নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১
সুনামগঞ্জের শাল্লায় বালু দিয়ে হাওড় রক্ষাবাঁধ দেখেও না দেখার ভান কর্তৃপক্ষের
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই চলছে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ। পিআইসিরা মনগড়াভাবে কাজ করে ফসলকে রাখছে হুমকির মুখে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে বালি মাটি দিয়ে বাঁধের কাজ করা যাবে না। কিন্তু নীতিমালা না মেনেই শাল্লা উপজেলার ছাঁয়ার হাওড়ের অনেক বাঁধই বালুমাটি দিয়ে নির্মাণ করছে পিআইসি'র লোকজন। যা দেখেও নীরব কর্তৃপক্ষ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হাওড়ের কৃষকদের। ছায়ার হাওড় উপ-প্রকল্পের ১১১নং পিআইসি'র সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের কাজ বন্ধ রয়েছে। লোকজন নেই বাঁধে। এমসয় পিআইসি'র সভাপতি অনিল চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে বাঁধের কাজ নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, আমার কাজ তো প্রায় শেষ। মাটি কাটা শেষ করেছি। এখন মিল করবো। আপনারা এসেছেন দেখে যান। আপনাদের যা লিখার লেখেন। নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন অনেক দূর আছি, নীতিমালা কি জানি না। উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামের নিকটবর্তী ১০৮নং পিআইসি। যার দৈর্ঘ্য ৫৮৬ মিটার এবং বরাদ্দ ১৮ লাখ ১ হাজার ৫শ' ৮৬টাকা। ওই প্রকল্পের প্রায় ৩০০ মিটার স্থান অপ্রয়োজনীয় বলে

জানান এলাকাবাসি। তারা আরো বলেন, গত বছরের নদী খননের মাটিতেই ওই ৩০০ মিটার স্থান উঁচু ভিটায় পরিণত হয়েছে। যার উপর দিয়ে পানি প্রবেশ করার কোনো সুযোগ নাই। তবে এবছর এসব অপ্রয়োজনীয় বাঁধের মাধ্যমেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাবেক এস.ও সমসের আলী মন্টু। অপরদিকে ১১২নং পিআইসিতে গিয়ে দেখা যায়, ৫/৭ জন শ্রমিক বাঁধে কাজ করছেন। পিআইসি'র কোনো লোক বাঁধে নেই। সভাপতি রথীন্দ্র চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অফিসের লোকজনই এসব বালিমাটি দিয়ে বাঁধ করার কথা বলেছেন। তাছাড়া আমরা ভালো মাটি পাবো কোথায়। এসব বালিমাটিই বাঁধের গোড়া থেকে কাটা হচ্ছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাটি পাওয়া যায় না তাই কাটছি। বাঁধে সঠিকভাবে দুরমুজ না করার বিষয়ে তিনি জানান, অফিস এসে বললে আবার দুরমুজ করবো। আপনারা কে ? বাঁধ আমার, আমি যেভাবে খুশি সেভাবে করবো। ছায়ার হাওড়ের ১০৮, ১১১, ১১২নং পিআইসি'র সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি বাঁধই সম্পূর্ণ বালিমাটিতে করা হচ্ছে। তাছাড়া কোনো বাঁধেই নেই স্ট্রাকচারাল প্রোফাইল, করা হচ্ছে না দুরমুজ। সঠিকভাবে দেয়া হয়নি বাঁধের সস্নোভ, লাগানো হয়নি ঘাস বা ঢোল-কলমী। অথচ ১১১ ও ১১২নং পিআইসি'র লোকজন অকপটে বলছেন বাঁধের কাজ শেষ। একই হাওড়ের ১২২নং পিআইসি'র বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের গোড়া থেকেই মাটি কাটা হয়েছে। অনেকটা অগোছালোভাবে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। বাঁধের কোথাও কোথাও রয়েছ কাদা মাটি। করা হচ্ছে না দুরমুজ ও অন্যান্য কাজ। এবিষয়ে জানতে পিআইসি'র সভাপতি আব্দুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, এ হাওড়ের ১০৮ নং পিআইসি থেকে শুরু করে ১২২নং পিআইসি'র বাঁধ এলাকায় সারাদিন ঘুরে মনিটরিং ও তদারকি টীমের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। আর এ সুযোগেই পিআইসিরা নীতিমালা উপেক্ষা করে তাদের ইচ্ছা মতো কাজ করে হাজার হাজার কৃষকের ফসল হুমকিতে রাখছেন বলেও অভিমত এলাকাবাসীর। এব্যাপারে সুনামগঞ্জ পওর বিভাগ-২-এর শাখা কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাইয়ূমের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি গত মঙ্গলবার বাঁধ পরিদর্শন করেছি, পিআইসি'র লোকজনদের বাঁধের কাজ সঠিকভাবে করতে বলেছি।

পিআইসি'র লোকজন বালি মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণে অফিসের যোগসাজসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই আমি এরূপ কথা কাউকে বলিনি। আমি এও বলছি, বালি মাটি দিয়ে বাঁধের কাজ নীতিমালা বিরোধী। এবিষয়ে উপজেলা কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ আল মুক্তাদির হোসেনের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আচ্ছা ঠিক আছে, আপনারা আমাকে জানিয়েছেন। আমি নিজে ওইসব প্রকল্পগুলো দেখবো।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীফেব্রুয়ারী - ২৪
ফজর৫:০৯
যোহর১২:১২
আসর৪:২২
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৬:২৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯৭৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.