নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ৩০ পৌষ ১৪২৭, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪২
সাংবাদিক সম্মেলনে আনুশকার মা শাহনূরী আমিনের অভিযোগ
আনুশকাকে অপহরণ করে বাসায় নেয় দিহান
দিহান যৌনশক্তি বর্ধক ওষুধ খেয়েছিল কিনা পরীক্ষা করা হবে
স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর কলাবাগান মাস্টারমাইন্ড স্কুলছাত্রী আনুশকাকে অপহরণ করে দিহান ও তার সঙ্গীরা বাসায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন আনুশকার মা শাহনূরী আমিন। তিনি বলেন, গত ৭ জানুয়ারি আমার মেয়েকে অপহরণ করে দিহান ও তার সঙ্গীরা বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে অমানবিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার পর আমাকে ফোন করে জানায় আনুশকা সেন্সলেস হয়ে গেছে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সেদিনের ঘটনা উল্লেখ করে আনুশকার মা শাহনূরী আমিন বলেন, গত ৭ তারিখে আমার মেয়েকে অপহরণ করে দিহান ও তার সঙ্গীরা তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আমার মেয়েকে অমানবিক নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যা করে আমাকে ফোন করা হয়। দিহান আমাকে ফোন করে জানায়, সে (আনুশকা) সেন্সলেস হয়ে গেছে। আমি হসপিটালে এসে দেখি দিহানসহ তার তিন সঙ্গী বসে আছে। তারা আমার পা জড়িয়ে ধরে বলে আন্টি আমাকে বাঁচান। যখন আমার মেয়েকে দেখতে চাই, তখন আমাকে দেখতে যেতে দেয়া হয়নি। কর্তব্যরত ডাক্তার জানায় আনুশকা মারা গেছে।

পরে দিহানের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি আমার মেয়েকে তোমরা কোথায় পেলে, কেন মারা গেল? তখন সে আমাকে বলে আমরা চারজন ওকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাই এবং সেখানে সে সেন্সলেস হয়ে যায়। তখন আবার জিজ্ঞেস করি, বাসায় আর কোন মেয়ে ফ্রেন্ড ছিল না বা তোমার বাবা মা ছিল না? তখন বলে, না আমরা চারজনই তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। এরপর আমার বুঝতে বাকি থাকে না সেখানে কি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যেভাবে মামলাটি করতে চেয়েছি, পুলিশ সেভাবে মামলাটি নেয়নি। একটি মহল দিহান ও তার সঙ্গীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে এবং আমার মেয়ের চরিত্র হননের চেষ্টা করছে। বলা হচ্ছে, আমার মেয়ের সাথে দিহানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এটি একদমই ঠিক না। কিছু কিছু কর্মকর্তারা সাক্ষাৎকার বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেটি প্রচার করা হয়েছে। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায় বিচারসহ সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি জানান। অন্যদাবি গুলো হচ্ছে-মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে করা, দিহান ও তার সঙ্গীদের বিচারের আওতায় আনা, একটি সচ্ছল ডিএনএ পরীক্ষা কার্যকর করা এবং আমার পরিবার যেন কোন অসুবিধার সম্মুখীন না হয় তার ব্যবস্থা করা।

এ সময় আনুশকার বাবা আল আমিন আহমেদ রব বলেন, আমার পারমিশন ছাড়া অথবা আমার সাথে কথা না বলে সে কোথাও কিছু করত না। আগামীতে প্রতিটা মুহূর্ত কি করবে সেটা আমার সাথে কথা বলেই করবে, আমি আমার মেয়েকে সেভাবে গড়ে তুলেছি। এভাবে ওইদিনও যখন সে বিপদে পড়েছে বা কোন ডিসিশন নিতে হবে ভেবেছে তখন আমাকে জানাতে ফোন করেছে। আমার কষ্টের বিষয় ওই মুহূর্তে আমি কলটা ধরতে পারিনি। যদি সে সময় কলটি ধরতে পারতাম তাহলে হয়তো এত বড় দুর্ঘটনা ঘটতো না। একটাই চাওয়া, যেটা হারিয়েছি এটা যেন আর কোন বাবা-মা কখনও না হারায়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, দিহানের এই পথে যাওয়ার পেছনে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে হবে। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন অভিযোগ সেল গঠন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিতে হবে। চিকিৎসক বলেছে ময়নাতদন্তে আনুশকাকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আনুশকার মায়ের দেখানো একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে পিঠে কালশিটে দাগ রয়েছে। যা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৩ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে সাইবারের মাধ্যমে ব্যবহৃত ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্র শিশু-কিশোর ও তরুণের মানসিক বিকাশ উপযোগী সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং ধর্ষণ, যৌন অপরাধের ঘটনা প্রতিরোধে পাঠ্যসূচিতে যৌন ও প্রজনন শিক্ষার বিষয়ে অন্তর্ভুক্তকরণসহ এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শিমা মুসলেম, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহাতাব নেছা, ঢাকা মহানগরের মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আনুশকার চার সহপাঠীও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান যৌনশক্তি বর্ধক কোনো ওষুধ ও মাদক সেবন করেছেন কিনা তা পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

আবেদনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, কেনানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা আসামি ফারদিন ইফতেফার দিহান ধর্ষণকালে কোনো মাদক সেবন করেছিলেন কিনা তা জানার জন্য তার ডোপ টেস্ট করা প্রয়োজন। এছাড়া তিনি ধর্ষণকালে কোনো যৌনশক্তি বর্ধক ওষুধ সেবন করেছিলেন কিনা এবং সেবন করলে কোনো ধরনের ওষুধ সেবন করেছিলেন তা দিহানের রক্ত থেকে নমুনা সংগ্রহপূর্বক পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রয়োজন। কলাবাগান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক স্বপন কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালতে দিহান দায় স্বীকার করে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ওইদিনই নিহত ছাত্রীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণের ফলে যৌন ও পায়ুপথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছে কিনা, তার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে কেমিক্যাল পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। এসব রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ১৬
ফজর৫:২৩
যোহর১২:০৯
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৩৭
এশা৬:৫৩
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০৮৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.