নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১ ফাল্গুন ১৪২৬, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১
৫৪ ধারার রায় : ১৭ বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আপিল বিভাগের ক্ষোভ
কাজী মাহফুজুর রহমান শুভ
'ক্রসফায়ার' বা 'বন্দুকযুদ্ধের' নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ অনেক পুরোনো। গত এক দেড় দশকে পরিস্থিতি পাল্টায়নি। বরং যুক্ত হয়েছে 'গুম' ও 'গুপ্তহত্যার' মতো আরও ভয়ংকর ঘটনা। সম্প্রতি উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর নতুন করে উত্থান এবং তাদের নৃশংস হত্যাকা- মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটা বড় কারণ ছিল। সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুব দ্রুত জঙ্গিগোষ্ঠীকে মোকাবিলা করা এবং তাদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সাফল্যও দেখিয়েছে। কিন্তু ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ এবং গুম বন্ধে সেভাবে তৎপরতা দেখা যায়নি। সাম্প্রতিককালে মাদক ও ধর্ষণের মতো অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও একই কৌশল

প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। গল্প আছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিয়ে রাতের বেলায় অস্ত্র উদ্ধারে বের হলে বা তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে বের হলে ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা হামলা, গুলিবর্ষণ করে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি ছোড়ে। দু'পক্ষে বন্দুকযুদ্ধের সময় ক্রসফায়ারে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় বন্দি ব্যক্তি। ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের সব গল্প প্রায় এ রকম। ঘটনাস্থল থেকে কিছু অস্ত্র উদ্ধারও দেখানো হয়। ২০০৪ সালে শুরু হওয়া এই গল্প এখনো জারি আছে। কেবল ক্রসফায়ারের স্থলে কখনো কখনো 'বন্দুকযুদ্ধ' বা 'এনকাউন্টার' শব্দ প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধন নিয়ে আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ শুনানির জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আপিল আদালত এই দিন ধার্যের আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

আইনে নেই তাই ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের কারণ জানানোর সুযোগ নেই। বিনা পরোয়ানায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের বিষয়ে হাইকোর্টের রায় ১৭ বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ।

এ সময় আপিল বিভাগের বিচারপতি নুরুজ্জামান বলেন, তাহলে রায় দিয়ে লাভ কি? এটা কি আইওয়াশ। ৫৪ ধারায় গ্রেফতার তো আমাদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে? আত্মীয়-স্বজনদের ক্ষেত্রেও হতে পারে।

ডিস এপিয়ারেন্স (নিখোঁজ) হয়ে গেল, ৫ বছর তার কোনো খবর নেই? এর দায়-দায়িত্ব কে নেবে? রাষ্ট্র নেবে? বলেন এ বিচারপতি। এ প্রশ্নের জবাবে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিষয়টি তা নয়। আপিল বিভাগের আরেকজন বিচারপতি ইমান আলী বলেন, হাইকোর্টের রায় এতোদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। তাহলে রায় দিয়ে লাভ কি। এটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তাহলে আমরা হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দিই।

পরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনাদের রিভিউ আবেদনটি স্পষ্ট নয়। রায়ের কোন কোন ক্ষেত্রে আপত্তি আছে তা স্পষ্ট করে দিন। পরে আগামী ১৬ এপ্রিল এ মামলার রিভিউ শুনানির দিন ধার্য করে আপিল বিভাগের ৬ সদস্যের বেঞ্চ। জানা যায়, এর আগে ১৯৯৮ সালে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের পর পুলিশের কার্যালয়ে তার মৃত্যু হয়। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের পক্ষে ১১ দফা সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (বস্নাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, অরুণ চক্রবর্তীর স্ত্রীসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।

এরপর ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল বিচারপতি মো. হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৬ মাসের মধ্যে ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের জন্য ৭ দফা সুপারিশ করা হয়।

পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে ২০১৬ সালের ২৪ মে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৪ সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। তবে সে রায়ের বিরুদ্ধে অসঙ্গতি তুলে ধরে রিভিউ দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের পর ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা কমলেও এই সময়ে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে গুম ও গুপ্তহত্যার ঘটনা। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকার বনানী থেকে বিএনপির নেতা ইলিয়াছ আলী নিখোঁজ হওয়ার পর গুমের ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় এলেও এর শুরু ২০১০ সালে। ওই বছরের জুনে রাতে ঢাকা থেকে একইভাবে নিখোঁজ হন বিএনপি নেতা ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলম। ওই বছর ঢাকা ও গাজীপুর থেকে নিখোঁজ হন বরিশাল ও চট্টগ্রামের বিএনপির দুই নেতা। ২০১১ সালে ঢাকা থেকে অপহৃত ও গুম হন খুলনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কে এম শামীম আকতার, ২০১২ সালে ইলিয়াছ আলী ও তার গাড়িচালক ছাড়াও আরও ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে, অর্থাৎ ২০১৩ সালের শেষ দিকে এ ধরনের ঘটনা বেড়ে যায়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এক রাতেই ঢাকার নাখালপাড়ার ৬ জনকে তুলে নেয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় লাকসামের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ২ জনকে। যাদের খোঁজ আজও জানা যায়নি। আসকের হিসাবে, ২০১৩ সালে ৫৮ জন অপহরণ ও গুমের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক পরিচয়ে তাদের স্বজনকে তুলে নেয়া হয়েছে, এরপর আর কোনো খোঁজ পাননি তারা। নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় যেভাবে র‌্যাবের একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ এতসংখ্যক কর্মকর্তা ও সদস্যের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং আদালতে প্রমাণিত হয়, এরপর গুম ও গুপ্তহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সন্দেহ আরও তীব্র হয়।

২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের পর গুমের সংখ্যা কমলেও বন্ধ হয়নি। পরবর্তী ৫ বছরেও অনেকে গুম হন। হংকংভিত্তিক এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন (এএইচআরসি) ও দেশীয় মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৯ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৯৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্য থেকে ৫২ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ফিরে এসেছেন ১৯৫ জন। এর আগে-পরে ফিরে আসা ব্যক্তিরা আর মুখ খোলেননি।

আসকের হিসাবে, ২০১৮ সালেও অপহরণ, গুম ও নিখোঁজের শিকার হন ৩৪ জন। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে ১৯ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশকে পরে বিভিন্ন মামলায় আটক করা হয়। সর্বশেষ গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানসহ কয়েকজন এখনো নিখোঁজ আছেন। পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ক্রসফায়ার ও গুমের ক্ষেত্রে শুরুতে কথিত চরমপন্থীরা ছিল লক্ষ্যবস্তু। পরবর্তী সময়ে পেশাদার সন্ত্রাসী, ধর্মীয় উগ্রপন্থী, মাদক বিক্রেতা, রাজনৈতিক কর্মী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশাজীবীরা এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন। মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থার অবসান ঘটানোই সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রায়ই দেশের কোথাও না কোথাও গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পড়ে থাকছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার পর লাশ পাওয়ার খবর পেয়েছেন স্বজনেরা, এমন অভিযোগও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যের অনেক গরমিল দেখা যায়।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৮
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০৩
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০২৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.