নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ৩০ পৌষ ১৪২৬, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
জনতার মত
খুন-ধর্ষণের মহোৎসব থামবে কবে!
আনোয়ারুল হক নিজামী
সম্প্রতি আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী কুর্মিটোলায় ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আটক ধর্ষক সিরিয়াল রেপিস্ট মজনু (৩০) কে রাজধানী শেওড়া পাড়া থেকে গত ৮ জানুয়ারি গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এখন প্রশ্ন হলো কতো ধর্ষণ-খুন হয় কয়জন দোষই বা গ্রেফতার হয়? ঢাবি ছাত্র-ছাত্রীদের কঠোর আন্দোলনের ফসল মজনু গ্রেফতার হলো তড়িঘড়ি করে? তাহলে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে হলে আন্দোলন করতে হবে? নারীর নিরাপত্তা বিধানে সরকারের কোনো দায় নেই? আন্দোলন করার সামর্থ কয়জনের থাকে? দেশে একের পর এক খুন, ধর্ষণ ও হত্যার এক অরাজকতা চলছে। প্রতিদিন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এসব খবর ভাইরাল হতে দেখা যাচ্ছে।

বেড়েছে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও। এদিকে আইন-শৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিসংখ্যানে অপরাধের হার কমলেও বেড়েছে ধর্ষণ ও 'নৃশংস' হত্যা। সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে খুন কমলেও ঘটছে সামাজিক অপরাধ। গড়ে প্রতিদিন এক ডজন ধর্ষণের অভিযোগের তথ্য মিলেছে। সবচেয়ে বেশি যৌন পীড়নের শিকার হচ্ছে শিশু ও কিশোরীরা। অপরাধ ও সমাজতত্ত্ববিদরা বলছেন, আকাশ সংস্কৃতির নগ্ন আগ্রাসন, বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব, মনোসামাজিক অসুস্থতা এবং বিচারহীনতা ও আইনের দীর্ঘসূত্রিতা প্রবণতার কারণে ঘটছে 'হিংস্র' হত্যা আর ধর্ষণ।

গত কয়েক বছর স্টার-জলসা, জি বাংলা, সনি আট, ক্রাইম পেট্টোল, কালার বাংলা, স্টার প্লাসসহ বেশ কিছু চ্যানেলে অপরাধ প্রবণতা কলা-কৌশল এর প্রশিক্ষণ সেন্টার হিসেবে কাজ করছে। যা দেখে চট্টগ্রামের এক দেবর তার ভাবীকে ক্রাইম পেট্টোল এর অনুকরণে খুন করে। আর স্টার জলসার নায়িকা পাখি ও কিরণমালা কথা সবার জানা আছে। স্বামী-স্ত্রী ঘর ছাড়া-ছাড়ি থেকে শুরু করে পারিবারিক কুটনামী ও অশান্তির নরক হিসেবে দেখা যায়। ফলে চারদিকে অশান্তির লেলিহান শিখা দাউদাউ করে জ্বলছে। এই সব নিয়ন্ত্রণ না করলে অপরাধ প্রবণতা আরো বাড়বে।

এর প্রতিকারে দ্রুত বিচারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিতে হবে।

পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে ব্যক্তিগত অস্থিরতা দূর করতে হবে। পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। 'নৃশংস' হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা আগেও ঘটেছে, তবে এখন যে নিষ্ঠুরতা বা নতুন প্রক্রিয়ায় হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। ভিন্ন দেশের সংস্কৃতির প্রভাবের সঙ্গে অপরাধ করে পার পাওয়ার সংস্কৃতি একটি বড় বিষয়।

উচ্চ আদালতের রায়ের বিচার বাস্তবায়ন দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

গত ২৬ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে ফ্লাইওভারের ওপর মোটরসাইকেলচালক মিলনকে একটি মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের জন্য নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ২৭ আগস্ট যশোরের সাতমাইল এলাকায় হাসানুজ্জামান নামের এক গাড়িচালকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১৮ আগস্ট পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় এনে ধর্ষণের পর কমলাপুরে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় মাদরাসার ছাত্রী আসমা আক্তারকে। গ্রেপ্তারের পর তার কথিত প্রেমিক বাঁধন জবানবন্দিতে বলেছে, ধর্ষণের কারণে কান্নাকাটি করেছিল আসমা। এ কারণে তাকে হত্যা করে সে। নেত্রকোনার পূর্বধলায় কলেজ ছাত্রী ইয়াসমিন আক্তারকে চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করে আলমগীর নামের এক দুর্বৃত্ত। ওই পাশবিকতায় গত ২৫ আগস্ট হাসপাতালে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। আইনের রক্ষক পুলিশের বিরুদ্ধেও উঠেছে আলোচিত ধর্ষণের অভিযোগ। খুলনার জিআরপি থানার ভেতরে এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে থানার ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ৪ আগস্ট ধর্ষিতা আদালতে মামলা করেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্যাতনসংক্রান্ত প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১১টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত ১১টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) গত আড়াই বছরে ৩৮ হাজার ১২৪ জন নারী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৪২৮ জনই যৌন পীড়নের শিকার হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯শে জুলাই পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতেই চিকিৎসা নিয়েছে তিন হাজার ৬০১ জন নারী ও শিশু। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৫৭১ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই হয়েছে ৪৯৬ জন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, চলতি বছরের ছয় মাসে ৩৯৯ শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর মৃত্যু হয়েছে ২৬ শিশুর। ২০১৮ সালে পুরো বছরে ৩৫৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এর মধ্যে মারা যায় ২২ জন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে, ২০১৮ সালে মোট ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৭৩২টি। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৬৩ জনকে। ধর্ষণ চেষ্টার পর হত্যা করা হয়েছে তিন নারীকে। দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২০৩টি। শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৮১টি। গত জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৯১টি।

দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন হত্যা, ধর্ষণসহ প্রতিটি অপরাধের ঘটনাই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ধর্ষক, খুনিসহ আসামিরা ধরা পড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ সব সময়ই সচেষ্ট রয়েছে।

অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে অপরাধের শাস্তি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে অপরাধ খুন ধর্ষণ দমন করা সম্ভব হবে। অন্যথায় কাজির গরু কেতাবে থাকবে গোয়ালে নয়।

আনোয়ারুল হক নিজামী : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ৪
ফজর৩:৪৮
যোহর১২:০৩
আসর৪:৪৩
মাগরিব৬:৫৩
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৩১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.