নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৯ মাঘ ১৪২৫, ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪০
শরিকদের সাথে দূরত্ব বাড়ছে আ'লীগের
প্রশাসনের অতি উৎসাহীরা নির্বাচনকে কলঙ্কিত করেছে এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
সফিকুল ইসলাম
১৪ দল ও মহাজোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে ক্রমেই দূরত্ব বাড়ছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের। প্রশাসনের অতি উৎসাহীরা নির্বাচনকে কলঙ্কিত করেছে, এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করছেন তারা। একাদশ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভায় শরিকদের কাউকেই না রাখা, পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না পাওয়া ও সংসদের বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পরামর্শে ক্ষুব্ধ এই জোটের অন্যতম শরিকরা। একইসাথে জোটের শরিকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের সাথে এখন জোট থাকা আর না থাকা সমান কথা। ভবিষ্যতে এ জোট থাকবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন শরিক দলের অনেকে।

প্রশাসনের অতি উৎসাহীরা সংসদ নির্বাচনকে কলঙ্কিত করেছে বলে মনে করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ। দুই দিনব্যাপী দলটির জাতীয় কমিটি সভায় এমন মত দিয়েছে দলের নেতারা। সমপ্রতি দলটির দফতর সম্পাদক ইউনুসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রসঙ্গে সভার প্রস্তাবে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি উৎসাহী অংশ ভোটের পূর্ব রাত্রেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাঙ্ ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা নজিরবিহীন। প্রস্তাবে বলা হয়, জনগণের ভোটের মাধ্যমে ১৪ দল তথা মহাজোটের নিশ্চিত বিজয় জেনেও যে মহল বিশেষ এ অপকর্ম সংঘটিত করেছে, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেননা এ কলঙ্কিত ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। এ কলঙ্কের দাগ মুছতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ মাসের মধ্যে অন্য দলগুলো-ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, বাসদ, তরিকত ফেডারেশন, ন্যাপ, গণআজাদী লীগ দলীয় বৈঠকে জোটে দলের ভূমিকা, একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাসদের কেন্দ্রীয় একজন নেতা বলেন, ১৪ দলীয় জোটের উদ্যোক্তা হচ্ছে জাসদ। ২০০৪ সালে জোট গঠনের আগেই জাসদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি চুক্তি হয়েছিল। যাতে একই সাথে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের কথা বলা ছিল। এ বিষয়টি থেকে বর্তমানে আওয়ামী লীগ পিছু হঠছে। জাতীয় কমিটির আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে এটি। এছাড়া গত নির্বাচনে ভোট নিয়ে নানা প্রশ্নের বিষয়ে দলের অবস্থান ব্যক্ত করা হবে। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাঙ্ ভর্তিসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (আম্বিয়া)। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলটি জানায়, এজন্য প্রশাসনে অতি উৎসাহী একটি অংশ দায়ী। ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাসদের জাতীয় কমিটির সাধারণ সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আরো বলা হয়, দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ প্রশাসনের এক শ্রেণীর অতি উৎসাহী অংশ ভোটের আগের রাতেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাঙ্ ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে।

সূত্র জানায়, জোট করার ফলে শরিকরা যে ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবার কথা ছিল তা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শরিকরা। তারা আশা করেছিল একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তাদের অনেকগুলো আসনে মনোনয়ন দেবে। এছাড়া মন্ত্রিসভাতেও তাদের অংশগ্রহণ বাড়বে। কিন্তু তা হয়নি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শরিকরা।

এদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা, মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পরেই দল গুছিয়ে শক্তিশালী হতে পারেনি শরিকদের কেউই। অনেকের অফিসও নেই; ঠিক নেই কেন্দ্রীয় কমিটির। ক্ষমতার অংশীদার হয়ে সচিবালয়ে দৌড়াদৌড়ি করে কয়েক নেতা সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু দলের কোন খোঁজ খবর রাখেননি তাই দলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ আর কোন্দল বিরাজ করেছে। দলের রাজনীতি নষ্ট হয়েছে, হারিয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। সচিবালয়ে অনেক নেতাকেই তদবিরবাজ, এমনকি দালাল বলেও তিরস্কার শুনতে হয়েছে অনেককে। এর মধ্যেই জাসদ ভেঙে দুইটি হয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টিও ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে। অন্য দলগুলোও অস্তিত্ব সংকটে। এমনাবস্থায় জোটে শরিকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে দলগুলো। পাশাপাশি দলের রাজনীতি পুনরুদ্ধার করতে চায় শরিকরা। জোট ভেঙে গেলে কি করণীয় তা নিয়েও আলোচনা চলছে দলগুলোতে।

এদিকে অন্যান্য শরিক দলের নেতারাও নির্বাচন নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, নির্বাচনে কলঙ্কের কালি লাগলে তা সবার গায়েই লেগেছে।

গণতন্ত্রী পার্টির সূত্র জানায়, আগামী মাসে দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে আগামী দিনের দলের কর্ম-পরিকল্পনা। দলের অনেকে জোট থেকে বের হবার পক্ষে বলছেন বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রেসিডিয়াম মেম্বার বলেন, দলের কয়েক নেতা জোটের কারণে লাভবান হয়েছেন কিন্তু দলের রাজনীতি নষ্ট করে দিয়েছেন। কোন কাজে সচিবালয়ে গেলে অনেকেই টিটকারি করেন। তদবিরবাজ, দালাল বলেও অনেক যাচ্ছে তাই মন্তব্য শুনতে হয় অনেককেই। তাই দলের ভবিষ্যত কি হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীফেব্রুয়ারী - ১৭
ফজর৫:১৪
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৮
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৬:৩০সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯০৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.