নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ৩০ পৌষ ১৪২৬, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
টঙ্গীতে আবর্জনা ও ময়লা পানিতে তলিয়ে গেছে ইজতেমা ময়দান
টঙ্গী প্রতিনিধি
বিশ্ব তাবলীগ জামাতের শুরা সদস্য, কাকরাইল মসজিদের খতিব মাওলানা যোবায়ের অনুসারিদের আখেরি মোনাজাত শেষ হতে না হতেই আবর্জনা, বাথরুম ও ড্রেনের ময়লা পানিতে তলিয়ে গেছে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের বিশাল এলাকা। রোববার আখেরি মোনাজাতের পর মূলমঞ্চসহ ময়দানের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে ইজতেমায় ব্যবহৃত টয়লেট ও শিল্প এলাকার বর্জ্যযুক্ত অপরিষ্কার পানিতে। ইজতেমা ময়দান জুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ, মূল প্যান্ডেলের অনেকাংশের ছামিয়ানা ছেঁড়া দেখা গেছে।

প্রথম পর্বে অংশ নেয়া তাবলিগ মুসলি্লরা জানান, ময়লা আবর্জনায় সুয়ারেজ লাইন বস্নক হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি ময়দানে ঢুকতে থাকে। ময়দানের ৭ নম্বর টয়লেট ভবনের পাশে ড্রেনের ম্যানহোল উপচে পানি প্রথমে ময়দানের ৪১, ৪২ ও ৪৩ নম্বর খিত্তায় প্রবেশ করে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর কর্মীরা এসে দুটি পাম্প চালু করে পাইপের সাহায্যে পানি অন্যত্র অপসারণের চেষ্টা করেন। তাদের চেষ্টার ফলে পানি ৪১ নং খিত্তায় সীমাবদ্ধ থাকে। রাতে ওই খিত্তার মুসলি্লরা অন্যান্য খিত্তায় আশ্রয় নেন। কিন্তু রোববার দুপুর থেকে পানি প্রবেশ করে মুহূর্তের মধ্যে পানি ইজতেমা ময়দানের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মোনাজাতের পরে সুয়ারেজ লাইনের ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ময়দানের ৮৬, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খিত্তাসহ আশপাশের খিত্তাগুলো প্লাবিত করে।

গতকাল সোমবার ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, ইজতেমার মূলমঞ্চসহ আশপাশের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তাবলিগের মুসলি্লরা তাদের বেডিংপত্র অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। অনেকে রাস্তা ও ময়দানের পশ্চিম পাশের উঁচু টিলায় বিদেশীদের কামরা এলাকায় আশ্রয় নেন। সকাল ১১টার দিকে গাজীপুর সিটিকর্পোরেশনের পয়ঃনিষ্কাশনের কর্মীরা ২য় পর্বের ইজতেমার জন্য পয়ঃনিষ্কাশনের কাজ শুরু করে। মূল মঞ্চের চারিপাশে ছোট ছোট গর্ত করে টয়লেট করার চিহ্ন পাওয়া গেছে। টয়লেটের কমোডে কাপড় ও বস্তা পেঁচিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। বেশ কিছু খিক্তার বাঁশ খুলে আগুন পোহাচ্ছে মুসলি্লরা। মাইকের তার ও সামিয়ানার তের্পাল ছিন্নবিছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে থাকতেও দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি করপোরেশনের এক পয়ঃনিষ্কাশনের কর্মী জানায়, টয়লেটের ময়লা পানি ও ফেলে রাখা ভাত,তরী-তরকারী অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র ফেলে যাওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার তাদের কাজ করতে বেশি কষ্ট হচ্ছে । এছাড়াও সুবিশাল প্যান্ডেলের অনেকাংশের লাখো মুসলি্লদের ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট, কাগজ, পলিথিন, বিছানার হোগলা ইত্যাদি ময়লা-আবর্জনায় সয়লাব হয়ে গেছে ইজতেমা ময়দান।

স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশের শিল্প এলাকার বর্জ্য ওই ড্রেন দিয়ে তুরাগ নদীতে গিয়ে পড়ে। ড্রেনটি মূল শিল্প এলাকা থেকে টঙ্গী পূর্ব থানার পাশ দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অতিক্রম করে টঙ্গী-আশুলিয়া বাইপাস (কামাড়পাড়া) সড়কের হয়ে তুরাগ নদে পড়েছে। ইজতেমা ময়দানের বহুতল টয়লেটের বর্জ্যও এই ড্রেন দিয়ে প্রবাহিত হয়। তারা আরও জানান, গত বছর প্রথম পর্ব ইজতেমা সমাপ্তির পর একই অবস্থা হয়েছিলো। এবারও তা হয়েছে। বাথরুমের কমোডের ভিতরে কাপড় ও বস্তার টোপলা ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে। মাইকের তার ছিড়া, ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়েছিলো।

এ ব্যাপারে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) আনিসুর রহমান জানান, ইজতেমা ময়দান হয়ে তুরাগ নদী পর্যন্ত সুয়ারেজ লাইনটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। গত তিন দিনের ইজতেমার বজ্র্যে ড্রেনটি বস্নক হয়ে পানি উপচে ময়দানে প্রবেশ করে। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ময়লা পানি অন্যত্র সেচে ফেলার ও ড্রেন পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, গতকাল বিকাল ৪টায় ইজতেমার প্রথম পক্ষের জিম্মাদাররা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন টঙ্গী অঞ্চলের কর্মকর্তাদের কাছে ময়দান ঝুজিয়ে দেন। টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আতিকুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ময়দানে গিয়ে সোয়ারেজ লাইনের ভিতরে যে গ্যাস জমা হয়েছিলো মেশিনের মাধ্যমে তা বের করা হয়েছে। পরে সিটি কর্পোরেশনের পরিছন্ন কর্মীরা লাইনের ভিতর থেকে ময়লা আবর্জনা বের করেছে।

ইজতেমার প্রথম পর্বের মিডিয়া সমন্বয়কারি মো. জহির ইবনে মুসলিম জানান, মুসলি্লরা ময়দানে থাকা অবস্থায় ময়লা পানি ঢুকে গেছে। এমনকি বড় বড় ওলামাদের খিত্তায়ও পানি উঠেছে। পরে তাদের বিদেশী মেহমানদের কামরায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ময়দানের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত করে টয়লেট, বাথরুমের কমোডের ভিতরে কাপর ও বস্তা ঢুকিয়ে রাখা এসব ঘটনা ইজতেমা চলাকালীন হয়নি। এগুলো তাদের হেনস্তা করার জন্য অন্য কেউ করে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রথম পর্বে রবিবারের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ২য় পর্বে মাওলানা সা্থদ আহমাদ কান্ধলবী এর অনুসারীদের পর্ব শুরু হবে ১৭ জানুয়ারি। ১৯ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০২০ এর বিশ্ব ইজতেমা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২৪
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১১
আসর৪:০৪
মাগরিব৫:৪৩
এশা৬:৫৮
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:৩৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৪৭৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.