নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
মাদকের করাল থাবায় সম্ভাবনাময় তারুণ্য
অরুণ কুমার বিশ্বাস
মাদকাসক্তি আমাদের দেশে এখন আর নতুন কোনো বিষয় নয়। সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও মাদকের এক দুর্ভেদ্য জাল বিছানোর কাজ করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ এদের পারঙ্গমতাকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে মাদক সম্রাট বা মাদক সম্রাজ্ঞী নামে অভিহিত করছেন। তবে এদের নাম যাই হোক, আমাদের তরুণ সমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করার এক ফুলপ্রুফ প্ল্যান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। শুধু ঢাকা শহর নয়, মফস্বল ও গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের ভয়াল থাবা। এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকলেও তাদের দৌরাত্ম্য নির্মূল করা যাচ্ছে না।

আমার পরিচিত এক ভদ্রলোক অফিসের কাজে সবসময় ব্যস্ত থাকেন। বাসায় ফিরতে কখনও কখনও রাত আটটা-নয়টা বেজে যায়। সন্তানরা বড় হচ্ছে, অথচ তাদের দিকে নজর দেবার ফুরসত তার নেই। বড় ছেলেটা পড়ে ক্লাস টেন-এ, আসছে বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ছেলেটা যে ক্রমশ বদলে যাচ্ছে, তা নিয়েও তার মাথাব্যথা নেই। ছেলে এখন দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে, রুমের দরজা বন্ধ করে মোবাইলে কার সাথে যেন চুপিসারে কথা বলে। বাসায় থাকে খুব কম সময়, যাও বা থাকে, নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখে।

এসব দেখেশুনে একদিন তার স্ত্রী কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তিনি ভ্রুক্ষেপ করলেন না। ছেলে বড় হচ্ছে। কিশোর বয়সে এমন একটু হতেই পারে, মিছে ঝঞ্ঝাট করো না- এসব কথা বলে তিনি দায়িত্ব সেরে ফেললেন। সত্যি বলতে, এখানেই তিনি ভুলটা করলেন। আমরা সবাই এ ভুলটাই করি। ছেলে বড় হচ্ছে ভালো কথা। বয়ঃসন্ধিকালে গলার স্বর ভাঙবে, ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে, সব ঠিক আছে। কিন্তু ছেলেটার চেহারা দিন দিন এমন বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে কেন! কোনো কিছুতে উৎসাহ নেই কেন! ওর সঙ্গী-সাথী কারা! রাত জেগে চুপিচুপি কথাই বা বলে কার সাথে! বাবা হিসেবে এইসব গুরুতর প্রশ্নের উত্তর তার জানা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা জানতে চাননি। স্ত্রীর সচেতনতাকেও তিনি অবহেলা করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে মতের মিল না হওয়ায় একসময় তার স্ত্রী ডিভোর্স দিয়ে চলে যান।

স্ত্রী চলে যাওয়ার পর দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে তার ছোট্ট সংসারের তাল-লয়-ছন্দ কোনা কিছুই ঠিক থাকে না। ছেলের উৎকেন্দ্রিক আচরণ আরো বাড়ে। সে এখন গভীর রাতে ঘরে ফেরে। সারা দিন কোথায় থাকে, কী খায় কেউ জানে না। ছোটো বোন, ভাইয়ের এই পরিবর্তন লক্ষ্য করে, কিন্তু কিছু বলতে পারে না। ধমক দিয়ে বোনকে চুপ করিয়ে দেয় কিশোর ভাইটি। সবকিছু দেখেশুনে একদিন ভদ্রলোকের জ্ঞান ফেরে, কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তিনি বুঝতে পারেন, কিশোর ছেলেটি মাদকের খপ্পরে পড়েছে। এখন সে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবার নীল নেশায় বুঁদ হয়ে আছে তার উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় তারুণ্য।

এমন ঘটনা দেশে এখন অনেক ঘটছে। কিন্তু এমন হচ্ছে কেন! সব দোষ ইয়াবার, নাকি আমাদেরও কিছু করণীয় আছে, যা সময়মতো করতে পারলে কোমলমতি সন্তানদের আমরা ঠিক পথে পরিচালিত করতে পারতাম! প্রথম কথা হলো, আমরা সকলেই এখন খুব ব্যস্ত সময় পার করছি। সন্তানের জন্ম দিয়েই যেন দায়িত্ব সেরে ফেলছি। আবার যারা উচ্চবিত্ত তারা টাকা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করার চেষ্টা করেন। বড় হওয়ার সময় ছেলেমেয়েদের জগৎটা থাকে রঙিন, নতুন সবকিছুই তার পরখ করে দেখার ইচ্ছা হয়। তাই এ সময়ে তার হাজারো প্রলোভনে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বাবা-মায়ের দায়িত্বই হচ্ছে সন্তানকে দেখেশুনে রাখা, সে কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, কী করে- সব নজর রাখা। কিন্তু আমরা কি তা করছি?

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাবা-মায়ের স্নেহ-সানি্নধ্য কম পাওয়া পরিবারের সন্তানরা মাদকে বেশি আসক্ত। ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের সন্তানেরা স্বভাবতই মনোপীড়ায় ভোগে। অভিভাবকহীন অবস্থায় তারা বিপন্ন বোধ করে। অনেক সময় বাবা-মা একসাথে থাকলেও স্কুল থেকে অভিভাবকদের ডাকলে তারা আলাদাভাবে দেখা করেন। বিষয়টা সামান্য হলেও এর অভিঘাত ব্যাপক। সেই ছেলেটি বা মেয়েটি এ জন্য সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকে, বন্ধুদের কাছেও নিজেকে গুটিয়ে রাখে।

আবার এর উল্টো চিত্রও রয়েছে। সন্তানদের বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন কোনো কোনো বাবা-মা তার ছেলেমেয়েকে সমাজের রোল-মডেল হিসেবে দেখতে চায়। সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেয় নিজেদের অপূর্ণ সাধ ও স্বপ্নের বোঝা। ক্লাসে ফার্স্ট হতে হবে, সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে হবে- এই জাতীয় চিন্তা-ভাবনা তাদের সন্তানদের দিশেহারা করে ফেলে। এ চাপ থেকে মুক্তি পেতে তারা কেউ কেউ ক্রমশ মাদকে আসক্ত হয়। একবার এ পথে পা বাড়ালে ফেরার আর কোনো উপায় থাকে না।

মাদকের সহজলভ্যতার কারণেও আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণরা আটকে যায় মাদকের ফাঁদে। যা কিছু নিষিদ্ধ তার প্রতি মানুষের সহজাত আকর্ষণ থাকে। হাত বাড়ালেই যদি তা পাওয়া যায়, তবে তারা কেন বসে থাকবে! যারা এই নীলনেশার কারবার করে, তারা মাদকের নতুন নতুন বাজার তৈরির উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল ও বিদ্যায়তনের আশপাশে নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এখন শুধু ছেলে নয়, উঠতি বয়সের মেয়েরাও সমানভাবে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তথাকথিত প্রভাবশালী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি পছন্দের। কারণ তাদের কাছে প্রচুর টাকা থাকে। একবার আসক্ত হয়ে পড়লে চড়া দামে বারবার মাদক কিনে খাবার মতো অর্থ-সংগতি আছে বলেই ওরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।

মাদক চোরাচালান ও এর সহজপ্রাপ্যতা বন্ধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, রাষ্ট্র সে দায়িত্ব পালন করছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে আরো জোরালো ভূমিকা রাখবে, এ প্রত্যাশা আমাদের সকলের। তবে অভিভাবকদের দায়িত্ব ভুলে গেলে চলবে না। এ দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের চেয়েও বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ। কাজ বা ব্যস্ততার অজুহাতে সন্তানদের বিষয়ে উদাসীন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মনে রাখতে হবে, মাদকাসক্তি একটি সামাজিক ব্যাধি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র- সকলকে একাত্ম হয়ে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তাহলেই কেবল আমরা একটি মাদকমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

পিআইডি ফিচার

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১০
ফজর৫:০৮
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৯সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮১৬৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.