নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০
আলোকিত জীবনের উপকরণ বই
আবু সালেম হোসাইন
অজানাকে জানা ও অচেনাকে চেনার যে চিরন্তন আগ্রহ, তা বই পড়ে মেটানো যায়। একটি ভালো বই-ই হচ্ছে মনের পুষ্টি যোগানোর অন্যতম উপায়। বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়। একটি ভালো বই ঘুমন্ত বিবেক জাগিয়ে তোলে। বই জ্ঞানের প্রতীক, বই আনন্দের প্রতীক। জ্ঞান আর আনন্দ ছাড়া মানব জীবন নিশ্চল হয়ে পড়ে। জীবনকে সুন্দরভাবে বিকশিত করতে হলে, সুবাসিত করতে হলে জ্ঞানার্জন করতে হবে। আর জ্ঞানার্জন করতে হলে বই পড়ার কোনো বিকল্প নাই। পৃথিবীর যাবতীয় জ্ঞানের কথা যেন বইয়ের মাঝে লুকিয়ে আছে। তাই জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে বই পড়তেই হবে। নিজেকে জানতে হলে, পৃথিবীকে জানতে হলে বই পড়তে হবে।

আমরা জানি, যুগ যুগ ধরে মানব সভ্যতা বিকাশে জ্ঞানী-গুণী ও দার্শনিক ব্যক্তিরা নানাভাবে অবদান রেখে চলেছেন। নিরলস সাধনা দ্বারা জীবনের শাশ্বত সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করা তাদের পক্ষেই সম্ভব। অতএব, তাদের চিন্তা-চেতনা ও জ্ঞানগর্ভ অভিজ্ঞতা বই-পুস্তকের মাঝেই প্রতিফলিত হয়। সমাজ বিনির্মাণে, মানব সম্পদ উন্নয়নে, মেধা ও মনন বিকাশে তথা জাতি গঠনে বইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবন ও বই পরস্পর নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ। মানবজীবনের বড় আকুতি হলো হলো জ্ঞানচর্চা। বই পাঠের মূল উদ্দেশ্য জ্ঞানলাভ ও মানসিক উন্নতি। বই সত্য, সুন্দর ও আনন্দময় অনুভূতিতে পাঠক চিত্তকে ভরিয়ে তোলে। বই হতাশাগ্রস্ত কিংবা বিভ্রান্ত মানুষকে জীবনের মহৎ প্রাঙ্গণে পৌঁছে দিতে পারে। বই আমাদের আশা জাগায়, স্বপ্ন দেখায় এবং জীবনের সঠিক পথের নির্দেশনা দেয়। বই মানুষের মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করে। বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েই মানুষ গড়ে তুলতে পারে উন্নত ও আনন্দপূর্ণ আদর্শ জীবন।

বই পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন, 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত'। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হলে মানুষকে বই পড়তে হবে। একমাত্র বই পড়ার মাধ্যমেই মানুষ তার জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করতে পারে। কারণ প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয় বই পড়ার মাধ্যমে। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান আহরণের পাশাপাশি তার চিন্তাশক্তি, যুক্তি, বুদ্ধির জাগরণ ঘটে, যা একজন স্বশিক্ষিত মানুষের জন্য অপরিহার্য। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানের রাজ্যের সাথে পরিচিত হয়। শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ হলো সাহিত্যচর্চা। আর সাহিত্যচর্চা করতে হয় বই পড়ে। বই পড়া ছাড়া উপায় নেই। যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে মনের প্রসারতা দরকার, যা বই পাঠের অভ্যাসের মাধ্যমেই কেবল সম্ভব।

আমাদের জীবসত্তা জাগ্রত থাকলেও মানবসত্তা জাগ্রত করার সিঁড়ি হচ্ছে বই। মানব সভ্যতার সূচনা থেকেই মানুষের পাঠ অভ্যাসের তথ্য পাওয়া যায়। মানুষ বই পড়ে মনের খোরাকের জন্য, অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এবং নিজেকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার জন্য। জ্ঞানের সূচনা বই থেকেই এবং সে জ্ঞানকে সামগ্রিকভাবে কাজে লাগানোর দক্ষতা মানুষ বই পড়ে পেয়ে থাকে। মানুষের মননশীল, চিন্তাশীল, সৃষ্টিশীল চিন্তার যাবতীয় সূচনার বিস্ফোরণ একমাত্র বইয়ের মাধ্যমে হতে পারে। আমাদের পড়া উচিত সেই সমস্ত বই, যেসব বই ব্যক্তির মনে খোড়াক জোগায়, মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায়। এসব বইয়ে আছে জীবনকে সুন্দর করার ভাষা। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু। 'আত্মার ওষুধ' এ কথাটি গ্রিসের থিবসের লাইব্রেরির দরজায় খোদাই করা আছে। তারা বিশ্বাস করে বই হলো আত্মার চিকিৎসার প্রধান উপকরণ। প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন, 'রুটি মদিরা ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু বইখানি অনন্ত যৌবনা'। জ্ঞান অর্জনের জন্য অবশ্যই বই পড়তে হবে। বই পড়ার মধ্য দিয়ে মানুষ বিশাল জ্ঞানরাজ্যে প্রবেশ করে এবং অনেক অজানা দিগন্ত উদ্ভাসিত হয়। আপনি যত পড়েন তত জানেন এবং জানার সঙ্গে বদলে যায় আপনার দেখার চোখ। বদলে যায় বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। একটি প্রবাদ আছে, একজন অশিক্ষিত মানুষ কাদাকে দেখে শুধু ভেজা মাটি হিসেবে। আর এক জোড়া শিক্ষিত চোখ সেই কাদার মাঝে খুঁজে পায় ক্ষুদ্রতিক্ষুদ্র অণু-পরমাণু। সপ্তদশ দশকের দার্শনিক বারুখ স্পিনোজা বলেন, 'ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভরে কিন্তু ভালো বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে'। বড় হতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে, আর স্বপ্ন দেখার জন্য বই পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।

পাশ্চাত্যের প্রথম আধুনিক দার্শনিক রনে দেকার্ত বলেন, 'ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সঙ্গে কথা বলা'। বইয়ের কাছেই আমাদের ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের সব অশান্তি, অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দূরীকরণের চাবিকাঠি। কাজেই আমাদের বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতেই হবে। কেননা, বই-ই আমাদের প্রয়োজনীয় ও নিঃস্বার্থ বন্ধু। তাই জীবনকে অধিকতর সুন্দর ও সাফল্যম-িত করার জন্য আমাদের সকলেরই বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানো উচিত। বই হোক আমাদের নিত্যসঙ্গী, বই হোক জাতির উন্নতির সহায়ক। সাহিত্য সমাজ বদলের হাতিয়ার। প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে কথাটি অবশ্যই সত্যি। তাই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে বেশি বেশি বই পড়া হলে আমরা আমাদের মানসিকতার উন্নয়ন ঘটাতে পারবো। ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি, দর্শন, ধর্ম ও এমনি যে কোনো বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে হলে নিয়মিত বই পড়তে হবে। একটি বিষয় বলতে হয় যে, বাঙালির ভাষা, সাংস্কৃতি বোধ ও ঐতিহ্য হলো অমর একুশে বই মেলার ভিত্তি। লেখক, পাঠক এবং প্রকাশকদের কাছে অমর একুশে বই মেলা এক সেরা উৎসব। সবারই মিলন মেলা বাংলা একাডেমির বই মেলা। এদেশের সকল শ্রেণির পাঠক সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে কখন বসবে অমর একুশে বইমেলা কবে বসবে বাঙালির মিলন মেলা। ভাষা আন্দোলন, বাংলা একাডেমি আর একুশের বইমেলা একই সূত্রে গাঁথা। একুশের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ফসল বাংলা একাডেমি। একুশে বইমেলা বিকশিত হয়েছে বাংলা একাডেমিকে কেন্দ্র করে। সবারই মিলন মেলা বাংলা একাডেমির বই মেলা। মেলায় এসে বই কিনা ও পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

কেননা বই পড়ার যে আনন্দ, তা এক কথায় অতুলনীয়। বইয়ের প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করে তুলতে হবে। বিশেষত, আমাদের শিশু-কিশোরদের মাঝে শৈশব থেকেই এ বোধ জাগিয়ে দিতে হবে। কারণ বিদ্যালয়ে যে পুঁথিগত জ্ঞান শিশু-কিশোররা লাভ করে তাতে মেধার তেমন বিকাশ ঘটে না। তাই পাঠ্যপুস্তকের বাইরে তাকে বই পড়তে উৎসাহিত করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পাঠে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করে আমরা মানুষ হবো। আর প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়লে জ্ঞানের দ্যুতি বাড়বে এবং আমরা আলোকিত হবো। তাই বইগুলো পড়া খুবই জরুরি। কারণ সফলতার ক্ষেত্রে বই পড়া একটি প্রধান চাবিকাঠি। বিল গেটস কিংবা এলোন মাস্ক-এর মতো বিশ্বসেরা ধনী এবং সফল মানুষেরা তাদের সময়ের একটি বিশাল অংশ বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেছেন। গবেষণা প্রমাণ করেছে যে পড়ার অভ্যাস মানসিক চাপ কমায়, মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং দীর্ঘ ও স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটায়। আলোকিত নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে বই পড়ার বিকল্প নেই। মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরিতে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।

আবু সালেম হোসাইন : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৬
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৪
মাগরিব৫:৩৫
এশা৬:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:৩০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৬৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.