নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০
রাজধানীর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ
এফএনএস
রাজধানীতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার বিষয়টি অনুমোদনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ওই নীতিমালা আলোকে দিনেরবেলায় রাজধানীর কোনো রাস্তা খোঁড়া বা কাটার কাজ করা যাবে না। এমনকি বর্ষাকালে বিশেষ করে মে, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরের ৫ মাস রাস্তা খনন করা যাবে না। আর অনুমতি ছাড়া রাস্তা খনন করা হলে মূল খরচের ৫ গুণ হারে জরিমানা গুনতে হবে। তবে সিটি কর্পোরেশনের অনুমতিসাপেক্ষে শুধুমাত্র রাতেরবেলা রাস্তায় যখন যানবাহন কম থাকে তখনই কেবল খোঁড়াখুঁড়ি করা যাবে। তাতেও আধুনিক যন্ত্রপাতি সমন্বয়ে অভিজ্ঞ ঠিকাদার দিয়ে খনন কাজ করতে হবে। আর অনুমতি প্রদান, খনন ও রাস্তা পুনর্বাসনের কাজ সর্বোচ্চ তদারকি করতে ওয়ানস্টপ সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীতে বর্ষকালে নির্দিষ্ট সময় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে বা শীতকালেও যখন তখন রাস্তা খুঁড়ে সৃষ্ট ভয়াবহ জনদুর্ভোগ বন্ধ করতে বিশেষ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। সেজন্য ২০০৩ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন থাকাকালে তৈরি সড়ক খনন নীতিমালাটি বাতিল করে নতুন নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর সড়ক খনন নীতিমালা-১৮ নামের ওই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ওই নীতিমালার আলোকে রাজধানীতে রাস্তা খনন বা খোঁড়াখুঁড়িতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে শুরুর ও শেষের তারিখও সাইনবোর্ড দিয়ে জানাতে হবে। পাশাপাশি খনন

কাজে ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেলকে সহায়তার জন্য একাধিক মনিটরিং সেল কাজ করবে। সেক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন সেলে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। কোনোভাবেই রাস্তা খোঁড়ার নামে মাসের পর মাস কাজ ফেলে রাখা যাবে না। আর রাতেরবেলায় রাস্তা খননের পর ওই দিন বা রাতের মধ্যেই আধুনিক খনন সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি দিয়ে পুনর্বাসন কাজ শেষ করে রাতের মধ্যেই যান চলাচলের জন্য রাস্তা উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এমনকি খননের আগে রাস্তাটি যে অবস্থায় ছিল, খননের পর সম্পূর্ণ আগের মতোই সরকারের পিপিআর মেনে উপযুক্ত, ঝকঝকে তকতকে করে তৈরি করে দিতে হবে। যাতে কোনক্রমেই বোঝার উপায় না থাকে যে রাস্তাটি খনন করা হয়েছিল।

সূত্র জানায়, যে এলাকায় সড়ক খনন করা হবে ওই এলাকায় নাগরিকের সুবিধার্থে কমপক্ষে ৭ দিন আগেই সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার, মাইকিং করা, স্থানীয়দের সহায়তা চেয়ে প্রচারপত্র বিলি, কেবল অপারেটরের মাধ্যমে প্রচার, কাজ শুরুর কমপক্ষে ৩ দিন আগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা, একইসঙ্গে নাগরিকদের এ নিয়ে কোন প্রকার অভিযোগ বা পরামর্শ দিতে সিটি কর্পোরেশন ও খননকারী সংস্থার নাম, ঠিকানা ও মোবাইল ফোন নম্বর সাইন বোর্ড আকারে কাজ শুরুর স্থানে টাঙ্গিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি নতুন নীতিমালায় সকল ইউটিলিটি সার্ভিসের লাইন ফুটপাথের নিচে সার্ভিস ডাক্ট নির্মাণ করে বা সড়কের একপাশে স্থানান্তর করতে হবে। বিশেষ করে প্রধান প্রধান সড়কের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাছাড়া পরিকল্পিত সকল নতুন সড়কের উভয়পাশের ফুটপাথে সার্ভিস ডাক্ট নির্মাণ করে ইউটিলিটি সার্ভিস সেবার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি রাস্তা খননের চুক্তির নিয়ম বাধ্যতামূলক মানতে হবে। অন্যথায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। রাস্তা খোঁড়ার সময় অবশ্যই যান চলাচলের জন্য একপাশে ব্যবস্থা রাখতে হবে। রাস্তা খোঁড়ায় সময় গর্তের আশপাশে রাখা মাটি পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যথায় সিটি কর্পোরেশন সব আবর্জনা বা মাটি সরিয়ে ঠিকাদার বা সংস্থার জামানত থেকে ব্যয় হিসেবে দ্বিগুণ অর্থ কেটে নেবে। প্রতিটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের এপ্রিলের আগেই কোন্ কোন্ রাস্তা কাটা হবে তার তালিকা দেবে। তারপর কোন রাস্তা কাটার তালিকা জমা দিলে তার অনুমতি দেয়া হবে না। বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিসের তথ্য সংরক্ষণ করে জিআইএস বেজড সার্ভে করে ইউটিলিটি সার্ভিসেস এস বেল্ট নঙ্া প্রণয়ন করতে বলা হবে। সেজন্য রাজধানীর সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নেবে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আংশিক বা পুরো জামানত বাজেয়াপ্ত করবে সিটি কর্পোরেশন। খননকালে যদি কোন সংস্থার ভূগর্ভস্থ লাইনের ক্ষতি হয় তাহলে যৌথ পরিমাপের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ বিল দিতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠান পূর্ববর্তী কাজের বিল পরিশোধ না করলে বা ক্ষতিপূরণ না দিলে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন কোন খনন কাজের অনুমতি দেয়া হবে না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র সাপেক্ষে প্রদান করা যেতে পারে। নতুন নীতিমালায় নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে রাস্তা খোঁড়ার কাজ শেষ না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আইনানুযায়ী জরিমানা দিতে হবে। তাছাড়া যে কোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে চাইলেই যে কোন রাস্তা খননের অনুমতি দিতে পারবে না সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। সেজন্য রাস্তার এস বিল্ট নঙ্া, স্পেসিফিকেশন, প্রয়োজনে ওসব রাস্তার দলিলসহ যাবতীয় তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই কেবল রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দেবে সিটি কর্পোরেশন। সেজন্য সিটি কর্পোরেশনকে তার সীমানার সব সেবাদানকারী সংস্থা হস্তান্তর করে সড়কের এস বেল্ট নঙ্া সংরক্ষণ করতে হবে। আবেদনের ২০ কর্মদিবসের মধ্যেই রাস্তা খননের অনুমতি দেয়া হবে। পাশাপাশি কোন্ কোন্ যন্ত্রপাতি দিয়ে রাস্তা খনন করা হবে, কতদিন লাগবে ও কত রাস্তা খনন করা হবে তার তথ্য রাস্তার ওপর সাইনবোর্ড দিয়ে তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।

সূত্র আরো জানায়, রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন শুধুমাত্র যখন তখন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণেই রাজধানীবাসীকে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তায় যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। চোখ খুললেই শীত কিংবা বর্ষা নয়, যখন তখন অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ সর্বত্রই সারাবছরই রাস্তা খুঁড়তে দেখা যায়। কারো নির্দেশ না মেনে এমনকি সিটি কর্পোরেশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই চলছে রাস্তা খোঁড়াখুড়ি। তা থেকে স্থায়ীভাবে নাগরিকদের দুর্দশা লাঘব করতেই সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীএপ্রিল - ২৫
ফজর৪:০৯
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৭
এশা৭:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:২৯সূর্যাস্ত - ০৬:২২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৬৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.