নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ৩০ পৌষ ১৪২৬, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
রাজশাহীতে খেজুর গুড়ে চিনি ও চিটা লালীতে প্রতারিত হচ্ছে প্রকৃত গ্রাহকরা
রাজশাহী থেকে নাজিম হাসান
রাজশাহীতে খেজুর গুড়ে মেশানো হচ্ছে রং চিনি ও আখের চিটা লালী। জেলার পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাঘা, চারঘাট, পবা, গোদাগাড়ী ও তানোরসহ সর্বত্র এভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি চিনি ও চিটা লালী মিশ্রিত খেজুর গুড় উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে করে খেজুর গুড়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা। তবে এর আগে (১৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার) বাঘা উপজেলায় খেজুর গুড় তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়ে সেকানে অভিযান চালায় স্থানীয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এবং সেখানে চিনি গালাই করে ভেজাল গুড় তৈরি করা হচ্ছিল।

এ সময় কারখানা মালিক মোস্তফা হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদ-সহ ধ্বংস করা হয় বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড়। জানাগেছে, শতি মৌসুমে বাজারে চিনি ও চিটা লালীর দামের চেয়ে খেজুর গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় অন্তত পাঁচ-সাত বছর ধরে গাছিরা এ প্রক্রিয়ায় ভেজাল খেজুর গুড় উৎপাদন ও বিক্রি করে আসছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে যেসব খেজুর গুড় এখন পাওয়া যাচ্ছে, তার শতকরা ৮০ ভাগই চিনি মেশানো। গাছিরা জানান, শীত যতো বেশি পড়ে, খেজুর গাছ থেকে তত বেশি রস সংগৃহীত হয়। এবার শীতের তীব্রতা শুরু থেকেই অনেক কম। ফলে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের পরিমাণও কম হয়েছে। আবার আগের মতো ঝোঁপ-ঝাড় না থাকায় খেজুর গাছও কমেছে।

পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ রোপণ করা না হলেও ঝোঁপ-ঝাড়ের সঙ্গে ব্যাপক হারে খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে আগের চেয়ে রস সংগ্রহের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাজারে গুড়ের চাহিদা অনেক বেড়েছে। চাহিদার সঙ্গে যোগান ঠিক রাখতে গাছিরা খেজুর রসের সঙ্গে চিনির মিশ্রণে বেশি গুড় তৈরি করছে। গাছিরা জানান, খেজুর রস গাছ থেকে সংগ্রহ করে এক কেজি গুড়ে পরিণত করতে যে পরিমাণ খরচ হয়, বর্তমান বাজার দামে বিক্রি করে তেমন খুব একটা লাভ হয় না। এর অন্যতম কারণ হলো জ্বালানির দামও বেড়েছে। আর এ কারণেই অধিকাংশই কৃষক রস জাল করার সময় তাতে চিনি ও চিটা লালী মিশিয়ে সেগুলো খেজুর গুড়ে পরিণত করছে। দুর্গাপুরের হাট কানপাড়া গ্রামের বুলবুল হোসেন জানান, শতকরা এখন ৯৯ জনই খেজুর রসের সঙ্গে চিনি চিটা লালী মিশিয়ে গুড় তৈরি করছে।

এতে তাদের বাড়তি আয় হচ্ছে। বাঘার নুরুল ইসলাম নামের এক গাছি জানান তার গুড় বাজারে বিক্রি হচ্ছে বেশি দামেই। ফলে তিনি চিনি ও চিটা লালী না মিশিয়ে আসল গুড়ই বিক্রি করছেন। পুঠিয়ার পাইকারী ব্যবসায়ী আলম হোসেন জানান, হাট-বাজারে এখন প্রায় সব গুড়েই গাছিরা চিনি ও আখের চিটা লালী মিশিায়ে থাকে।

এটি ক্ষতিকারক না হলেও ভোক্তারা হচ্ছেন প্রতারিত। কারণ ভোক্তারা খেজুর গুড় আসল মনে করেই বাজার থেকে সংগ্রহ করছেন। কিন্তু তাতে যে চিনি আখের চিটা ও লালী মেশানো থাকছে তা তারা টের পাচ্ছেন না। ফলে গুড়ের দামে চিনি ও আখের চিটা লালী কিনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা দিয়ে। এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর বলছেন, পুঠিয়া, বাঘা, চারঘাটে সবচেয়ে বেশি খেজুর গুড় উৎপাদন হয়।

এ ছাড়াও জেলার দুর্গাপুর, বাগমারা, পবা, গোদাগাড়ী ও তানোর এলাকায় গুড় উৎপাদন হয়। যা শীতকালে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। তবে খেজুর গুড়ের সঙ্গে চিনি মেশালে স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। খেজুর গুড় খেজুর গুড় হিসেবেই বাজারজাত করা উচিত। গুড়ের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে সেগুলোও গুড় হিসেবে বিক্রি করায় ভোক্তারা প্রতারিত হয়। কাজেই এ ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৪
ফজর৪:১৩
যোহর১২:০৪
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৩৬
এশা৭:৫৩
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬৬৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.