নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ৩০ পৌষ ১৪২৭, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২
আধুনিক অর্থনীতি ও আইসিটি
মো. ফুয়াদ হাসান
আধুনিক অর্থশাস্ত্র যতটা বিস্তর, ঠিক ততটাই জটিল। আমাদের মতো সাধারণত পাঠক তো দূরের কথা, পেশাদার অর্থনীতিবিদদের পক্ষেও এর সবটার সাথে পরিচিত থাকা সম্ভব নয়। যদিও শতাব্দীকাল পূর্বে মুনীষী কার্ল মার্কসের পক্ষে অর্থশাস্ত্রের প্রায় সবটুকু পড়া সম্ভব হয়েছিল তার সারা জীবনের বিনিময়ে। জীবনের চাহিদা বা কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে আমাদের সকলেরই অর্থশাস্ত্রের খুঁটিনাটি জানতে হয়। সময়ের পরিক্রমায় পৃথিবীর প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে সবকিছু। পরিবর্তনের পথে পিছিয়ে নেই অর্থশাস্ত্রও। কালের বিবর্তনে সময়ের চাহিদায় পরিবর্তন হয়েছে অর্থশাস্ত্রেরও। ছোট পরিসরে চালু হওয়া অর্থবিদ্যাই ধ্যান-ধারণা আজ অন্তর্জাতিক রূপ নিয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের সাথে জড়িয়ে আছে কিছু কিংবদন্তির নাম, যারা অর্থনীতি পাঠকে দিয়েছেন আধুনিক প্রাণ। কিছুকাল পূর্বেও অর্থনীতিবিদ বলতে তেমন নামকরা কেউ ছিল না, তখন অর্থনীতি শাস্ত্রটা ছিল নৈতিক দর্শনের একটি শাখা মাত্র। এখন অর্থনীতি বলতে আমরা যা বুঝি, তা তখন ছিলই না, যা ছিল তাকে বলা হতো 'পলিটিক্যাল ইকোনমি।' সেই অর্থবিদ্যায় আজ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মার্কেন্টাইল, ফিজিওক্রাট, উদারপন্থী, সমাজতন্ত্র, ধনতন্ত্র, পুঁজিবাদ, মিশ্র বা খোলাবাজার সবই এই শাস্ত্রকে করেছে পরিপক্ব। এসব কিছুকে ছাপিয়ে আজ আমাদের আধুনিক অর্থশাস্ত্রে যোগ হয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি। যা গাণিতিক বিশ্লেষণ ও হাজারো মতাবাদের নীরস পাঠকে করেছে উপভোগ্য ও পাঠ্য। বর্তমান পৃথিবীতে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র। প্রযুক্তি অধুনিক জনজীবনকে করেছে আনন্দময়। সমপ্রতি দৈনিক কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবর শেষে বিশ্বের ৪৬৬ কোটি মানুষকে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাং বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৯ শতাংশ ইন্টারনেটের আওতায়। বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৯১ শতাংশই মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৪৬৬ কোটি মানুষের মধ্যে ৪২৮ কোটি মানুষ মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করে। সক্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ৪১৪ কোটি মানুষের মধ্যে ৪০৮ কোটি মানুষ মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া সেবা গ্রহণ করে (সূত্র : বণিক বার্তা ২২/১২/২০)। বিশ্বব্যাপী আধুনিক অর্থনীতিকে জনপ্রিয় ও গ্রহণীয় করতে আইসিটি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা হচ্ছে। উইকিপিডিয়ার তথ্য বলছে, বিশ্বব্যাপী আইসিটি খাতে খরচের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার এবং প্রতি বছর তা ৫% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি ১৫ বছরে এই খরচের মূল্য দ্বিগুণ হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন, শিল্প ব্যবস্থা, বাণিজ্যসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্র আজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, পাওয়ার সিস্টেমসহ বহুমুখী প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। যা অর্থনীতির কর্মকা-কে করেছে সহজ ও অধিক উৎপাদনশীল। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে মোকাবিলা করে বাড়তি চাহিদার মতো উৎপাদনও সম্ভব হচ্ছে এই প্রযুক্তির বদৌলতে। দৈনিক খবরের প্রতিবেদন বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে ২০৩৫ সাল নাগাদ উন্নত অর্থনীতিগুলোর শ্রম উৎপাদনশীলতা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। এক্ষেত্রে সুইডেনে প্রায় ৩৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র ৩৫ শতাংশ, জাপান ৩৪ শতাংশ, অস্ট্রিয়া ৩০ শতাংশ, জার্মানি ২৯ শতাংশসহ আরো কিছু দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় সুবিধার ভাগী হবে (সূত্র : বণিক বার্তা ১৯/১২/২০)। শুধু তাই না ই-কমার্স, ই-ব্যাংকিংসহ সকল মিডিয়ায় দ্রুত উন্নতি করছে অধুনিক অর্থনীতি। জার্মান ওয়েব পোর্টাল স্ট্যাটিস্টার হিসাবে বলেছিল, ২০২০ সালে বৈশ্বিক ই-কমার্স ব্যবসার বাজারের আকার দাঁড়াবে দুই লাখ কোটি ডলার। সবচেয়ে বড় বাজার হবে চীনের। এরপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাড জানায়, ২০১৮ সালে বিশ্বের ১৪০ কোটির বেশি মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করেছে। যা বিশ্বের জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ। এ কেনাকাটা আগের বছরের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি অনলাইন কেনাকাটা করেছে চীনের মানুষ। যে সংখ্যা ৬১ কোটি। বিদেশি পণ্য কিনেছে বা আন্তঃসীমান্ত কেনাকাটা করছে বিশ্বের ৩৩ কোটি মানুষ। যা ২০১৮ সালের কেনাকাটার ২৩ শতাংশ। বিশ্বে আধুনিক অর্থনীতির জয়ের শোভাযাত্রায় পিছিয়ে নেই দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশও। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে থাকা বাংলাদেশও কৃষি খাত থেকে শুরু করে শিল্পের সর্বোচ্চ চূড়া অব্দি প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। যা একদিকে দেশের বাড়তি চাহিদা পূরণে কল্যাণকর, অন্যদিকে চলমান অর্থনীতির সহায়ক। ডিজিটাল অর্থনীতি বিকাশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে, ২০১০ সালে সারাদেশে একযোগে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়। এসকল কেন্দ্র থেকে প্রতিবছরে ৪ কোটি ৬৯ লাখ ২০ হাজার (প্রতি মাসে ৩৯ লাখ ২০ হাজার) সাধারণ মানুষ তথ্যপ্রযুক্তি সেবা নিচ্ছে। প্রতি মাসে এসব কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা ৪ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন (সূত্র : ইউআইএসসি সেন্সাস-২০১৩)। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, কোনো দেশে যদি ১০ শতাংশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তৈরি হয় তবে সেই দেশের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি ১.৩ শতাংশ বাড়ে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ৫ কোটি ৭ লাখ ৭ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল। এর মাধ্যমে ৭ লাখ মানুষের ইন্টারনেটভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ছিল। এদিকে ২০০৮ সালে মাত্র ২৪ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করত এবং ইন্টারনেটভিত্তিক কর্মসংস্থান ছিল নগণ্য। বর্তমানে বাংলাদেশ ১৬ কোটি মোবাইল সংযোগ রয়েছে। যা ২০১৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৬৯ হাজার। বাংলাদেশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৯৭ শতাংশ মোবাইলে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করে। করোনা মহামারী চলাকালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ধনীর অর্থের নিরাপদ আশ্রয় বা সেবা গ্রহণকারীর শেষ ঠিকানা যাই বলুন না কেন, একটি দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকের গুরুত্ব কিন্তু কম নয়। দেশের অর্থ প্রবাহের মাঝে সমতা বা পুঁজি গড়তে বরাবরই ব্যাংক প্রশংসার অংশীদার। আধুনিক অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় কিঞ্চিৎ পিছিয়ে নেই ব্যাংক খাত। দেশের ১০ হাজার ১০৯ শাখার মধ্যে ৮ হাজার ৮৯৯ ব্যাংক শাখাই অনলাইনের আওতায়। এর মধ্যে বিদেশি ব্যাংকগুলোর শতভাগ শাখা অনলাইনে। সরকারি ব্যাংকগুলো ৯৯ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৯৭ শতাংশ ও বিশেষায়িত সরকারি ব্যাংকগুলোর ২৫ শতাংশ শাখা অনলাইনের আওতায়। বাংলাদেশে ব্যাংকের তথ্য বলছে, ৯৫ শতাংশ শাখাগুলো অনলাইন সেবা চালু করেছে। ই-ব্যাংকিং সেবায় গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে গ্রাহক ছিল ২০ লাখ ৪০ হাজার। চলতি বছরের জুলাই শেষে মোবাইল বা অনলাইন ব্যাংকিং খাতে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ কোটি ২৫ লাখ ৭৩ হাজার, যা জুনে ছিল ৮ কোটি ৮৭ লাখ ৯৭ হাজার। শুধু তাই নয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও পিছিয়ে নেই আমাদের আধুনিক অর্থনীতির পথযাত্রা। বাংলাদেশে এরই মাঝে ৭ থেকে ১০ হাজার ফ্রিল্যান্সার সফটওয়্যার ডেভেলপার কর্তৃক প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে। বাংলাদেশে প্রায় ৪০০টি সফটওয়্যার ফার্ম, আইসিটি কোম্পানি তাদের উৎপাদিত সফটওয়্যার এবং আইসিটি সার্ভিসেস যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ৬০টি দেশে রফতানি হচ্ছে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) তথ্য মতে, ই-কমার্স খাতে প্রতি মাসে এখন প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। অর্থাৎ বার্ষিক লেনদেন এখন আট হাজার কোটি টাকার বেশি। সংস্থাটি আরো জানায়, গত বছর এ খাতে প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। চলতি বছরে লেনদেন এক বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের ই-কমার্সের লেনদেন ছিল প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এর আগের বছরে এটির আকার ছিল এক হাজার ৬০০ কোটি। আঙ্কটাডের দেয়া হিসাব মতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ই-কমার্স খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধিত সদস্য রয়েছে ১৩০০ জন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সদস্য কোম্পানি রয়েছে ১ হাজার ৩০০টি। এর মধ্যে ৬০টি কোম্পানিতে শেয়ার ও কোম্পানির বোর্ডে রয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা। দেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে অন্যতম একটি খাত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও। খাতটিতে কাজ করছেন অন্তত ৩৫ হাজার তরুণ-তরুণী। বর্তমানে বাংলাদেশে আইটি খাতে আয় ১০০ কোটি ডলার। ২০২১ সাল নাগাদ এ আয় ৫০০ ডলারে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে অর্থনীতির অগ্রগতির পাশাপাশি দ্রুত গতিতে বাড়ছে বেকারত্বের হার। করোনা মহামারীর ফলে যা আরো বেগমান হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তত ৬০ শতাংশ জনগোষ্ঠী তরুণ কর্মক্ষম। যাদের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছর। এত বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম মানুষের কর্মের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে দেশযন্ত্র। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস সংকটের কারণে বাংলাদেশে প্রতি চারজন যুবকের মধ্যে একজন কর্মহীন বা বেকার রয়েছে (২৭.৩৯%)। বেকারত্ব হারের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয়। সরকারি চাকরিতে শূন্য পদের সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮। করোনার কারণে গত ৬ মাস ধরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সব ধরনের নিয়োগ স্থগিত থাকায় এ সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। এসব পদে নিয়োগ পেতে অপেক্ষায় আছেন ২০ লাখের বেশি শিক্ষিত বেকার। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ডিগ্রি আছে এমন বেকারের সংখ্যা ৪ লাখ। এদিকে ই-কমার্স ব্যবহারকারীদের সিংহভাগের বয়স ১৮-৩৫ বছর। সুতরাং এ খাতে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ গড়ে উঠেছে। ই-ক্যাবের তথ্য মতে, ই-কমার্স খাতে গত কয়েক বছরে প্রায় ২০ হাজার উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, ই-বাণিজ্য বা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিকাশে অগামী তিন বছরের মধ্যে দেশে ৫ হাজার ই-কমার্স উদ্যোক্তা তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এখাতে অগ্রহী হচ্ছে উদ্যোক্তারা। এক্ষেত্রে নারীরাই এগিয়ে, ঘরে বসেই পরিচালানা করছেন তাদের ব্যাসায়িক যাবতীয় কাজ। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) তথ্য বলছে, এখন দেশে প্রায় ২০ হাজার ফেসবুক পেজে কেনাকাটা চলছে। এর মধ্যে ১২ হাজার পেজ চালাচ্ছেন নারীরা। এদিকে ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি পেশাজীবীর সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করা, আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় এবং জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৫ শতাংশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে আইসিটি বিভাগ। তাছাড়া আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যাংসিং, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ সহস্র কাজের সুযোগ গড়ে উঠেছে ই-বাজারে। সুতরাং একথা বলায় যায় দিবারাত্রি কাজের সুযোগ দেয়া ই-বাজার দেশের হাজারও কর্ম প্রত্যাশী তরুণদের আশার আলো। তবে আধুনিক অর্থনীতির অগ্রগতি আরো ত্বরান্বিত করতে এ খাতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে হবে। জালিয়াতি, প্রতারণা, হ্যাকের মতো ঘটনা আমাদের ই-জগতের নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে আশার আলো সমপ্রতি এস্তোনিয়াভিত্তিক ই-গভর্নেন্স একাডেমি ফাউন্ডেশনের করা জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সূচকে ৮ ধাপ উন্নতি করছে বাংলাদেশ। ১৬০টি দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি করা সূচকে ৭৩ থেকে ৬৫তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এই সূচকে ৪৪ দশমিক ১৬ স্কোর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় (সূত্র : ডেল্টা টাইমস ২৫/১২/২০)। বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প, সেবা, বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে চলছে আধুনিক অর্থনীতি। আজ কৃষিতে আধুনিকতা এত উপরে যে অ্যাপসের মাধ্যামে কৃষকদের নানামুখী সমস্যার সমাধান দেয়া হচ্ছে, এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নতুন নতুন কলাকৌশল ও জাত উদ্ভাবন হচ্ছে। শিল্পে রোবোট্রিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার হচ্ছে। উৎপাদনের সর্বত্র আজ আধুনিক অর্থনীতির পদচারণা। সর্বোপরি একটি কথা বলতেই হয়, আধুনিক অর্থনীতি হয়ে উঠুক আমাদের ধাবমান অর্থনীতির প্রাণশক্তি ও হাজার বেকারের সোনালি আগামীর পথযাত্রী।

মো. ফুয়াদ হাসান : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২৬
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১১
আসর৪:০৫
মাগরিব৫:৪৪
এশা৬:৫৯
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:৩৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৮৮৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.