নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০
মৈত্রী এক্সপ্রেসে যাত্রীসংখ্যা বেড়েই চলছে
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী ট্রেন চলাচল শুরু হয় প্রায় ১১ বছর আগে। প্রথমদিকে এ রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা আশানুরূপ না হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে যাত্রী পরিবহণে রেকর্ড গড়েছে। প্রতি ট্রেনেই যাত্রী সংখ্যা বেড়েই চলছে।

বেড়েছে যাত্রীসেবার মানও। তবে কমেনি চোরাচালান ও চিহ্নিত লাগেজ কারবারীদের তৎপরতা। সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বাদে প্রতিদিনই যাতায়াত করে দু'দেশের মধ্যে নতুন ঐক্য ও সেতুবন্ধনের দিগন্ত মৈত্রী এঙ্প্রেস।

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর ভারত-বাংলাদেশ যাত্রীবাহী চলাচল বন্ধ হলেও ১৯৬২ সালে পুনরায় চালু হয়। একই সালে দর্শনা আন্তর্জাতিক স্টেশনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পুনরায় শুরু হয় চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা দিয়ে ভারতের গেঁদে রেলরুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। পরে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হলে আবার বন্ধ হয়ে

যায় ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন চলাচল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বিভিন্ন সময়ে দু'দেশের স্বপ্নের ট্রেনটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তা ছিল শুধু চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এরপর দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-বাংলাদেশ স্বপ্নের ট্রেন চলাচল শুরু হয়। যার নাম দেয়া হয় মৈত্রী এঙ্প্রেস। শুরু থেকে মৈত্রী এঙ্প্রেস ট্রেনটি সপ্তাহের ২ দিন চলাচল করলেও যাত্রীর চাপ বিবেচনা করে দু'দেশের সরকার তা ৬ দিনে উন্নীত করে। শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আর্ন্তজাতিক রেল স্টেশনের ম্যানেজার মীর লিয়াকত আলী জানান, শুরুতে দু'দেশের যাত্রীর সংখ্যা খুব একটা আশানুরূপ ছিল না। এর মূল কারণ চিহ্নিত করা হয় সময় বিলম্ব। তিনি জানান, ২০০৮ সালে ট্রেনটি চালু হওয়ার পর এয়ারপোর্ট স্টেশনে সময় বিলম্ব, দর্শনা স্টেশনে কাস্টমস ইমিগ্রেশনের জন্য এক ঘণ্টা বিলম্ব ও ভারতের গেঁদে স্টেশনে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের জন্য দেড় ঘণ্টা সময় বিলম্ব হতো যাত্রীদের। সব মিলিয়ে সময় লাগত সাড়ে ৩ ঘণ্টা। এ কারণে মৈত্রী এঙ্প্রেস যাত্রীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে।

এটি অনুধাবন করে দু'দেশের সরকারের সিদ্ধান্তমতে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট স্বাক্ষরিত পত্রে ২০১৭ সালে ১০ নভেম্বর থেকে দর্শনা ও গেদে স্টেশনে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট স্টেশন ও ভারতের চিতপুর স্টেশনে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সেক্ষেত্রে যাত্রীদের সময়ও অনেক কম লাগছে। দর্শনা স্টেশনে এখন শুধু ইঞ্জিন ও ক্রু পরিবর্তনের জন্য ২০ মিনিট যাত্রা বিলম্ব হয়ে থাকে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, বর্তমানে মৈত্রী এঙ্প্রেসে ৮টি যাত্রীবাহী কোচ, ২টি পাওয়ারকার ও গার্ড ব্রেকবিশিষ্ট মৈত্রী ট্রেনের যাত্রী বহন ব্যবস্থা রয়েছে ৪৫৬ জন। এর মধ্যে এসি কেবিন ১৩৬টি ও এসি চেয়ার ৩২২টি।

তিনি আরও জানান, ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল ঢাকা-কলকাতাগামী যাত্রীবাহী মৈত্রী এঙ্প্রেস যাত্রা শুরু করলে সে বছর দু'দেশে যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৬৮৩ জন। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, ততই এ মৈত্রী এঙ্প্রেসে যাত্রীসংখ্যা বাড়ছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে যাত্রীদের চাপ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যমতে, মৈত্রী এঙ্প্রেস ট্রেন চালু থেকে শুরু করে ২০১৮ সালে যাত্রী পরিবহণে রেকর্ড গড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর এ ট্রেনে দু'দেশের যাত্রী চলাচল করেছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৬৯ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে ৮৮ হাজার ৬০৬ জন যাত্রী। আর ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে ৮৭ হাজার ৬৬৩ জন। যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে রেকর্ড। ভালো যাত্রীসেবা ও কোনো ধরনেরর ঝক্কি-ঝামেলা না থাকায় মৈত্রী এঙ্প্রেসে যাত্রী পরিবহণে এমন রেকর্ড দাবি রেলওয়ে কর্মকর্তাদের।

তবে যাত্রীদের দাবি মৈত্রী এঙ্প্রেসে যাত্রীর চাপ বাড়লেও তেমন বাড়েনি যাত্রীসেবা। এছাড়া চোরাচালান ও লাগেজ কারবারীদের উৎপাত তো রয়েছেই। চিহ্নিত একটি চক্র প্রতিনিয়ত কৌশল বদল করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যবসা। এক্ষেত্রে তাদের পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন মৈত্রী এঙ্প্রেসের যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরাই।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেল স্টেশনে গত রোববার কথা হয় ভারতগামী মৈত্রী এঙ্প্রেসের যাত্রী তৌহিদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ঢাকা-কলকাতা যাতায়াত করেন মৈত্রী এঙ্প্রেসে। অভিযোগ করে তিনি জানান, ট্রেনের ভেতরে খাবারের মান খুব একটা ভালো নয়, দামও তুলনামূলক বেশি। এছাড়া ট্রেনটির সব কক্ষও অপরিচ্ছন্ন। বিভিন্ন সময়ে ট্রেনের দায়িত্বরত এটেনডেন্টের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২১
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৯৮৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.