নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০ ফাল্গুন ১৪২৭, ১০ রজব ১৪৪২
তারুণ্যের চেতনায় একুশ
মুশফিকুর রহমান ইমন
বাংলা ভাষার অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। আর ফেব্রুয়ারি হচ্ছে এই ভাষার মাস। বছর ঘুরে এই মাসটি এলেই আমরা বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি জাতির সেই সূর্য সন্তানদের। যারা বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়ে ছিনিয়ে এনেছিল এই ভাষার সম্মান, প্রতিষ্ঠা করেছিল বিশ্বের বুকে বাংলা ভাষার নাম। তাই ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির কাছে শ্রদ্ধা ও আবেগের মাস। সেই সাথে তরুণ প্রজন্মের কাছে আত্মত্যাগের দীক্ষায় দীক্ষিত হওয়ার এক মাস। মহান এই মাস নিয়েই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু তরুণ শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও চেতনা তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও লেখক মুশফিকুর রহমান ইমন।

একুশের চেতনা বাস্তবায়িত হোক সর্বস্তরে

মুরাদ হোসাইন

প্রতি বছর একুশ বাংলার গণমানুষের চেতনা নতুন আঙ্গিকে জাগিয়ে তোলে। রক্তঝরা একুশ বাঙালি জাতির নিজস্ব ঐতিহ্য ও আত্মত্যাগের ইতিহাসকে বিশ্ব দরবারে গৌরবের সাথে তুলে ধরে। এমন বীরত্ব গাঁথা ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও সার্থক বাঙালি হিসেবে নিজস্ব পরিচয় দিতে দ্বিধাবোধ করি। ভাষার মাস আসলে ভাষার গান, ভাষার আলোচনা, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থেকে পুরো বছর বাংলা ভাষা কেন্দ্রিক চেতনার জাগরণ ও চর্চা থেকে বিমুখ থাকি। অথচ বাংলার সূর্য সন্তানরা শুধুমাত্র মাতৃভাষা রক্ষার জন্যই নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। অপরিচিত ভাষায় শিক্ষা গ্রহণের ফলে নিজস্ব চিন্তা ও মেধাশক্তিকে যথার্থভাবে বিকশিত করতে পারিনি বলে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান ভয়ানক সমস্যায় জাতি আজ জর্জরিত। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো নিজেদের সমৃদ্ধ ও বিকশিত করেছে নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা ও গবেষণার ফলে। তাই বাংলা ভাষা কেন্দ্রিক অবহেলার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে শিক্ষা ও গবেষণার বিষয়গুলো বাংলাতেই করা এখন সময়ের দাবি। তাহলে বাঙালি হিসেবে নিজস্ব ঐতিহ্যকে জাগ্রত করবার পাশাপাশি নিজেদের চিন্তা ও মেধাশক্তিকে ফলপ্রসূ করা আমাদের জন্য সহজ হবে। বাস্তবায়িত হবে লাখো শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা।

মুরাদ হোসাইন : লেখক

পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক বাংলা ভাষা

আয়েশা সিদ্দিকা

চলছে ভাষার মাস, আশার মাস, একুশের মাস ফেব্রুয়ারি। একুশ শেখায় কারো কাছে মাথা নত না করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ও আত্মমর্যাদায় বলীয়ান থাকা। একুশের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের জন্যই বাংলা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সম্মানিত। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রাণ দিয়েছিল এ দেশের তরুণ ছাত্রসমাজ। প্রাণের ভাষাকে ছাত্রসমাজ আজো ভালোবাসে, অনুভব করে মন থেকে। তাই আজো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি নিয়ে আমাদের এত অহংকার, এত গর্ব। একটা জাতি তার মাতৃভাষা দিয়ে নিজেকে তুলে ধরে। ভাষা তার নিজস্ব স্বকীয়তা বহন করে। আমি চাই আমাদের এই প্রাণের ভাষা বাংলা ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবীর আনাচে-কানাচে, সর্বত্র। বর্তমানে বাংলাভাষাকে বিভিন্নভাবে কলুষিত করা হচ্ছে। রক্ত দিয়ে অর্জন করা ভাষাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেয়া হচ্ছে না। যতটা অর্জন দিয়ে কেনা এ ভাষা, বর্তমানে তার চেয়ে বেশি অবহেলিত এ ভাষা। ১৯৫টি দেশের ৭০০ কোটিরও বেশি মানুষ ছয় হাজার ৯০৯টি ভাষায় কথা বলে। তাদের এত ভাষার মধ্যে শুধুমাত্র বাংলা ভাষার সম্মানার্থে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই বর্তমান তরুণ ছাত্রসমাজের উচিত বাংলাভাষার সঠিক ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানা ও পৃথিবীর সর্বত্র বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করা।

আয়েশা সিদ্দিকা : লেখক

একুশের চেতনায় বাংলিশ নিপাত যাক

মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন

পৃথিবীর একমাত্র ভাষা যার জন্য প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিল বাঙালি জাতি। জাতির সেসব প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া ভাষার মর্যাদা প্রদান করি আমরা শুধু একুশে ফেব্রুয়ারি। কারণ ওইদিনই আমাদের চেতনার চেতন হয়। অথচ ভুলে থাকি সারাবছর এই ভাষার ইতিহাস। পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে এতটাই নিজেদের নিমগ্ন করে রেখেছি যে নতুন প্রজন্ম মুখে বাংলা-ইংরেজি মিশ্রিত বুলি না আওড়ালে বন্ধু মহলে তারা যেন জাতে উঠতে পারে না। এমনকি ভাষা দিবস পালন করে অনেকে ভারতীয় হিন্দি গানে। আর রক্তের বিনিময়ে পাওয়া ভাষাটার উচ্চারণ আর বানানের সক্ষমতা তো অধিকাংশের জন্য আরো নাজুক।

আজকাল অনেক উচ্চশিক্ষিত ডক্টরেট, অনার্স ডিগ্রি নেয়া শিক্ষিত আমরাই যখন নিজের ভাষার স্বতন্ত্র বর্ণমালা থাকা সত্ত্বেও ইংরেজি বর্ণমালার যথেচ্ছাচারে বাংলিশ লিখি তখন কী জবাব হবার কথা? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব সহজেই আমরা তথ্য আদান-প্রদান থেকে শুরু করে, মনোজ্ঞ আলোচনার মাধ্যমও আমাদের এই বাংলিশ। অথচ আমরা সবাই শিক্ষিত। দেশের বিলবোর্ড, উন্নত বা মানসম্মত হোটেল, রেস্তোরাঁ, অফিস আদালত সব জায়গায় ভুল বাংলার ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাকে অপমান করা হচ্ছে। কেননা, ভালো চাকরির প্রধান মানদ-ের একটি আজকাল ইংরেজি ভাষা।

ভাষা দিবস মানে শুধু শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে আজ। তাই আসুন আমরা ভাষার এই অবস্থার ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ হবার আগে আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এগিয়ে আসি, শহীদের রক্তের যথার্থ সম্মান করি এবং বাংলিশ নামের এমন ভাষার অমানবিক প্রায়োগিক দিক থেকে ফিরে আসি।

মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন : লেখক

মাতৃভাষার সর্বাধিক গুরুত্ব নিশ্চিত হোক

জান্নাতুল ফেরদৌস সায়মা

মানুষের ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তার মাতৃভাষার কারণে বিকশিত হয়। নিজ মাতৃভাষার সঠিক চর্চা ও জ্ঞান শৈশব থেকেই মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং নিজ সংস্কৃতির পারিপাশ্বর্িকতা ও ইতিহাস জানার মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচয় তৈরি করে। বাংলা বিশ্বের অন্যতম একটি ভাষা, মাতৃভাষা হিসেবে বিশ্বে বাংলার অবস্থান ৫ম এবং বহুল প্রচলিত ভাষা হিসেবে ৭ম। তবে দুঃখের বিষয় যে, ইংরেজির মতো কয়েকটি জনপ্রিয় ব্যবহৃত ভাষার বহুল প্রচলনের কারণে মাতৃভাষা তার গুরুত্ব হারাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগে নিঃসন্দেহে ইংরেজি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা, তবে শিক্ষা, ব্যবসাসহ সকল ক্ষেত্রে যেভাবে ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষা ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে যেন মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চা বজায় থাকে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখা জরুরি। এছাড়াও ১৯৮৯ সালের জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ২৬-এ শিশু শিক্ষাকে তার নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধার দিকে পরিচালিত করার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০-এ কোনো ধরনের বৈষম্য না করে সকল শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থা বিভিন্ন মাধ্যমে ও কারিকুলামে বিভক্ত হয়েছে। যা ভাষা এবং জাতিগত দিক দিয়ে দিন দিন আমাদের মধ্যে ব্যবধান বৃদ্ধি করছে। নিজ নিজ জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মাতৃভাষাকে সংরক্ষণ করার জন্য আমাদের যে কোনো মূল্যে এর সর্বাধিক শুদ্ধ চর্চা ও গুরুত্ব বৃদ্ধির প্রদানের জোর দিতে হবে। অতএব ভাষার মাস হোক মাতৃভাষা ব্যবহারের প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য।

জান্নাতুল ফেরদৌস সায়মা : লেখক

সুরক্ষায় বায়ান্নো আমাদের প্রেরণা

আকিজ মাহমুদ

বাঙালি বাদে ইতিহাসে কোনো জাতিকেই মাতৃভাষা সুরক্ষার জন্য প্রাণ বিলিয়ে দিতে হয়নি। হাজার বছরের সমৃদ্ধ ভাষাকে কালেরগর্ভে ছুঁড়ে ফেলতে চেয়েছিল পাকিস্তানি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। প্রায় ২শ বছরের ব্রিটিশ শোষণ থেকে বেরিয়ে এসে সাম্প্রদায়িক দেশ গড়েও বাঙালির মুক্তি মিলছিল না।

ব্রিটিশ শাসন অবসান হওয়ার পর থেকেই তৎকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাংলাকে গ্রাস করে ফেলে। পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণকে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকেরা বৈষম্যের খেলায় মেতে ওঠে, যার সবচেয়ে বড় আঘাতটা ছিল বাংলাকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে উর্দুকে স্বীকৃতি দেয়া। অথচ সেই সময়েই পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা। ১৯৫২ সালে ভাষা নিয়ে যে আন্দোলন বাংলার পথে-ঘাটে বিস্তৃতি ঘটেছিল, তাতে মোটেও অযৌক্তিক কোনো দাবি-দাওয়া ছিল না। বাঙালিরা কেবল চেয়েছিল উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হোক। কিন্তু ১২০০ মাইল দূরবর্তী স্বদেশি শাসকেরা বাঙালির আবেগ বুঝতে সামর্থ্য হননি, আর তাই সালাম, রফিক, শফিক, বরকতের মতো অসংখ্য সাহসী তরুণদের প্রাণ নিতেও পিছপা হয়নি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের সোপান বেয়ে ১৯৭১ এ দেশের স্বাধীনতা অর্জন হলেও বাংলা ভাষা আজো সঠিক মর্যাদায় সমাসীন হতে পারেনি। ১৯৫২ তে পাকিস্তানিরা বাংলাকে চরম অবহেলা করেছিল, আজ আমরাও ভিনদেশি সংস্কৃতি এবং বিদেশি ভাষাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাংলা ভাষার বিপর্যয় ডেকে আনছি। তাই বাংলা ভাষার সুরক্ষায় ৫২ প্রেরণা এখনো সকলকেই ধারণ করতে হবে।

আকিজ মাহমুদ : লেখক

ফিচার লেখক : মুশফিকুর রহমান ইমন

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমার্চ - ৯
ফজর৪:৫৮
যোহর১২:১০
আসর৪:২৬
মাগরিব৬:০৮
এশা৭:২০
সূর্যোদয় - ৬:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:০৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৭৭৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.