তাকে টার্গেট করে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সূত্রটি আরো জানায়, প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক তন্দ্রা শিকদারসহ অন্য কয়েকজনের দুর্নীতির সংবাদ পত্রিকান্তরে প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ তথ্য পাবার পরপরই মহাপরিচালক এবং তার সহযোগীরা তদন্ত বন্ধে তৎপর হয়ে ওঠে। তবে নিজেদের মনের কথা সরাসরি প্রকাশ না করে কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরে বদলি আতংক ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে টার্গেট কয়েকজনকে সরিয়ে দিয়ে লুটপাটের ক্ষেত্র নিষ্কণ্টক করতে চাইছে। এক্ষেত্রে নতুন অনুমোদিত ২টি নার্সিং কলেজের জন্য কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়া বর্তমানে মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলেজ ২টি হলো_ ঢাকার সরকারি শেরেবাংলা নগর নার্সিং কলেজ এবং গাজীপুরের তাজউদ্দিন আহমেদ নার্সিং কলেজ। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠান ২টির জন্য প্রায় ২ কোটি টাকার বিভিন্ন মালামাল কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

এদিকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরও মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে কোনো তদন্তের ব্যবস্থা না হওয়াকে বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মহাপরিচালক এবং তার আশীর্বাদপুষ্ট সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বদলি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে সিন্ডিকেট সদস্যরা হরিলুট চালাচ্ছে। এদের অবৈধ আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে বদলি বাণিজ্য। বদলির ক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না মহাপরিচালক।

জানা গেছে, নার্স ও মিডওয়াইফ বদলির জন্য মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি রয়েছে। মহাপরিচালক ছাড়াও কমিটির অপর সদস্যরা হলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএস খাজা আবদুল হান্নান, নার্সিং শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব রোকেয়া খাতুন এবং নার্সিং অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শিরিনা আক্তার। তারা পৃথক তালিকা নিয়ে বৈঠকে বসলেও মূলত সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। এক্ষেত্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবের সুপারিশের দোহাই দিয়ে মহাপরিচালক ও মন্ত্রীর পিএস ফায়দা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ইংরেজি 'এইচ' আদ্যাক্ষরের একজন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা তন্দ্রা শিকদারের রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করছেন। মহাপরিচালকের পক্ষ নিয়ে ঐ কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন স্থানে তদ্বির করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত বছর স্টাডি ট্যুরে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তার কর্মকা- নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একজন কর্মকর্তাকে টার্গেট করে ফরমায়েশী তদন্ত পরিচালিত হয়েছে। যে কারণে ভুয়া একাউন্টে প্রায় ৩ কোটি টাকা প্রেরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণকারী নার্সিং অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সরোয়ারকে তদন্তের আওতায় নেয়া হয়নি। তাকে নির্দেশ প্রমাণের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে রিপোর্টে।

সূত্র মতে, বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বদলি আতংক বিরাজ করছে। এ আতংক ছড়িয়ে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত ক'মাসে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রোগ্রাম ম্যানেজার (পিএম) খায়রুল কবির এবং সহকারী পরিচালক শিরিনা আক্তার ছাড়াও বেশ কয়েকজন মহাপরিচালকের বদলি বাণিজ্যের অন্যতম সহযোগী। তাছাড়া তন্দ্রা শিকদারের বোনের স্বামী জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক নরেশ চন্দ্র ম-লের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে যোগ্যতা না থাকলেও নার্স থেকে মেট্রন এবং প্রভাষকসহ বিভিন্ন উচ্চ পদে বদলি হবার সুযোগ পাওয়া যায় বলে চাউর রয়েছে।

এদিকে সিনিয়র স্টাফ নার্স আলো রানী হালদারকে প্রভাষক পদে পদায়নে অনিয়মকে হার মানিয়েছে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা। জানা গেছে, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হারুন অর রশীদ রুবেলকে প্রভাষক হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে অধিদফতরের শৃঙ্খলা শাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অথচ রুবেলের বিরুদ্ধে বিগত সময়ে শৃঙ্খলা বিরোধী বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ মতে, নার্সিং কলেজে অধ্যয়নকালে একটি মামলায় তিনি হাজত খেটেছিলেন। পারিবারিক জীবনেও রয়েছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। তবে তিনি এখন ডিজির খাসলোক হিসেবে অধিদফতরে বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।

আরেক ক্ষমতাধর এবং ডিজির সকল অপকর্মের সহযোগী হলেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার (পিএম) খায়রুল কবির। খায়রুল বস্নক পোস্ট দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হলেও ম্যানেজ করেই প্রথম শ্রেণীর পদ বাগিয়ে রেখেছেন। এমনকি ময়মনসিংহে বিভাগীয় কন্টিনিউ ইন এডুকেশন সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে তার পোস্টিং থাকলেও তিনি ১৯৯২ সাল থেকেই ঢাকায় প্রেষণে নিয়োজিত রয়েছেন। সূত্র মতে, প্রতিষ্ঠানের অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) সমুদয় তহবিল এ কর্মকর্তার দায়িত্বে। ডিজিকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে খায়রুল ভুয়া বিল-ভাউচারে তহবিলের অর্থ হরিলুট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র মতে, সংস্থার ৭৭ ক্যাটাগরির ৩৫ হাজার ৮৫৫ জনবলের মধ্যে ৭ হাজার ৫৩৬টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী অতিরিক্ত মহাপরিচালকের একটি পদ শূন্য রয়েছে এক বছরের অধিক সময় ধরে। একই সময় ধরে শূন্য রয়েছে পরিচালকের ২টি এবং সহকারী পরিচালকের ৮টি পদ। ৬ মাসের অধিক সময় ধরে শূন্য রয়েছে উপ-পরিচালকের ৩টি পদ। তাছাড়া প্রথম শ্রেণীর ৩৬৬ জনের মধ্যে আছেন ১৭৮ জন। এর মধ্যে নিয়মিত ১৬ জন। বাকি ১৬২ জন নিজ বেতনে চলতি দায়িত্বে কর্মরত আছেন। ১৮৮টি পদ শূন্য আছে। অন্যদিকে মিডওয়াইফ অনুমোদিত পদসংখ্যা ২ হাজার ৪শ জন। অথচ কর্মরত আছেন মাত্র ৫শ ৫০ জন। এ পদে তিন-চতুর্থাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ৮শ ৫০টি শূন্য পদ রয়েছে। একইভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। অথচ এসব শূন্য পদে পদায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। পাশাপাশি সিলেকশন গ্রেড না দেয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠেছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৪
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৮
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬১৫৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.