নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০ ফাল্গুন ১৪২৭, ১০ রজব ১৪৪২
আইনজীবী থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে পাঁচ বছরে
সোনাগাজীতে 'শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়' গড়েছেন পৌর মেয়র
ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন গত ৫ বছর পূর্বে ছিলেন একজন সাধারণ আইনজীবী। ২০১৬ সালে পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়ার সময় হলফনামায় বসতভিটা, স্ত্রীর গহনা ও ব্যাংক ব্যালেন্সসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার সম্পদের বিবরণ জমা দিয়েছিলেন। মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেয়ার পর গত পাঁচ বছরে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট, দখল ও নামে বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গড়েছেন 'শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়'। বিগত কয়েক বছর তার বিরুদ্ধে স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দিলেও অদৃশ্য কারনে কোনটিরই তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ সম্পদের প্রভাবে ফের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে তদবির চালাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন সোনাগাজী কাঁচা বাজারে দুটি পৌর মার্কেটের ৬৪টি দোকান বরাদ্দ প্রদানে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। ২০১৬ সালে কাঁচাবাজারস্থ পৌর মার্কেটের ৬৪টি দোকান বরাদ্দের সময় নির্ধারিত জামানাত ছাড়াও নিজ নামে দোকান প্রতি বিনারশিদে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা (ম্যানেজ খরচ এর কথা বলে) অতিরিক্ত আদায় করেন। দোকানদারদের জামানতকৃত পৌর তহবিলের প্রায় দেড় কোটি টাকা নিজেই উত্তোলন করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন। এদিকে বিগত ৫ বছরে পৌরসভায় নামসর্বস্ব প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছে কোটি কোটি টাকা। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন (আইইউডিপি) প্রকল্পের নামমাত্র কাজ করে প্রায় ১০কোটি টাকার আত্মসাত করারও অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া ব্যবসায়ীদের নিজ অর্থায়নে নির্মিত মার্কেটের রাস্তাকে পৌর সড়ক দেখিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ৩৪ লাখ টাকা বিল পাস করে অর্থ উত্তোলন, বিভিন্ন প্রকল্প নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে ১০ গুণ বেশি টাকায় ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাত, নির্মিত প্রকল্প পুনর্নির্মাণের নামে অর্থ লোপাট, পৌরসভার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প দরপত্রের আগেই কাজ শেষ করে উদ্বোধন, নতুন ভবন নির্মাণ কাজের জন্য পৌরসভা থেকে প্ল্যান অনুমোদনে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ, রাজস্ব ও এডিবির প্রাপ্ত টাকায় কোনো প্রকার প্রকল্প কমিটি, টেন্ডার ও রেজুলেশন ছাড়াই নিজেই প্রকল্পের ভাগবাটোয়ারা করে অর্থ লুটপাট, পৌরসভার ৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে বিপুল অর্থ বাণিজ্য, প্রবাসীর ভূমি দখল ও মুহুরী সেচ প্রকল্পসংলগ্ন ফেনী নদীর পাড় দখলের অভিযোগসহ বহু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নুর নবী লিটন অভিযোগ করে বলেন, 'পৌর পরিষদের সভা কিংবা মতাতম ছাড়াই পৌরসভার বিভিন্ন উনয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। বিগত ৫ বছরে সোনাগাজী পৌরসভা তহবিল মেয়র খোকনের ব্যক্তিগত তহবিলে পরিণত হয়েছে। পৌর পরিষদের সভায় কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই মেয়র নিজের ইচ্ছেমতো আয়-ব্যায় করেন।'

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, গত ৫ বছরে মেয়র খোকন তার নিজ নামে ঢাকার উত্তরায় রাজউকে'র ৫ কাঠার প্লট ও সোনাগাজীতে ১২টি দলিলে ১০ একর এবং তার স্ত্রী তাসলিমা কাউছারের নামে ৭টি দলিলে ১৭ একর জমি ক্রয় করেন। রাতারাতি কিভাবে মেয়র এত অর্থবিত্তের মালিক হলেন তা প্রশ্নবিদ্ধ! এদিকে নিজের ও স্ত্রীর নামে কেনা জমির বাজার মূল্য প্রায় শতকোটি টাকা হলেও এসব জমি ক্রয়ে রেজিষ্ট্রিকালে ভূমির ধরন পরিবর্তন ও দানদলিল সৃজন করে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন বলে মেয়র খোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দুদকের চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন পৌর কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা নুর নবী লিটন ও জেলা পরিষদের সদস্য যুবলীগ নেতা নাছির উদ্দিন আরিফ ভূয়া।

জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন আরিফ বলেন, সোনাগাজী পৌরসভার মেয়রের এসব জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি ও পৌর কাউন্সিলর নুর নবী লিটন দুদকে একাধিক লিখিত অভিযোগ করেছেন। চর খোয়াজের ভূমি মালিক আবদুল মান্নান বলেন, 'থাক খোয়াজের লামছি মৌজায় আমার ১২০ শতক কৃষি জমি দখল করে মৎস্য খামার করেছে মেয়র খোকন। স্থানীয়ভাবে দেনদরবার করেও দখলমুক্ত করতে পারিনি।'

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীএপ্রিল - ১১
ফজর৪:২৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২১
এশা৭:৩৬
সূর্যোদয় - ৫:৪০সূর্যাস্ত - ০৬:১৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৫৬৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.