নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
জনতার মত
দেশে আইনের শাসন আছে কি?
আবদুর রফিক
চোর চুরি করার পর ধরা পড়ে প্রথমে থানা, কোর্ট, কারাগার পর্যন্ত তার ঠিকানা নির্ধারণ হয়। একপর্যায়ে রায়ে সাজা হয় অথবা সঠিক সাক্ষীর দুর্বলতায় খালাস পায়। এমনিভাবে ছিনতাই, ধর্ষণ, খুন অপরাধ পর্যায়ে যার যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থাপন করে বিচারের রায় পর্যন্ত দৌড়-ঝাপ চলতেই থাকে। এর সত্যতা সকলেরই জানা। তারপরও রাজনৈতিক কর্মকা-কে চাঞ্চল্যকর রাখার প্রয়োজনে রাজনীতিকগণ সরকারের ব্যর্থতাকে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে দেশে আইনের শাসন নাই বলে প্রচার করে থাকেন। দেশের মানুষ ভালোভাবেই বুঝেন এই বাক্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য একটি রাজনৈতিক কৌশল। এ জন্যই এরূপ বেহুদা বক্তব্যকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই জনগণের মাঝে প্রচার করা হয়ে থাকে। জনগণ এখন অনুমান করতে পারছেন রাজনীতিকদের অধিকাংশ বক্তব্য অপ্রয়োজনে প্রচার হয়ে থাকে, এই বক্তব্যগুলোই রাজনৈতিক বক্তব্য নামে সীল মেরে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে।

জনগণ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এটাই রাষ্ট্রের বিধান। এই বিধান থেকে কেউ এমনি এমনি ছাড় পাবার সম্ভাবনা নেই, যদি কেউ এমনি এমনি ছাড় পেয়ে যায় সেক্ষেত্রে দেশে আইনের শাসন নেই বক্তব্যটি শত ভাগ প্রযোজ্য।

অপ্রিয় হলেও সত্য আমাদের দেশে রাজনীতিতে জড়িয়ে থাকার মূল কারণ হলেন নিজেকে আইনের শাসন থেকে মুক্ত রাখার একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াটি বর্তমানে দেশে রাজনীতিকদের ক্ষেত্রে রাষ্টীয়ভাবে বৈধ করে নিয়েছে। আমরা জনগণ প্রক্রিয়াটি দেখতে দেখতে ভাবতে শিখেছি এই প্রক্রিয়াটি এমন ধারাবাহিকভাবেই চলমান।

সকলেই দেশের জনগণ হিসেবেই গণ্য। আইন সকল জনগণের ক্ষেত্রে সমান। এমন বক্তব্য রাজনীতিকগণও বিভিন্ন সময় বলে থাকেন কিন্তু অপ্রকাশিত বক্তব্যটি শুধু রাজনীতিকদের হৃদয়েই রোপন করা আছে যে আইনের শাসন রাজনৈতিকদলের ক্ষেত্রে অপ্রযোজ্য। এমন অসৎ চিন্তাকে পুষে রাজনীতিকগণ বছরের পর বছর রাজনীতিতে নিজের ক্ষমতাকে দাপটের সাথে তাড়িয়ে বেড়িয়েছেন। এই ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য দেশে আইনের শাসন নেই তাদের ক্ষেত্রেই সত্য প্রমাণিত।

এমতাবস্থায় দেশে শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের একজনের দুর্নীতি কর্মকা-ে জড়িত থাকার অপরাধে দেশের প্রচলিত আইন সঠিক প্রয়োগ করায় দুর্নীতি প্রমাণিত হয়েছে। দেশের আইনী বিধান মতে তার সাজা হয়েছে, তাকে কারাভোগ করতে হবে। এই প্রক্রিয়া আমরা সাধারণ জনগণ দেখে অভ্যস্থ নই, অতএব আমাদেরকে বাস্তবতাটি অবাক করেছে। এতে জনগণের মাঝে কারো মন্তব্য রাজনীতিকদের আবার সাজা হয় নাকি। কারো মন্তব্য এটা সরকারের কোনো চাল নাকি। কেউ বলেন দেরিতে হলেও সত্যিকারের আইনের প্রয়োগ প্রমাণিত হল। যেখানে সাধারণ জনগণের মাঝেই এই রায় নিয়ে বিবিধ মন্তব্য। সেখানে রাজনৈতিকদের তো রাজনৈতিক বক্তব্য থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এই রায়কে নিয়ে যে যার চিন্তাধারায় যাই মন্তব্য করুক না কেন এই প্রক্রিয়াও যার যার গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এই অধিকারকে অপপ্রয়োগ করে কেউ নাশকতা সৃষ্টি করুক এটা কারো কাম্য নয়। কেউ যেন এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা আদায় না করতে পারে এই বিষয়ে সকল জনগণকেই সজাগ থাকতে হবে। সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদা জাগ্রত থাকুন এই কামনা জনগণের। নিশ্চয় আল্লাহ্ উত্তম ফয়সালাকারী।

আবদুর রফিক : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৮
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩৩
এশা৭:৪৯
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৭৮৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.