নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ৩০ পৌষ ১৪২৪, ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৯
রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সঙ্কট । জনজীবনে দুর্ভোগ
স্টাফ রিপোর্টার
এমনিতেই তীব্র শীত এর মধ্যে ভয়াবহ গ্যাস সঙ্কটে রাজধানীবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সকাল ৬টায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আসে রাত ১২টায়। সারাদিন গ্যাসের দেখা মেলে না। রাত জেগে রান্না করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন গৃহিণীরা। এ দুর্ভোগ কবে নাগাদ শেষ হবে তারও কোনো উত্তর তাদের কেউ দিতে পারছে না। গ্যাসের এ সঙ্কট রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকাতেই রয়েছে। শীতকাল ঘিরে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সংসদ ভবন এলাকার আশপাশ মনিপুরী পাড়া, ফার্মগেট, গ্রিন রোড, মোস্তফা রোড, মতিঝিল, মালিবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও, মানিকনগর এলাকায়ও গ্যাসের তীব্র সঙ্কট শুরু হয়েছে। রাজধানীতে প্রায় সব এলাকাতেই গ্যাস সরবরাহের চিত্র একই। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় দিনে বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। শীতে খাবার পানি পর্যন্ত গরম করা যাচ্ছে না। গভীর রাত জেগে গৃহিণীদের রান্না করতে হচ্ছে। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। যারা রাত জেগে রান্না করতে পারছেন না তাদের বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। আবার হোটেলগুলোতেও খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। বাসি খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে অনেকেই পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের বাসি খাবার খেয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। গ্যাস সমস্যার কারণে কেউ কেউ কেরোসিন ও ইলেকট্রিক চুলা কিনছেন। কেউ বা গ্যাস সিলিন্ডার কিনছেন। গ্যাস সিলিন্ডারের সাথে গ্যাসের চুলার বিক্রি বেড়ে গেছে। শুধু বাসাবাড়িতেই সমস্যা হচ্ছে না, সিএনজি পাম্পগুলোতেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এতে একবার গ্যাস নিতে ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সিএনজিচালিত গাড়িগুলোর। এ কারণে সিএনজি পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যাচ্ছে।

রাজধানীবাসীর এ দুর্ভোগ যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রতি বছরই শীতের শুরুতে এ সঙ্কট শুরু হয়, স্থায়ী হয় পুরো শীতজুড়ে। এ দুর্ভোগের কারণ নিয়ে বরাবরই গ্যাস খাতের সংস্থাগুলোর পরস্পরের পক্ষে-বিপক্ষে দোষারোপ করতে দেখা যায়। যেমন, গ্যাস বিতরণের সাথে জড়িত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তিতাস থেকে বলা হয় চাহিদা অনুযায়ী তাদের গ্যাস সরবরাহ করছে না পেট্রোবাংলা। আবার পেট্রোবাংলা থেকে তিতাসের পাইপলাইনকে দোষারোপ করা হয়। বলা হয় গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইনগুলো অনেক পুরনো এবং ব্যাসে কম থাকায় শীতকালে বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যায় না।

যাত্রাবাড়ী এলাকার গ্যাস সঙ্কটের ভয়াবহতা তুলে ধরে কয়েকজন গৃহিণী জানিয়েছেন, প্রতিদিন ভোর ৬টায় পাইপলাইনে গ্যাস চলে যায়, সারা দিন আর গ্যাস আসে না। সন্ধ্যায় গ্যাস এলেও অনেক দিন তা রাত ৯টায় চলে যায়। গ্যাসের এ দুর্ভোগে এ এলাকার গৃহিণীরা রাত জেগে রান্না করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেকেই শীতকে উপেক্ষা করে ভোর ৩টা-৪টা থেকে দিনের রান্না শুরু করেন। ৬টার আগেই রান্না শেষ করতে হয়। অন্যথায় উপোস থাকতে হয়। গ্যাসের এ সঙ্কটের কারণে সামর্থ্যবানরা বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাস ব্যবহার করছেন। কেউবা কেরোসিনের চুলা কিনে কোনো রকম রান্নার কাজ সারছেন। তবে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে স্কুলগামী ছোট শিশুদের নিয়ে। তাদের বাসি খাবার খেয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে।

নাম জানাতে অনিচ্ছুক মিরপুরের এক বাসিন্দা বলেন, প্রতি মাসেই গ্যাস বিল পরিশোধ করেন। এক মাস বকেয়া পড়লেই গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু দিনের পর দিন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, এ জন্য কর্তৃপক্ষের কোনো অনুসূচনা নেই। গ্রাহকের দুঃখ দেখার যেন কেউ নেই।

খিলগাঁও এলাকার এক বাসিন্দা জানান, এ এলাকার নতুন করে গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টার পর গ্যাস চলে যাচ্ছে। আর আসছে বেলা ২টা-৩টায়। এ সময়ের মধ্যে সামান্য পানিও গরম করা যায় না। উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা জানান, আগে কখনো এ এলাকায় গ্যাস সঙ্কট ছিল না। গত এক মাস যাবৎ গ্যাস সমস্যা এ এলাকার নতুন সঙ্কট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বেলা ১১টার পর থেকে দুপুর পর্যন্ত এবং কখনো কখনো রাতেও এ এলাকায় গ্যাস থাকে না। গ্যাসের চাপ কম থাকায় সামান্য খাবারও গরম করা যায় না।

গ্যাস সঙ্কটের ভয়াবহতা সম্পর্কে গে-ারিয়ার এক বাসিন্দা বলেন, রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সরবরাহ লাইনে গ্যাস থাকে। এর মধ্যে রান্না করতে না পারলে হয় হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হবে, না হয় উপোস থাকতে হবে। আর দিনে মেহমান এলে সামান্য আপ্যায়ন করা যায় না। এতে মানসম্মান নিয়ে টানাটানি অবস্থা। মেহমানকে আপ্যায়ন করতে হয় হোটেলে নিয়ে। তিনি বলেন, একোতো বাড়িভাড়ার সাথে দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিল বাড়ানো হচ্ছে। তিনশ টাকার বিদ্যুৎ বিল এখন ক্ষেত্র বিশেষ দেড় হাজার টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। সব মিলে রাজধানীতে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে এখন রাজধানীতে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ২৩
ফজর৩:৫৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১০
সূর্যোদয় - ৫:২৪সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০৬১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.