নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ মার্চ ২০১৮, ২৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
জনতার মত
উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত আবশ্যিক
মো. হাবিবুর রহমান
মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ ও নির্মল পরিবেশ অপরিহার্য। নির্মল পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। স্যানিটেশন ব্যবস্থা বলতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মানুষ ও জীবজন্তুর মলত্যাগ ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন, সকল কাজে নিরাপদ পানির ব্যবহার, পারিপাশ্বর্িক পরিবেশের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ সমস্ত কিছুকেই বুঝায়।

সবার জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ ও শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর অক্টোবর মাসকে জাতীয় স্যানিটেশন মাস হিসেবে উদযাপন করা হয়। স্যানিটেশন মাসে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি থাকে। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, খোলা স্থানে মলত্যাগ বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্যানিটেশন কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী জনগণের মাঝে স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করাই উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মূল্য উদ্দেশ্য।

উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। গণমাধ্যমগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিশেষ করে খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার বিষয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার প্রবণতা বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদফতরের জরিপে দেখা গেছে, কয়েক বছরে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০০৩ সালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের শতকরা ৪২ ভাগ লোক উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ করতো। বর্তমানে এই হার এক ভাগে নেমে এসেছে।

ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে আরো দেখা গেছে, বিশ্বের ১৬টি দেশ উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগের হার শতকরা ২৫ ভাগের বেশি কমাতে সক্ষম হয়েছে এবং বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। জাতিসংঘ স্যানিটেশনকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থার নানাবিধ কর্মসূচি সবার জন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে এগিয়ে চলেছে। সার্কভুক্ত আঞ্চলিক দেশগুলোর স্যানিটেশন মান উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাপক অগ্রগতি সাধন করেছে।

স্যানিটেশন ও সুস্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে স্যানিটেশনের মূল লক্ষ্যই রোগ সংক্রামণ প্রতিরোধ করা, পরিবেশগতভাবে রোগ সংক্রামণ যাতে না হতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়া। দেশের প্রত্যেকের স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসকদের মতে, বড়দের পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানায় মলত্যাগ করা উচিত। শিশুদেরও যত্রতত্র কিংবা খোলা জায়গায় মলত্যাগ করানো উচিত নয়। মল ত্যাগের পর অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ভালোভাবে ধোয়া খুবই জরুরি।

স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিরাপদ ও আনন্দময় জীবনের জন্য অপরিহার্য। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলে স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরির জন্য অনেক ঝামেলা ও টাকা খরচ হতো। এখন ব্যাপারটি খুবই সহজ। এর পেছনে সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বেসরকারি সংস্থা বিশেষ করে ব্র্যাক ও অন্যান্য সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

পৃথিবীর বহু মানুষ এখনো নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন সুবিধার বাইরে রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। এমনকি পার্শ্ববতী দেশগুলোর থেকেও বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। তারপরও বস্তি এলাকা, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে আরো এগিয়ে আসতে হবে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের বিকল্প নেই। তবে সুন্দর পরিবশ গড়তে যত না অর্থের প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টি করা। স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ব্যবহারের বিষয়ে সকলের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে বাংলাদেশ পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ফলে জনগণকে স্যানিটেশনের অভাবজনিত কারণে সংক্রামক রোগজীবাণু থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে আগামী প্রজন্ম ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, জন্ডিস, টাইফয়েডের মত মারাত্মক সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

বিশ্বের অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন একটি মৌলিক মানবিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। কারণ উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা শুধু সার্বিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নই নিশ্চিত করেনা, একই সাথে তা দারিদ্র্য বিমোচনকেও সরাসরি প্রভাবিত করে। সবার জন্য স্যানিটেশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সুশীল সমাজ ও জনগোষ্ঠিভিত্তিক সংগঠন সমূহের সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ এ সফলতার দ্বারপ্রাপ্তে নিয়ে যেতে পারে। তাই স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য যে কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি জরুরি, তা হচ্ছে গণসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের খারাপ অভ্যাস এবং আচরণের গুণগত পরিবর্তন আনা।

বর্তমান সরকার সবার জন্য স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশে স্যানিটেশনের এ সাফল্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠন, উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সকলের সমন্বিত সহায়তা এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আমাদের আরো কাজ করতে হবে। খোলা জায়গায় মলত্যাগ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে দেশব্যাপী স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো মনোযোগী হতে হবে। দেশের জনগণের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। শীঘ্রই শতভাগ উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবো আমরা। এটা হোক আমাদের আন্তরিক প্রত্যয়।

পিআইডি ফিচার

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৮
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯৬৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.