নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ মার্চ ২০১৮, ২৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
দশমিনা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি
দশমিনা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা থেকে বিলুপ্তের পথে ও বউ ধান ভানেরে ঢেঁকিতে পার দিয়া, ঢেঁকি নাচে বউ নাচে হেলিয়া দুলিয়া, ও বউ ধান ভানেরে।' গানটি একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল। অনেকের কাছে এখনো প্রিয়। আবার প্রবাদ বাক্যে প্রচলিত আছে 'ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।' ঢেঁকিকে নিয়ে অনেক গান ও প্রবাদ প্রচলিত থাকলেও কালের বিবর্তনে ও যান্ত্রিক আবির্ভাবের ফলে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি প্রায় বিলুপ্তির পথে।

গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে এক সময় ঢেঁকিতে ধান ভাঙার দৃশ্য চোখে পড়তো। এখন আর গ্রাম বাংলায় ঢেঁকিতে ধান ভাঙার দৃশ্য চোখে পড়ে না, শোনা যায় না ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দ। শহরে তো বটেই আজকাল অনেক গ্রামের ছেলে মেয়েরাও ঢেঁকি শব্দটির কথা জানলেও বাস্তবে দেখেনি। অনেকের কৌতুহল কেমন করে মেশিন ছাড়া ধান থেকে চাল বের করা হতো ?

আসলে ধানের খোসা ছাড়িয়ে চাল বানানোই ছিল ঢেঁকির কাজ। ঢেঁকি হচ্ছে কাঠের তৈরি কল বিশেষ। প্রায় ৬ ফুট লম্বা ও ২০ ইঞ্চি ব্যাসবিশিষ্ট একটি ধড় থাকে ঢেঁকিতে। মেঝে থেকে ১৮ ইঞ্চি উচ্চতায় ধড়ের সামনে এক ফুট বাকি রেখে দুই ফুট লম্বা একটি গোল কাঠের মাথায় লোহার রিং পড়ানো থাকে। এটাকে মৌনা বলা হয়। পেছনে দুটি বড় কাঠের দ-ের ভিতর দিয়ে একটি হুড়কা হিসেবে কাঠের গোলাকার খিল থাকে।

এভাবেই তৈরি ঢেঁকি দিয়ে একসময় ধান ভাঙার কাজ হতো। ঢেঁকি দিয়ে শুধু ধান থেকে চালই নয়, পিঠা তৈরির জন্য চালের গুড়াও তৈরি করা হতো। একসময় নতুন ফসল তোলার পর ও পৌষ সংক্রান্তিতে ঢেঁকির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠতো গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি। গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাড়িগুলোতে ঢেঁকিঘর হিসেবে আলাদা ঘর থাকতো।

গৃহস্থবাড়ির নারীরা ঢেঁকির মাধ্যমে চাল তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাতেন। গরিব নারীরা ঢেঁকিতে শ্রম দিয়ে আয় রোজগারের পথ বেছে নিতেন। ঢেঁকিতে কাজ করাই ছিল দরিদ্র নারীদের আয়ের প্রধান উৎস। আধুনিক যুগে সেই ঢেঁকির জায়গা দখল করে নিয়েছে বিদ্যুৎ চালিত মেশিন। চালকলের মাধ্যমে মানুষ এখন অতি সহজেই অল্প সময়ে ধান থেকে চাল পাচ্ছে। যেখানে ঢেঁকি দিয়ে আগে মানুষ ধান ভাঙতো দিনে সাত থেকে আট মন, এখন গ্রামে-গঞ্জে হাসকিং মিল ও অটোরাইস মিলের মাধ্যমে দিয়ে কয়েক হাজার টন ধান ভাঙিয়ে ঝকঝকে চাল তৈরি করছে।

হাতের কাছে বিভিন্ন যন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় ঢেঁকির মতো ঐতিহ্যবাহী অনেক কিছুই এখন হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় হয়তো প্রাচীন এই যন্ত্রগুলোর দেখা মিলবে কেবল যাদুঘরে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুন - ২১
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৮১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.