নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ মার্চ ২০১৮, ২৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
১৫ হাজার বাসে মাসে ৩২ কোটি টাকা চাঁদা
আবু জাফর
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন রুটের ১৫ হাজার বাস থেকে দৈনিক কোটি টাকার বেশি চাঁদা তোলা হচ্ছে ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির নামে। মাস হিসেবে এই চাঁদার পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকা। যার পুরোটাই যাচ্ছে নব্য আওয়ামী লীগ হিসেবে চিহ্নিত এক পরিবহণ নেতা ও তার সহযোগীদের পকেটে। পরিবহণ মালিক সমিতির আওয়ামী পন্থী ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে বিএনপি জামায়াত হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নিয়ে ঐ নেতা গড়ে তুলেছেন বিশাল সিন্ডিকেট। যোগাযোগ মন্ত্রীসহ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এমপি তার আয়ত্তে থাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থক ত্যাগী পরিহণ নেতারা এখন চরম কোণঠাসা। এই অবস্থায় তাদের মধ্যে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। ফলে পরিবহণ সেক্টরে যেকোনো সময় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহণ যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি : ১৭৭৬) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে, রাজধানী দৈনিক ১৫ থেকে ১৬ হাজার বাস চলে। এরমধ্যে সায়েদাবাদ থেকে সাড়ে তিন হাজার, মহাখালী থেকে ২৬০০, গুলিস্তান থেকে ১২শ থেকে ১৩শ, ফুলবাড়িয়া থেকে ১৭শ থেকে ১৮শ, মিরপুর থেকে ৮শ, আজিমপুর থেকে ৬শ, মতিঝিল কমলাপুর থেকে প্রায় ৬শ, গাবতলী থেকে ৩ হাজার ৬শ ও অন্যান্য স্থান বা ভাসমান আছে আরো ১৫শ বাস। এসব বাস থেকে দৈনিক ৫শ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়।

ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহণ যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি : ১৭৭৬) সূত্র আরও জানায়, গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া থেকে রাজধানী ঢাকা ও শহরতলীর ৩৪টি পরিবহণ থেকে দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহণ সমিতি। এরমধ্যে বাসপ্রতি ৩০ টাকা হারে মাত্র ৫১ হাজার টাকা শ্রমিক ইউনিয়ন ও ৫ টাকা হারে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন পায়। বাকি টাকার পুরোটাই যায় ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহণ নেতাদের পকেটে।

ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা জানান, নব্য আওয়ামী লীগ হিসেবে পরিচিত একজন প্রভাবশালী নেতা তার সহযোগীরা এই চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করছেন। যার নেতৃত্বে রয়েছেন খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ও তার সহযোগীরা। এসব সহযোগীদের অধিকাংশই বিএনপি জামায়াতের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ফুলবাড়িয়া টার্মিনালে চাঁদা তোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত হুমায়ুন কবির তপন ঢাকা পরিবহণ মালিক সমিতির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত। একইভাবে প্রভাতী বনশ্রী পরিবহণের সভাপতি শহীদুল্লাহ শাহীনও বিএনপির সমর্থক। এছাড়া তানজিল পরিবহণের সভাপতি মো. খোকন, এয়ারপোর্ট রুটের সভাপতি মো. হাবীব, শুভযাত্রা পরিবহণের সভাপতি মো. ফয়সাল, সায়েদাবাদ টার্মিনালের সভাপতি আবুল কালাম, ডিলিংকের সাধারণ সম্পাদক মো. রতন, আজমেরী পরিবহণের সাধারণ সম্পাদক হেলাল, আরমাপ পরিবহণের নির্বাহী পরিচালক মো. আলমগীর, মহাখালী বাস টার্মিনালের সাদেকুর রহমান হিরু, গাবতলী টার্মিনালের সাধারণ সম্পাদক আতিক, আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডের (২৭ ভিআইপি রুট) সাধারণ সম্পাদক মো. রাজ্জাক, স্কাইলাইনের সাধারণ সম্পাদক মো. নান্নু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. টিপু, ডিলিংকের পরিচালক মো. ওয়ালিদ ও ওয়াহিদ, প্রভাতী বনশ্রীর পরিচালক সাজু, গোলাপ, আফসার, ফারুক, গাবতলীর সাত্তার, ২৭ ভিআইপির কামাল ওরফে এতিম কামাল, মনির ওরফে এতিম মনির, যাত্রীসেবার সাধারণ সম্পাদক বাবুল, স্বাধীন পরিবহণের সভাপতি মো. মামুন, সাধারণ সম্পাদক মন্টু, স্কাইলাইনের মনছুর, সুপ্রভাতের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফ, ঢাকা বেতকা রুটের সভাপতি রনি ভা-ারি, সাধারণ সম্পাদক সানা উল্লাহ এবং ভিক্টর পরিবহণের সাধারণ সম্পাদক মো. মানিক বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত। এরা সবাই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ঘনিষ্ঠ। তার ছত্রছায়ায় থেকে এসব ব্যক্তিরা বিভিন্ন রুটে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করছেন।

পরিবহণ শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহণ যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর নেতৃত্বে ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহণ সমিতির ২১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এনায়েত উল্লাহ গ্রুপের কারণে এই কার্যনির্বাহী কমিটি বর্তমানে কোণঠাসা। তারা কোনো কার্যক্রমই পরিচালনা করতে পারছে না। ইউনিয়নের একাধিক নেতা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এক সময় বিএনপি করতেন। তিনি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ছত্রছায়ায় থেকে ঐ সময় থেকেই পরিবহণ সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করতেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার ক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। তিনি কয়েকজন মন্ত্রীকে ম্যানেজ করে এখন পুরো পরিবহণ সেক্টরের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে চলেছেন। তিনি প্রত্যেকটি রুটে বাসপ্রতি দৈনিকহারে ও ট্রিপ হারে চাঁদা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তার নির্ধারিত চাঁদা না দিলে কোনো গাড়ির চাকা রাস্তায় ঘুরে না।

পরিবহণ সেক্টরে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমি শৃঙ্খলার সঙ্গে পরিবহণ সেক্টর পরিচালনা করছি। মালিকদের কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির সমর্থক থাকতে পারে। কিন্তু সবকটি পরিবহণই আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের সফলতায় ইর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর চেষ্টা করছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৯
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩২৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.