নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ৩০ পৌষ ১৪২৭, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২
বরিশাল ইনফ্রা পলিটেকনিকে দুর্নীতি
হুমকির মুখে ৩ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
বরিশাল থেকে গৌতম কুমার দে
বরিশাল ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেনের দুর্নীতি ও একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের প্রভাবে হুমকির মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির তিন হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন। এমনকি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অনুদানের টাকায় প্রতিষ্ঠানের নামে শিক্ষা উপকরণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে মিথ্যা বিল ভাউচার উপস্থাপনের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিক ও অধ্যক্ষকে কোণঠাসা করে অযোগ্য শিক্ষকদের কম বেতনে নিয়োগ ও প্রকৃত খরচের চেয়ে ভাউচারে বেশি দেখানো এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি ও সেশন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে চলছেন। এভাবে দেড় যুগে প্রায় শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন আমির হোসেন। এছাড়াও ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটটি নিজস্ব সম্পত্তিতে স্থাপিত দেখালেও জমি ব্যক্তি আমির হোসেনের নামে দলিল করে ভাড়া দেখানো হচ্ছে একাডেমিক ভনকে। সেখান থেকে ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে আত্মসাৎ করা হয় লাখ লাখ টাকা। তার এই নানান কিসিমের ধান্ধায় প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়ার পথে থাকলেও আমির হোসেন ও তার স্ত্রী ফুলে ফেঁপে ধনকুবে পরিণত হয়েছেন। বরিশাল শহরের কাশিপুর,হাতেম আলী চৌমাথা, কাশিপুর চৌমাথাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে আমির হোসেন ও তার স্ত্রী নামে প্রায় ৫টি বহুতল ভবন, ২০টি ছোট বড় প্লটসহ একাধিক ব্যাংকে নগদ অর্থ রয়েছে। যার দরুন, ইনফ্রা পলিটেকনিকের ভেতরকার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সর্বশেষ তিন বছরে ইনফ্রা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ক্রমাগত খারাপ ফলাফল তার প্রমাণ দিচ্ছে। ওই একই কারণে বেশ কয়েক বছর আগে যেখানে প্রতি বছর এ প্রতিষ্ঠানটিতে ৫ হাজারের ওপরে শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বর্তমানে আড়াই হাজার ছাত্রছাত্রীও বিদ্যমান নেই। এখন অনেকটা সার্টিফিকেট কেনা বেচার মতো প্রতিষ্ঠানের পরিণত হয়েছে ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটি। প্রতিষ্ঠানের ভেতরকার এই চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে করোনাকালীন লকডাউন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা না দেয়ায়। উপায়ন্তর না পেয়ে সময় আন্দোলনে নামতে পারেন বলে আভাস দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিক ও শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিশাল একটি অংশ। ছাত্র শিক্ষক সবারই দাবি সরকার থেকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে হলেও প্রতিষ্ঠানটি সুষ্টুভাবে পরিচালনা করে দেউলিয়ার হাত থেকে মুক্ত করা হোক। নিশ্চিত করা হোক ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা জীবন। এর সাথে আমির হোসেনের সম্পদের বৈধতা কি তা দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করার আবেদন করা হতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। পক্ষান্তরে দুর্নীতি প্রিয় আমির হোসেনও নিজের অবৈধ সম্পদ রক্ষা করতে নানান কৌশল হাতে নিয়েছেন। ষড়যন্ত্রকারী আখ্যা দিয়ে ইনফ্রার চেয়ারম্যান ইমরান চৌধুরী, অধ্যক্ষ ও বেশ কিছু শিক্ষকদের ঘায়েল করতে অস্ত্র হিসেবে মিডিয়া ও বেশকিছু রাজনীতিবিদদের দরজায় ঘুরছেন। জানা যায়, ২০০৩ সালে বরিশাল ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ৬ জন শেয়ার মালিক নিয়ে শুরু করলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেনর চক্রান্তে ৪ জন শেয়ার মালিক ছিটকে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলার চেষ্টা করলে অপর শেয়ার হোল্ডার ইমরান হোসেনকে চেয়ারম্যান পদে কাঠের পুতুল সাজিয়ে রাখা হয়। ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বৃদ্ধির মাধ্যমে আয় বাড়লে নগরীর স্থায়ী ক্যাম্পাস করতে গিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নেয় আমির হোসেন। প্রতিষ্ঠানের নামে জমির দলিল না করে নিজের নামে জমির দলিল করে রেখেছেন। তিনটি প্লটের ৩০ শতাংশ জমি ও তিনটি বহুতল ভবনের মালিক এখন তিনি নিজে। এই জমি ও ভবন দেখিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লোন নিয়ে আমির হোসেন ও তার স্ত্রীর নামে বরিশাল শহরে বহুতল ভবন, প্লট ক্রয় করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ঐ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন হলেও বোর্ড নির্ধারিত পরীক্ষার ফি জনপ্রতি ৮০০ টাকা সেখানে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে ১৮০০ টাকা। এভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এছাড়া ভর্তি ফি সহ নানাবিধ অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করা হচ্ছে। একাধিক ছাত্র শিক্ষক জানিয়েছেন, যেসব ট্রেডে কারিগরি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে সেসব ট্রেডে কোন মেশিন বা যন্ত্রপাতি নেই। ফলে অদক্ষ হয়ে বের হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোঃ ইমরান চৌধুরীর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে এবং বোর্ড নির্ধারিত ফি গ্রহণের পক্ষে। কিন্তু পরিচালক আমীর হোসেন অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করতে অধ্যক্ষকে বাধ্য করে।

এদিকে করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের বেতন মৌকুফ না করলেও ৯০জন শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে করে মানবেতর জীবন যাপন সহ্য করতে না পেরে একাদিকবার চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন একদিক শিক্ষক। চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন ও অধ্যক্ষ আমির হোসেন বেতন দেওয়ার অনুমতি দিলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেন আবেদনে স্বাক্ষর না করায় কেউ বেতন পাচ্ছেন না। শুধু আমির হোসেনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন লোক এ বেতন নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের নিকট ফোন করে তথ্য জেনে নিতে পারেন। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ জনাব এম.এ.রহিমকে ফোন করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি আরো জানান, অধ্যক্ষ হিসেবে ক্ষমতা যাতে ব্যবহার না করতে পারি ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেন আমাকে ৫ বছর যাবৎ ভারপ্রাপ্ত করে রেখেছেন। প্রতিষ্ঠানের যে কাগুজে আমার স্বাক্ষর থাকার কথা সেখানে আমির হোসেন স্বাক্ষর দিচ্ছেন। আমাদের সবাইকে পুতুল সাজিয়ে যা মনে চাচ্ছে তা করছেন। প্রতিষ্ঠানটিকে দেউলিয়া করে আমির হোসেন নিজে শত কোটি টাকার মালিক হচ্ছেন। এর জবাবে ইনফফ্রা পলিটেকনিক'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেন বলেন,আমাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এর বাইরে আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২৭
ফজর৫:২২
যোহর১২:১২
আসর৪:০৬
মাগরিব৫:৪৫
এশা৭:০০
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭০৭৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.