নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
নড়াইলে ফসলি জমিতে শতাধিক ভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে গাছ
ধোঁয়ায় ফসলের ক্ষতি
নড়াইল প্রতিনিধি
সরকারি হিসাবে নড়াইল জেলায় ইটভাটার সংখ্যা ৬০। যদিও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইটভাটার প্রকৃত সংখ্যা ৭৪টি। এর মধ্যে ৬০টি ভাটাতে রয়েছে ব্যারেল চিমনি, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রতি মৌসুমে অন্তত সাড়ে ৩০০ একর ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি গিলছে এসব ইটভাটা। নড়াইলে ৭৪ ইটভাটায় পুড়ছে গাছ গিলছে উবর্র মাটি নড়াইলে ফসলি জমিতে গড়ে উঠছে ইটভাটা। অর্ধশতাধিক ভাটায় কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে গাছ। ইট তৈরিতে ব্যবহূত হচ্ছে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি। একদিকে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ, অন্যদিকে উর্বরাশক্তি হারিয়ে ফেলছে শত শত হেক্টর জমি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি ইটভাটা গড়ে তুলতে কমপক্ষে পাঁচ একর জমির প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো ইটভাটা ৩০-৩৫ একর জমি জুড়ে। এক যুগ আগে নড়াইল জেলায় ১৮-২০টি ইটভাটা ছিল। এখন প্রায় চার গুণ হয়েছে। কৃষকদের দাবি, এসব ইটভাটা নির্মাণে অন্তত ৪০০ একর ফসলি জমি ব্যবহার করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটার ব্যবস্থাপক জানান, মধ্যম আকারের একটি ভাটায় বছরে ৪০-৫০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। আর প্রতি আট হাজার ইটের জন্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয় এক হাজার ঘনফুট মাটি। এ মাটির জোগান আসে কৃষিজমি থেকে। সেই হিসাবে প্রতিটি ভাটায় বছরে গড়ে সাত একর জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহূত হয়। অর্থাৎ ৭৪টি ভাটায় অন্তত সাড়ে ৩০০ একর জমির উপরিভাগের উবর্র মাটি ব্যবহূত হচ্ছে। এতে করে উর্বর শক্তি হারিয়ে ফেলছে জমিগুলো। শুধু তা-ই নয়, প্রতিদিন ইট পোড়ানোর জন্য একটি ভাটায় গড়ে ৩৫-৪০ মণ কাঠ পোড়াতে হয়। সে হিসাবে ৭৪টি ভাটায় দৈনিক ২ হাজার ৫শ মণ কাঠ পোড়ে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক কাঠ ব্যবসায়ী জানান, তারা বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছ কিনে ভাটায় পৌঁছে দেন। আম, জাম, রেইনট্রি, কদম, জামরুল, কাঁঠাল, খেজুর, নারকেলসহ তিন শতাধিক ফলদ ও বনজ গাছ জ্বালানি হিসেবে প্রতিদিন ব্যবহূত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাটার মালিক জানান, বছরে পাঁচ মাস ইট পোড়ানোর মৌসুম থাকে। এ সময় প্রতিদিনই ভাটাগুলোতে একই পরিমাণ জ্বালানির চাহিদা থাকে। সে হিসাবে পাঁচ মাসে ৫০ হাজারেরও বেশি গাছ কাটতে হয়। আইন অনুযায়ী ইটভাটায় কয়লা না পুড়িয়ে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে কেন? এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ভাটা মালিকরা। তাদের দাবি, কয়লার দাম কমিয়ে সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ কয়লা আমদানির ব্যবস্থা করলে তারা আর কাঠ পোড়াবেন না। অগ্রিম টাকা দিলেও সময়মতো কয়লা পান না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এদিকে ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে আশপাশের ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। লোহাগড়ার রামপুরা এলাকার কৃষক জহির কাজী জানান, তার ক্ষেতের পাশে ইটভাটা হওয়ায় আগের তুলনায় ফলন কমে গেছে। তার আশঙ্কা, ভাটা থাকলে কয়েক বছর পর কোনো ফসলই পাবেন না। সিভিল সার্জন আসাদুজ্জামান মুন্সি দিপু, আমাদের জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন প্রকার রোগ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় জনবসতি থেকে সব ইটভাটা দ্রুত সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইটভাটার কারণে ক্ষতিত্রস্ত কৃষিজমির কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও নড়াইল কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা হলে উবর্রতা নষ্ট হয়। ৪-৫ বছর সেই জমির উৎপাদন কম থাকে। ফসলি জমির আশপাশে ইটভাটা থাকলেও উৎপাদন অনেক কমে যেতে পারে। এসব বিষয় এরই মধ্যে জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।ভাটায় বেআইনিভাবে কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন বলেন, কিছু ইটভাটা মালিক কাঠ পোড়াচ্ছেন। পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ভাটায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও জরিমানা করছি।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৩০৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.