নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
বই প্রকাশনা ও ভাষা উৎসব
আলহাজ্ব মো. রবিউল হোসেন
দেশের সর্বস্তরের প্রতিটি মানুষের জীবনের লক্ষ্য কেমন হওয়া উচিত এ প্রসঙ্গে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন ভারতের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ও মিসাইল বিজ্ঞানী এপিজে আবুল কালাম। ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকা মেট্টোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ১১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেয়া তার সেই মূল্যবান বক্তব্য আজও বাংলার আকাশে বাতাসে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বারবারই। সেই দর্শনযুক্ত বক্তব্য শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য যে ছিল তাও না বরং সে বক্তব্যের মূল দর্শনটি ছিল গোটা মানব জাতির কল্যাণের এক মূল্যবান প্রেসক্রিপশন বৈকি। তার মতে বড় হতে হলে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। প্রকৃত জ্ঞান আহরণ করতে হবে। অনেক বড় সমস্যায় পড়লেও লক্ষ্য থেকে সরে আসা যাবে না। কোন কাজে সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটোকেই নেতৃত্বগুণে সামাল দিতে হবে। জীবনে বড় হতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে বড়। ছোট স্বপ্ন দেখা অপরাধ। তিনি আরো বলেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে সর্বোপরি উন্নত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের মূল উৎস হলো তিনটি। ১. পিতা ২. মাতা ও ৩ একজন শিক্ষক। আমাদের যশোরের এক সময়ের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, জীবন বড়ই কঠিন। কঠিনের মোকাবিলায় নিজেকে রোল মডেলে পরিণত করতে হবে। যা দেখে তোমার নিজের পরিবার পরিজন শিখবে, শিখবে অন্যরাও। কথাটি হৃদয় মাঝে বিঁধে আছে আজও। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ভাবতে শুরু করি। দীর্ঘদিন (৩৭ বছর) শিক্ষকতা পেশা এবং সাংবাদিকতা পেশায় এ পর্যন্ত কাজ করে বা করার সুযোগ পেয়ে কি করেছি। কতটুকু করতে পেরেছি শিক্ষার্থীদের জন্য এবং দেশ সেবায় কতটুকু অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছি মানব কল্যাণে? তার ধারাবাহিক দৃষ্টান্ত ভবিষ্যৎ বংশধর বা নতুন প্রজন্মকে জানাতে লেখা শুরু করি। জীবনের বিচিত্র ঘটনাবলি নিয়ে লিখি দর্শনভিক্তিক একটি বই। যার নামকরণ করা হয় 'জ্ঞানীজন ও তারুণ্যের স্বপ্ন কথা'।

বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয় ৩০ নভেম্বর ২০১৬ দুপুরে ১২টায় শার্শার বাগআঁচড়াস্থ নিজ বাসভবন বা আদ্দ্বীন অফিস চত্বরে।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি দুপুর দেড়টায় একই স্থানে নতুন অপর একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। যার নাম ; 'ঐতিহাসিক সাহিত্য কলাম' বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন ৮৫ যশোর ১ এর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন। এবার কার আয়োজন যে শার্শা ঝিকরগাছা কলারোয়া মিলে তিন উপজেলার নিমন্ত্রিত স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থী, অধ্যক্ষ প্রধান, শিক্ষক, সুধি, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তি, ডাক্তার, সাধারণ মানুষ ও আত্মীয়স্বজন মিলে ৫-৬শ মানুষের এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। বইমেলা ও ভাষা উৎসবের দর্শন ছিল তিন উপজেলার সাংস্কৃতিক বিনিময় এর পাশাপাশি কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশে মতবিনিময় শেষে মিনি পিকনিকও উপভোগ করা। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্বরচিত কবিতা পাঠ, উপস্থিত বক্তব্য। বানান-বিধি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। পিতা-পুত্র মিলে দুটি বই প্রকাশনা। অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে এবং বই পাঠের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে যারা মূল্যবান বক্তব্য রাখেন তারা হলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াছ কবির বকুল, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ৮৫ যশোর ১ এর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ কাফিল উদ্দিন, তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বই মানুষের জ্ঞানকে বিকশিত করে। বই মানুষকে সমৃদ্ধ করে। মানুষের আত্মিক ও বাস্তবিক জ্ঞান লাভের অন্যরকম মাধ্যম হচ্ছে বই। বই পাঠে সৃজনশীল চেতনা, উদ্ভাবনী শক্তি ও নতুন কিছু করার মানসিকতা তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

সাংসদ উন্নত দেশের উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, উন্নত দেশগুলোতে আমাদের দেশের মতো এতো মিষ্টি বা বিড়ি, সিগারেটের দোকান খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে, উন্নত দেশগুলোতে প্রচুর ফুল ও বইয়ের স্টল বা দোকান পাওয়া যায়।

আমরা যখন কোনো আত্মীয়দের বাড়িতে যাই তখন মিষ্টি হাতে কারে নিয়ে যাই। অথচ উন্নত দেশের মানুষ বন্ধুরা আত্মীয়দের বাড়িতে গেলে বই বা ফুলের উপহার নিয়ে যায়।

এছাড়াও মূল্যবান বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সাবেক কলেজ পরিদর্শক শিক্ষা বোর্ড যশোরের আলহাজ্ব মো. আবু নসর, ডাক্তার আফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম, বই প্রকাশক আলহাজ্ব মো. রবিউল হোসেন, অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম, কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ আহমেদ স্বপন, ভাইস চেয়ারম্যান আরাফাত হোসেন, শার্শা উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌস, সাবেক চেয়ারম্যান হাসান আজিজ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে শোনান ডা. আবদুল জলিল, সৃজনশীল শিক্ষার দোষ গুণ সম্পর্কে মূল্যবান বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী মারিয়া আফরি সুমি। উপস্থিত বক্তব্যে অংশ নেন ড. মশিউর রহমান কলেজ ও বাগআঁচড়া সম্মিলিত বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রচ- বৈরী আবহাওয়ার (ঘন কুয়াশা) মধ্যে বই প্রকাশনা ও ভাষা উৎসব কতটুকু সফল হবে প্রথম থেকে এ সংশয় বিরাজ করলেও বেলা ১১টার পর থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে থাকে। সকাল ১০টায় ঘোষিত সময়সূচি পরিবর্তনের ঘোষিত কর্মসূচির কিছু ব্যত্যয় ঘটলেও প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ কাফিল উদ্দিনের আগমন, শার্শা, কলারোয়া উপজেলার একাধিক চেয়ারম্যানদের ও ভাইস চেয়ারম্যানদের উপস্থিতি। স্কুল, কলেজের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন ও এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে বই প্রকাশনা ও ভাষা উৎসব অনুষ্ঠানটি।

ঈর্ষাপরায়ণ কিছু ব্যক্তিদের অনুপস্থিতি ছিল অনাকাঙ্ক্ষি ঘটনা এবং তারা ছিলেন সর্বশেষে সমালোচনার পাত্র।

প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান উপভোগ করে ৮৫ যশোর ১ এর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন মাইকে ঘোষণা দিয়েই বলেন, স্যার আগামীতে যদি এমন উদ্যোগ (বই প্রকাশনা) নেন, সেক্ষেত্রে আমি নিজে এবং চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াছ কবির বকুল, চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ টিঙ্কুসহ সব দায়দায়িত্ব নেব, সম্মুখে শুধু স্যার থাকবেন মাত্র।

অর্থাৎ সকল ব্যয়ভারসহ এরেজমেন্টের দায়িত্ব নেয়ার ও প্রতিশ্রুতি দেন সংসদ সদস্য। তবে প্রকাশনার অনুষ্ঠানটি নিজ বাড়িতে না করে স্থানীয় যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে করার জন্য অনুরোধ বা প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন।

আলহাজ্ব মো. রবিউল হোসেন : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৬
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৩২৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.