নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ৩০ পৌষ ১৪২৬, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
রাণীনগর-কালীগঞ্জ সড়কের উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
নওগাঁ থেকে মো. আবু বকর সিদ্দিক
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পূর্বাঞ্চলগুলো নতুন বছর ও মুজিব শতবর্ষে যুক্ত হতে পারছে না নতুন রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ সড়কের সঙ্গে। নওগাঁর জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক এটি। চলতি বছরের শুরুতেই টেন্ডারের মাধ্যমে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর অবহেলার কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগের। ২২কি.মির মধ্যে যে ৭কি.মি রাস্তায় বালি ও ইটের খোয়া দেয়া হয়েছে তাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সূত্রে জানা গেছে, রাণীনগর থেকে কালীগঞ্জ সড়কটি মোট ২২কিলোমিটার। একনেকে রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ রাস্তাটি প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের জন্য প্রায় ১শত কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। আর চলতি বছরের শুরুর দিকে দরপত্রের মাধ্যমে ৩টি সেতু, ২৩টি কালভার্ট নির্মাণ ও সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। কাজের শুরুতেই অগ্রগতি ভালো থাকলেও বর্তমানে কাজের কোন অগ্রগতি নেই। ২২ কি.মি. সড়ক ও ২৩টি কালভার্টের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৪কোটি টাকা আর ৩টি সেতুর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪১কোটি টাকা। ৩টি সেতুর একটিরও অবকাঠামো ও পার্শ্ব রাস্তার কাজ এখনো শেষ হয় নাই। অপরদিকে ২৩টি কালভার্টের মধ্যে ৮-১০টি কালভার্টের কাজ কোনমতে শেষ হয়েছে। ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন ও স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেয়েছে। কাজের শুরু থেকেই নানা কারণে কাজ বন্ধ হয়েছে বহুবার। মোট ২২কিলোমিটারের মধ্যে খাঁনপুকুর থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত মাত্র ৭কিলোমিটার রাস্তার পাকা তুলে সবেমাত্র ইট ও বালি বিছানো হয়েছে। আর ৭কিলোমিটারের কোথাও কোথাও পুরনো পাথরই দেয়া হয়েছে। পুরো রাস্তাটি প্রশস্তকরন করে মোট ১৮ফুট করার কথা থাকলেও রাস্তার কিছু অংশের প্রশস্তকরন করা হলেও অবশিষ্ট রাস্তার কোথাও এখনোও হাত দেয়া হয় নাই। অপরদিকে হাতে গোনা কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও বাকিগুলো নির্মাণের কোন প্রস্তুতি নেই। স্থানীয়রা জানায় দীর্ঘদিন সড়কটিতে কোন সংস্কার না করায় বর্তমানে তা চলাচলের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দক। চলাচল করতে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে। কোন রোগী এই সড়ক দিয়ে চলাচল করলে আরো বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান উপজেলা খাদ্যগুদামে কিংবা অন্যান্য স্থানে নিয়ে যেতে পারছে না। এছাড়াও সড়ক ব্যবস্থা খারাপ বলে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই চলাচল করতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। আবাদপুকুর বাজারের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন আমরা ভেবেছিলাম নতুন বছর ও মুজিব শতবর্ষে উপজেলার পূর্বাঞ্চলটি উন্নয়নের নতুন মহাসড়কে যোগ দেবে। কিন্তু সড়কের কাজের যে অবস্থা তাতে আরো কয়েকমাস চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে এই অঞ্চলের মানুষকে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ১ দিন কাজ করলে আর ৩মাস কোন খবর থাকে না। আমরা জানি না কোন কারণে এই সড়কটির কাজে এমন ধীরগতি। এছাড়াও জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধানের হাট আবাদপুকুরে চলাচল করার জন্য এটিই একমাত্র প্রধান সড়ক হওয়ায় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের লোক পড়েছে চরম বিপদে। এছাড়াও সড়কের যে অংশটুকুর কাজ শুরু করা হয়েছে তাতেও চরম অনিয়ম আর দুর্নীতি করা হচ্ছে। এই জনপদের লাখ লাখ মানুষকে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ও প্রকল্পের সহকারি প্রকৌশলী মো. হুমায়ন কবীর বলেন বিভিন্ন কারণে এই সড়কের কাজ বহুবার বন্ধ রাখা হয়েছিলো। আবার পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে। কাজের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমরা অল্প অল্প করে কাজ সম্পন্ন করবো। কারণ এক সময়ে পুরো সড়কটি উল্টে দিলে দুর্ভোগ আরো বেশি হবে। আর যেটুকুর কাজ করা হয়েছে তাতে কোন অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি করা হয়নি। দরপত্রে যে ভাবে আছে আমরা তার বেশিও করবো না কমও করবো না। নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হামিদুল হক বলেন দীর্ঘদিন যাবৎ এই সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ।

সেতু ও কালভার্টের কাজের অগ্রগতি ভালো হলেও সড়ক সংস্কার কাজে ঠিকাদারের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে অগ্রগতি একবারেই নেই। আগামী বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজটি শেষ হবার কথা থাকলেও তা সম্ভব নয়। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল কাজ শেষ করার জন্য নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে। নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম বলেন কিছু কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদারদের জন্যই সরকারের মেগা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নির্মাণ কাজ পিছিয়ে পড়ছে। তেমনিভাবে এই রাণীনগর-কালীগঞ্জ সড়কের কাজেও একই অবস্থা। সড়কের এই অবস্থার জন্য জনগণ আমাকে ও আমার পরিবারকে গালমন্দ করছে। খারাপ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে প্রতিনিয়তই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী থেকে শুরু করে যানবাহন চলাচলে। প্রভাবশালী ঠিকাদারের গাফিলতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবহেলার কারণেই আজ সড়কটির বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরোও বলেন কতিপয় মহলকে ম্যানেজ করে একই ঠিকাদাররা একাধিক মেগা প্রকল্পগুলোর দায়িত্ব নিয়ে সেগুলোর কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করে অন্য কাজে খরচ করে এবং বিদেশে পাচার করে। আর এই সব উন্নয়ন মূলক কাজ করতে এসে বছরের পর বছর সময় পার করছেন। আর ঠিকাদারের এই সব অপকর্মের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দেশের নিরীহ জনগনকে। অত্যন্ত প্রভাবশালী এই সব ঠিকাদারদের কাজগুলো মনিটরিং করার জন্য একটি মনিটরিং দল ও টার্সফোর্স গঠন করে তাদের কাজ কঠোরভাবে মনিটরিং করা দরকার। সময়মতো উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করতে না পারলে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তাহলে প্রতিবছর উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা সরকারের শত শত কোটি টাকার কিছু অংশ দৃশ্যমান উন্নয়নে পরিণত হবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২৪
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১১
আসর৪:০৪
মাগরিব৫:৪৩
এশা৬:৫৮
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:৩৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৪২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.