নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ৩০ পৌষ ১৪২৭, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২
কিশোরগঞ্জে প্রতিদিন ৩ ইটভাটায় নেয়া হয় ৬শ ট্রেইলর মাটি
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) থেকে সুবল চন্দ্র দাস
জমির উর্বরতা শক্তি মূলত মাটির ওপরের একটি নির্দিষ্ট অংশেই থাকে। ফলে এই মাটি সরিয়ে নিলে জমির উর্বরতা শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়, যা ফিরতে দীর্ঘ বছর লেগে যায়। তারপরও কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় ফসলি জমির উপরের অংশের মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন কৃষক। অভিযোগ উঠেছে, ইটভাটার মালিকরা কৃষকদের আর্থিক দৈন্যের সুযোগ নিয়ে মাটি বিক্রিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর তাদের উৎপাদিত ধানের দাম কম থাকায় বোরো ফসল করে লোকসানের মধ্যে পড়েন। পরপর তিন বছর লোকসান গোনায় তারা তাদের আর্থিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। এ অবস্থায় সংসার সচল রাখতে তারা জমির মাটি বিক্রি করছেন। এতে তারা কিছু টাকা পাচ্ছেন, পাশাপাশি জমিটাও বেঁচে যাচ্ছে।

সরেজমিন নিকলীর সদর ইউনিয়নের কুর্শা হাওর, জারুইতলা ইউনিয়নের বড় হাওর ও গুরুই ইউনিয়নের ছেত্রা হাওরে গিয়ে জানা যায়, শীত মৌসুমের শুরু থেকেই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়েছে। আবাদি জমির মাটির উপরের অংশ ১০-১৫ ফুট গর্ত করে এক্সক্যাভেটর দিয়ে কেটে নেয়া হচ্ছে। কুর্শা গ্রামের মিয়া হোসেনসহ একাধিক কৃষক জানান, এক একর বোরো জমিতে ৬০ মণ ধান হয়। ধানের দাম কম থাকায় কয়েক বছর ধরে তাদের উৎপাদন খরচ ওঠে না। আর এক একর জমির মাটি বিক্রি করে নগদ পাওয়া যায় ৫০ হাজার টাকা। এ জন্য তারা অনেকেই জমির মাটি বিক্রি করে দিয়েছেন, এতে তো তারা কোনো অন্যায় দেখছেন না। তারা আরও জানান, এক মাস আগে কুর্শার এক ইট ভাটার কাছে অন্তত ১০ কৃষক তাদের গড়ে ৫০ শতাংশ জমির মাটি ২০ হাজার টাকা করে বিক্রি করেছেন। একই গ্রামের কাদির ১৫ হাজার টাকায় ৫০ শতাংশ এবং সিরাজ মিয়া ১৬৫ শতাংশ জমির মাটি ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। নিকলীসহ আশপাশ এলাকায় ১৫ বছর ধরে ফসলি জমির মাটি বিক্রি চলছে। এবার বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এখন নিকলী সদর ইউনিয়ন ও জারুইতলা ইউনিয়নের ২০ শতাংশ কৃষক নগদ টাকার লোভে মাটি বিক্রি করছেন। ফসলি জমির মাটি বিক্রি করায় গর্তের সৃষ্টি হয়। এ গর্তের মধ্যে পাঁচ-ছয় বছর কোনো আবাদ হয় না বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। কয়েকজন কৃষক বলেন, তারা পাঁচ বছর আগে যেসব জমির মাটি বিক্রি করেছিলেন, এখন সেসব জমিতে আগের অর্ধেক ধানও হয় না। একটি ইটভাটার এক্সক্যাভেটর চালক জুমন মিয়া বলেন, নিকলীতে তিনটি ইটভাটা রয়েছে। আমরা চারটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে তিনটি ইটভাটার ৩০টি ট্রেইলরে মাটি ভরে দিই।

প্রতিটি ট্রেইলর রাত-দিনে ২০ বার মাটি বোঝাই করে নিয়ে যায়। এতে দৈনিক তিনটি ইটভাটায় ৬০০ ট্রেইলর মাটি নেয়া হয়। স্থানীয় মেসার্স আলতাফ ব্রিকসের ম্যানেজার লোকমান, মেসার্স কামাল ব্রিকসের ম্যানেজার কাজল মিয়া ও মেসার্স সামিয়া ব্রিকসের ম্যানেজার আবুল হাসিম বলেন, তারা কারও জমি থেকে জোর করে মাটি আনছেন না। টাকার বিনিময়ে কিনে আনছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, কৃষকদের সচেতন করার পরও তারা কথা শুনছেন না। জমির উর্বরতা শক্তি মাটির ওপর থেকে ১৫-২০ ইঞ্চির মধ্যে থাকে। জমির ওপরের অংশের মাটি সরিয়ে ফেলায় ওই জমির উর্বরতা শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এ ধরনের জমির উর্বরতা ফিরতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ১০-১৫ বছর লাগে। নগদ টাকার আশায় কৃষকরা জমির মাটি বিক্রি করছেন। এতে সাময়িক তাদের অভাব দূর হলেও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, পরিবেশ- প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবসহ প্রকৃতির স্বাভাবিকতার ক্ষতি হবে। সমস্যা হচ্ছে, এ সংক্রান্ত কোনো আইন না থাকায় তারা কিছুই করতে পারছেন না। তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আপসিয়া সিয়াত জানান, গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। প্রয়োজনে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামচ্ছুদ্দিন মুন্না বলেন, কোনোভাবেই ফসলি জমির মাটি বিক্রি করা যাবে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ভূমি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২৬
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১১
আসর৪:০৫
মাগরিব৫:৪৪
এশা৬:৫৯
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:৩৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৯১১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.