নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০
পরিযায়ী পাখি জীববৈচিত্র্যের দূত
প্রকাশ ঘোষ বিধান
পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পাখিদের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবেশবান্ধব এই প্রাণীরা মানুষের সুস্থ জীবনধারাকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। পাখির নাম শুনলে হৃদয় মন জুড়ায়। প্রকৃতির অলঙ্কার এই পাখি। পাখি প্রকৃতির সব থেকে কাছের ও অবিচ্ছেদ্য এক অংশ।

প্রতি বছর শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাওড়-বাঁওড়, নদ-নদী, বিল, পুকুর-জলাশয়ে পরিযায়ী বা অতিথি পাখির আগমন ঘটে। শীত প্রধান দেশের তীব্র শীত ও তুষারপাত থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে ও অস্তিত্ব রক্ষার্থে খাবারের খোঁজে বাংলাদেশের মতো কম শীত প্রধান দেশে পাখির আগমন ঘটে। পৃথিবীর সব দেশে পাখি আছে। পৃথিবীতে ১০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার প্রজাতি পাখি পরিযায়ী। পরিযায়ী পাখিদেরকে আগে অতিথি পাখি বলা হতো। কিন্তু নিবিড় গবেষণায় দেখা গেছে যে, এরা অতিথি পাখি নয়, বরং যে দেশে যায় সেখানে ডিম পাড়ে এবং সেই ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের হওয়া পর্যন্ত বাস করে। তারা ভিন দেশে কয়েক মাস বসবাস করে। বছরের স্বল্প সময়ের জন্য তারা নিজ দেশে বসবাস করে এবং বছরের নির্দিষ্ট একটা সময়ে নিজের দেশ ছেলে বিশেষ প্রয়োজনে অন্যকোন দেশে চলে যায় এবং কিছু দিন পর আবার নিজ দেশে ফিরে আসে। এই জাতীয় পাখিদেরকেই সাধারণত পরিযায়ী পাখি বলে।

প্রতিবছর উত্তর গোলার্ধের শীত প্রধান দেশ সাইব্রেরিয়া, মঙ্গোলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিযায়ী পাখি আসে। শীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদ-নদী, হাওড়-বাওড়, উপকূল ও জয়াশয়গুলোতে এ পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরতে শুরু করে। আবার শীত শেষে একইভাবে দেশন্তরী হয়। আবহাওয়া পরিবর্তন, খাদ্যের সন্ধ্যান ও প্রজননসহ নানা কারণে পাখিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিচরণ করে। এরা অতিথি নয়, দেশে পাখি পরিবারের একটি অংশ। খাদ্যের অভাব ও পরিবেশ বিপর্যায়ের কারণে মাঝে মাঝে দেশের বাইরে অবস্থান করে।

বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৮৫৫ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি (প্রায় ১৯%)। শুরু ইউরোপ আর এশিয়ায় প্রায় ৬শ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি রয়েছে। এসব পাখির প্রায় দেড়শ প্রজাতির পাখি প্রতিবছর বাংলাদেশে আসে। বরফ শুভ্র হিমালয়ে ও উত্তর এশিয়া থেকেই বেশির ভাগ পাখির আগমন ঘটে। এছাড়া ইউরোপ অঞ্চল থেকে এসব পাখি নভেম্বর থেকে আশা শুরু হয় এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিযায়ী পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। নদীমাতৃক আমাদের বাংলাদেশ নানা সৌন্দর্যের লীলাভূমি। পরিযায়ী পাখির কলতান, ডানা ঝাপটানি ও পাখা মেলে উড়ে বেড়ানো প্রকৃতি সৌন্দর্যে যোগ হয় এক নতুন মাত্রা। জীবন বাঁচাতে এসব পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের দেশে আসে। আর এসব পাখিদের আমরা অতিথি পাখি বলে ডাকি। পরিযায়ী পাখি শুধু প্রকৃতি-পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, আমাদের পরিবেশেও উপকার করে। ফসলের খেতের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে তারা কৃষককে সহায়তা করে। এরা ক্ষতিকর জলজ ও স্থলজ পোকা-মাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। পাখির বিষ্ঠার মাধ্যমে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, মাছের খাবার হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে যেসব স্থানে অতিথি পাখির সব থেকে বেশি আগমন ঘটে তাদের মধ্যে অন্যতম সিলেটের হাকালুকি হাওড়, বাইক্কাবিল, নীলফামারীর নীলসাগর, ঢাকা মীরপুরের চিড়িয়াখানা, জাতীয় উদ্যান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জলাশয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ জেলার টঙ্গুয়ার হাওড়, বরিশালের দুধসাগর, সুন্দরবন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সচরাচর যেসব পাখি দেখা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বালিহাঁস, পাতিসরালি, সাদাবক, দলপিপি, রাজসরালি, পানমুরগী, পানকৌড়ি, ঈগল, বেগুনিকালেম, কাসতেচড়া, কুন্তিহাঁস, নীলশির, লালশির, পাতারিহাঁস, বামনীয়া, ভূটিহাঁস, চকাচকি, কানিবক, ধূসরবক, জলময়ূর, ডুবুরি, খোপাডুবুরি, গঙ্গাকবুতর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

পাখি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের সৃষ্ট নানা করণে পাখিরা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পরিবেশ বিপর্যয় ও খাদ্যের অভাবের কারণে পাখিরা প্রতিবছর শীতকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় ও জলাশয়ে আশ্রয় নেয়। পরিযায়ী পাখির নিরাপদ জীবন যাপন ও পরিবেশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। শীত মৌসুমে অনেকে শখ মেটাতে পাখি শিকার করেন। আবার অনেকে শীত মৌসুমটাকে পাখি শিকার পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। পাখি শিকারিরা ফাঁদ, বিষটোপ, জালপেতে ও গুলি করে পরিযায়ী পাখি শিকারে মেতে ওঠেন। বাজারেও পাখি বিক্রয় করতে দেখা যায়। অনেকেই রসনা তৃপ্তি মেটাতে পাখি কিনে বাড়ি নিয়ে যান।

কেউ শখের বসেই শিকার করুক, আর কেউ অসচেতনতার কারণে শিকার করুক, পাখি শিকার আইনত দন্ড-ীয় অপরাধ। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি পরিযায়ী পাখি শিকার করেন তাহলে তার সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদ- অথবা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দ-িত হবেন এবং একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদ- অথবা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয়দ-ে দ-িত হবেন। এ ছাড়া পরিযায়ী পাখির দেহের কোন অংশ সংগ্রহ, বেচাকেনা কিংবা পরিবহণ করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদ- অথবা সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা অর্থদ- অথবা উভয়দ-ে দ-িত হবেন এবং একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদ- অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- বা উভয়দ-ে দ-িত হবেন।

পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পরিযায়ী পাখিদের গুরুত্ব অপরিসীম। পাখি প্রকৃতির অলঙ্কার। তাই এদের সংরক্ষণ করা জরুরি। পাখিদের স্বাভাবিক প্রজনন ও তাদের সুষ্ঠু জীবন ধারাকে টিকিয়ে রাখতে সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজন। নিজেদের ভালোর জন্য ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পাখি শিকার করা বন্ধ করা সকলের দায়িত্ব। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রতিটি নাগরিককে পরিযায়ী পাখি সুরক্ষায় একযোগে কাজ করতে হবে।

প্রকাশ ঘোষ বিধান : সাংবাদিক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৯
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২৪৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.