নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৫ মার্চ ২০১৯, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০
সুশৃঙ্খল জীবন গড়তে স্কাউটিং
সতীর্থ রহমান
২৯ অক্টোবর ২০১৮ দিনাজপুর শহরের মহারাজা গিরিজানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৪৬তম স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কোর্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. বজলুর রশিদ। দিনাজপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাগতম জানিয়ে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত পাঠ করা হয়। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। শুভেচ্ছা বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, দিনাজপুরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্কাউটের আওতায় আনা হবে। ওরিয়েন্টেশন কোর্সের পর ৫দিনের বেসিক কোর্স অনুষ্ঠিত হবে। বেসিক কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষকরা নিজ নিজ স্কুলে কাব/স্কাউট দল গঠনের যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন। স্কাউট আন্দোলনে এডভান্স কোর্স, স্কিল কোস, প্রগ্রেসিভ ট্রেনিংসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আসন্ন বিজয় দিবসে দিনাজপুরকে শতভাগ স্কাউট জেলা ঘোষণা করা হবে। স্কাউটকে গতিশীল ও কার্যকর করার জন্য স্কাউট আন্দোলনকে সফল করতে হবে। প্রধান অতিথি বলেন, স্কাউট আন্দোলনে থাকলে খারাপ কিছু শিখবেন না। আমাদেরকে স্কাউট লিডার তৈরি করতে হবে। আপনারা একটা দিন দেশের জন্য উৎসর্গ করবেন। দেশটা সামনের দিকে এগিয়ে যাক। সোনার বাংলা গড়ে উঠুক। বাংলাদেশ স্কাউটস দিনাজপুর সদর উপজেলার আয়োজনে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস দিনাজপুর জেলার কমিশনার মো. মাতলুবুল মামুন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফিরুজুল ইসলাম। ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্দেশ্য:১.স্কাউট আন্দোলন সম্পর্কে জানা ২.স্কাউট সংগঠন সস্পর্কে জানা ৩.স্কাউট আন্দোলনের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করার কৌশল জানা ৪.কাব/স্কাউট দল পরিচালনার কৌশল জানা ৫.ইউনিট লিডার হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া।

স্কাউটিং হচ্ছে বিশ্বব্যাপী শিক্ষামূলক গতিশীল একটি যুব আন্দোলন যা ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকলের জন্য খোলা। এটি একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা স্কাউট আন্দোলনের উদ্দেশ্য, নীতি ও পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল। স্কাউটিং এমন একটি প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোমলমতি শিশু কিশোরদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত করে (ষষ্ঠক/উপদল) হাতেকলমে পর্যায়ক্রমে বা ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল, সৎ , চরিত্রবান ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হয়। শিশু, কিশোর ও যুবদের জন্য প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি স্কাউটিং একটি সম্পূরক শিক্ষা ব্যবস্থা। শিশু, কিশোর ও যুবদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তি জীবনে তার ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটে। স্কাউটিং শিশু, কিশোর ও যুবদের আত্মমর্যাদাবান, আত্মনির্ভরশীল, সৎ, চরিত্রবান, উচ্চ মনোবলসম্পন্ন, অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। এ আন্দোলনের মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা ছোটবেলা থেকেই সঠিক দিকনির্দেশনার ফলে স্কাউটিংকে সহশিক্ষা হিসেবে তিন আঙুলে সালাম দেয় স্কাউটরা। সৃষ্টিকর্তাকে যে বিশ্বাস করে না সে স্কাউট হতে পারে না। আস্তিকেরা স্কাউট হতে পারে, নাস্তিকরা নয়।

বাংলাদেশ স্কাউটসের মূলমন্ত্র: কাব স্কাউট মূলমন্ত্র: যথাসাধ্য চেষ্টা করা। স্কাউট মূলমন্ত্র: সদাপ্রস্তুত। রোভার স্কাউট মূলমন্ত্র: সেবা। একত্রে বলা হয় 'সেবার জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা'। স্কাউট আইন ৭ টি। ১. স্কাউট আত্মমর্যাদায় বিশ্বাসী। ২. স্কাউট সকলের বন্ধু। ৩. স্কাউট বিনয়ী ও অনুগত। ৪. স্কাউট জীবের প্রতি সদয়। ৫. স্কাউট সদা প্রফুল্ল। ৬. স্কাউট মিতব্যয়ী। ৭. স্কাউট চিন্তা, কথা ও কাজে নির্মল। কাব স্কাউট প্রতিজ্ঞা: আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে, আল্লাহ ও আমার দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করতে , প্রতিদিন কারো না কারো উপকার করতে, কাব স্কাউট আইন মেনে চলতে আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। (আল্লাহ শব্দের পরিবর্তে নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে সৃষ্টিকর্তার নাম উচ্চারণ করা যাবে।) কাব স্কাউট আইন: ১. বড়দের কথা মেনে চলা। ২. নিজেদের খেয়ালে কিছু না করা। স্কাউট/রোভার স্কাউট প্রতিজ্ঞা: আমি আমার আত্মমর্যাদার উপর নির্ভর করে প্রতিজ্ঞা করছি যে, ১. আল্লাহ ও আমার দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করতে। ২. সর্বদা অপরকে সাহায্য করতে। ৩. স্কাউট আইন মেনে চলতে, আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। স্কাউটিং এর মূলনীতি তিনটি: ১. স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য পালন, ২. অপরের প্রতি কর্তব্য পালন, ৩. নিজের প্রতি কর্তব্য পালন

স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল। বিশ্বব্যাপী তিনি বিপি হিসেবে সমধিক পরিচিত। ১৮৫৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বিপি লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্যক্তি জীবনে সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন। ১৮৯৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষুদ্র সীমান্ত শহর ম্যাফেকিং এ তিনি ২১৭ দিন বুয়রদের দ্বারা অবরুদ্ধ ছিলেন। তিনি তখন তার নিজ সেনাদলের স্কাউটদের ব্যবহার করে যে সফলতা লাভ করেছিলেন, পরবর্তীতে সে চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্কাউটিংকে বালকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নেন। কালক্রমে তা আন্দোলনে রূপ লাভ করে। ১৯০৭ সালে ইংল্যান্ডের ব্রাউনসি দ্বীপে ব্যাডেন পাওয়েল ২০ জন বালক নিয়ে যে পরীক্ষামূলক ক্যাম্প আয়োজন করেছিলেন তারই ফলশ্রুতিতে ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় এবং পর্যায়ক্রমে সারা বিশ্বে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯০৮ সালে স্কাউটদের জন্য বিপি'র লেখা 'স্কাউটিং ফর বয়েজ' বইখানা প্রকাশিত হয়, যা আজও সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। ১৯০৯ সালের মধ্যে চিলি, জার্মানি, সুইডেন, ফ্রান্স, নরওয়ে, হাংগেরি, মেঙ্েিকা, আর্জেন্টিনা, সিংগাপুর প্রভৃতি দেশে স্কাউট আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১০ সালে ভারতবর্ষে স্কাউটিং শুরু হলেও তখন শুধুমাত্র ইংরেজ ছেলেদের মধ্যে স্কাউটিং সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯১৬ সালে ভারতীয় অধিবাসী ছেলেদের মধ্যে পৃথক স্কাউট সংগঠন গঠিত হয়। ১৯১৬ সালে কাব স্কাউটিং শুরু হয়। ১৯১৮ সালে রোভার স্কাউটিং শুরু হয়। ১৯২০ সালে ইংল্যান্ডের অলিম্পিয়াতে প্রথম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরি অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ সালের ১ ডিসেম্বর পাকিস্তান বয় স্কাউট সমিতি গঠিত হয়। ১৯৪৮ সালের ২২ মে ঢাকায় ইস্ট বেঙ্গল স্কাউট এসোসিয়েশন গঠিত হয়। ১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশ স্কাউট সমিতি। এ বছরেই ৯ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির ১১১ নং আদেশ বলে বাংলাদেশ স্কাউটসকে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। প্রথম জাতীয় কমিশনার নির্বাচিত হন জনাব পিয়ার আলী নাজির। ১৯৭৪ সালের ১ জুন বিশ্ব স্কাউট সংস্থা বাংলাদেশ স্কাউটসকে ১০৫ তম জাতীয় স্কাউট সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯৭৮ সালের ১৮ জুন পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল সভায় বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতির নাম করা হয় 'বাংলাদেশ স্কাউটস'। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ স্কাউটস বিশ্ব স্কাউট সংস্থার অনুমোদনক্রমে এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওন এর অন্যান্য দেশের ন্যায় গার্ল-ইন-স্কাউটিং প্রবর্তন করে।

বাংলাদেশের স্কাউট আন্দোলন মূলত: তিনটি শাখায় বিভক্ত। ক) কাব স্কউট: বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু-কিশোরদের (৬ + থেকে ১০+ বছর বয়সী) কাব স্কাউট বলা হয়। খ) স্কাউট: মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার বালক বালিকাদের (১১+ থেকে ১৬+ বছর বয়সী) স্কাউট বলা হয়। গ) রোভার স্কাউট: কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুববয়সীদের (১৭+ থেকে ২৪+ বছর বয়সী) রোভার স্কাউট বলা হয়। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে মুক্তদল। বয়স্করা প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনিট লিডার বা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষকম-লী ও সংশ্লিষ্ট সকলে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে বাংলাদেশ স্কাউটস এর মহতী প্রচেষ্টায় শরিক হয়ে অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে কাব স্কাউট, স্কাউট ও রোভার স্কাউট এবং বয়স্ক নেতা মিলিয়ে প্রায় দশ লক্ষ সদস্য রয়েছে। পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিশ্বে বাংলাদেশ স্কাউটস এর অবস্থান পঞ্চম। কাব স্কাউটদের বড় সমাবেশকে বলা হয় ক্যাম্পুরি, স্কাউটদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সমাবেশকে বলা হয় জাম্বুরি এবং রোভারদের বড় সমাবেশকে বলা হয় রোভার মুট। জাতীয় পর্যায়ে প্রতি চার বছর অন্তর ক্যাম্পুরি, জাম্বুরি ও মুট অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়া উপজেলা, জেলা, অঞ্চলভিত্তিক কাব, স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের সমাবেশ হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ স্কাউটসের আদর্শ: ক) বাংলাদেশ স্কাউটস সরকার বা কোনো সংস্থা, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ নিরপেক্ষ সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। খ) স্কাউট আন্দোলনে বিশ্বসংস্থা ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব দি স্কাউট মুভমেন্ট (ডঙঝগ) এর সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ স্কাউটিং বিশ্ব স্কাউটিংয়ের আদর্শ ও স্বীকৃত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। গ) এই প্রতিষ্ঠানের নীতি, ট্রেনিং ও প্রোগ্রাম অসাম্প্রদায়িক, শ্রেণি বৈষম্যহীন ও উদার ধর্মীয় চেতনার উপর গুরুত্ব দেবে। ঘ) এর সদস্যগণ কোনো রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক, সরকারি, বেসরকারি মতবিরোধে কোনো পক্ষ সমর্থন করবে না। ঙ) এর সদস্যগণ স্কাউট পোশাক পরে কোনো রাজনৈতিক সভা সমিতি অথবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। স্কাউট আন্দোলনের মূলনীতি হচ্ছে ৩ টি। ১. স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য পালন ২. নিজের প্রতি কর্তব্য পালন ৩. অপরের প্রতি কর্তব্য পালন। স্কাউট আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য: ক. হাতেকলমে কাজের মাধ্যমে শেখা খ.উপদল/ষষ্ঠক পদ্ধতিতে শেখা গ. ব্যাজ পদ্ধতির মাধ্যমে কাজের স্বীকৃতি প্রদান। ঘ. মুক্তাঙ্গনে কার্যাবলী সম্পাদন ঙ. তিন আঙ্গুলে সালাম, ডান হাতে করমর্দন চ. নির্দিষ্ট স্কাউট পোশাক,ব্যাজ ও স্কার্ফ পরিধান করা ছ. প্রতিজ্ঞা ও আইন মেনে চলা। কাব স্কাউট/স্কাউট/রোভার স্কাউটদের নিয়ম মোতাবেক অনুশীলন, প্রতিজ্ঞা পাঠ ও দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনের সদস্য হতে এবং তারা সর্বদা প্রতিজ্ঞা, আইন ও মটো মেনে চলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।

সাংগঠনিক কাঠামো: জাতীয় কাউন্সিল বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিষদ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চিপ স্কাউট কাউন্সিলের প্রধান। প্রধান জাতীয় কমিশনার বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান নির্বাহী। তাকে সহায়তা করার জন্য জাতীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবী, সুযোগ্য ও স্কাউট সেবায় নিবেদিতপ্রাণ ১৫ জন জাতীয় কমিশনার এবং ৩০ জন জাতীয় উপ-কমিশনার রয়েছেন। দেশব্যাপী স্কাউট আন্দোলনের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত ৪৭ জন প্রফেশনাল স্কাউট এঙ্িিকউটিভ রয়েছেন। দেশে স্কাউটিং সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যক্রম যেমন: নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, মনিটরিং, মূল্যায়ন, যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইত্যাদি কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় সদর দফতর থেকে পরিচালিত হয়। জাতীয় সদর দফতরে ১. সংগঠন ২. প্রশিক্ষণ ৩.প্রোগা্রম ৪.সমাজ উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য ৫.গার্ল-ইন-স্কাউটিং ৬.এঙ্টেনশন স্কাউটিং ৭.উন্নয়ন ৮.অডিট ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ৯.জনসংযোগ ও মার্কেটিং ১০.আন্তর্জাতিক ১১.বিধি ফাউন্ডেশন ও গ্রোথ ১২.অ্যাডাল্টস-ইন-স্কাউটিং ১৩.। প্ল্যানিং মনিটরিং ইভালুয়েশন এন্ড কোঅর্ডিনেশন ১৪.স্পেশাল ইভেন্টস ১৫.প্রশাসনিক উন্নয়ন প্রভৃতি বিভাগ রয়েছে। বর্ণিত বিভাগের জাতীয় কমিশনার ও জাতীয় উপ-কমিশনারবৃন্দ সংশ্লিষ্ট সাব কমিটির সহায়তায় নীতিমালা প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করে থাকেন। দেশব্যাপী স্কাউট আন্দোলনের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্কাউটসকে মোট ১২টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলের সদর দফতর বিভাগীয় শহরে অবস্থিত এবং খুলনা অঞ্চলের সদর দফতর যশোরে অবস্থিত। বোর্ডভিত্তিক আঞ্চলিক সদর দফতর কুমিল্লা ও দিনাজপুরে অবস্থিত। রোভার, রেলওয়ে, নৌ ও এয়ার এই চারটি বিশেষ অঞ্চলের সদর দফতর ঢাকায় অবস্থিত। আঞ্চলিক পর্যায়ে একজন সভাপতি, একজন আঞ্চলিক কমিশনার এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভাপতি, কমিশনার, সম্পাদক, প্রফেশনাল স্কাউট এঙ্িিকউটিভ, প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবী সরকারি ও বেসরকারি নেতৃবৃন্দ একযোগে কাজ করে স্কাউট আন্দোলনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে অবদান রেখে চলছেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস কর্তৃক স্কাউটিং কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ স্কাউটদের জন্য তিনস্তরে তিনটি সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। কাব স্কাউটদের জন্য 'শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড'। এ অ্যাওয়ার্ড মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কাব স্কাউটদের মাঝে বিতরণ করেন। স্কাউটদের জন্য সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে 'প্রেসিডেন্টস স্কাউট অ্যাওয়ার্ড'। রোভার স্কাউটদের জন্য সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড 'প্রেসিডেন্ট'স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড'। এ দুটি অ্যাওয়ার্ড মহামান্য রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের প্রদান করেন। এডাল্ট লিডারদের জন্য অন্যান্য অ্যাওয়ার্ড এর মধ্যে সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে রৌপ্য ব্যাঘ্র এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে রৌপ্য ইলিশ। বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রতিটি স্তরে কাব স্কাউট, স্কাউট ও রোভারদের জন্য রয়েছে স্তরভিত্তিক বই। এছাড়াও বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রায় ৩০টি প্রকাশনা রয়েছে। বাংলাদেশ স্কাউটস থেকে প্রতিমাসে অগ্রদূত নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে অগ্রদূত নামে একটি অনুষ্ঠান নিয়মিত সম্প্রচার করা হয়। বাংলাদেশ স্কাউটস-এর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত স্কাউট শপে স্কাউটিং সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের ব্যাজ, স্কার্ফ, ওয়াগল, বই, পুস্তিকাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ স্কাউটস এর বিভিন্ন স্তরের প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছে উচ্চমানসম্পন্ন দক্ষ ও স্বতঃপ্রণোদিত প্রশিক্ষণ টিম। প্রায় ৯০ একর জায়গায় আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বাংলাদেশ স্কাউটস এর জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি রয়েছে গাজীপুরের মৌচাকে। এ ছাড়াও সারাদেশে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কাউন্সিলের ৪৭-তম বার্ষিক সাধারণ সভায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, সমাজে স্বার্থপরতা, হিংসা, লোভ ও নৈতিকতার অবক্ষয় শিশু কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও প্রযুক্তির অপব্যবহারও তরুণদের বিপথে পরিচালিত করতে ভূমিকা রাখছে। এতে অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা অকালে ঝরে যাচ্ছে।। এ অবস্থা থেকে তরুণদের মুক্ত রেখে তাদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। স্কাউট আন্দোলন এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পরোপকারী ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে একজন স্কাউট সবার স্নেহ ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারে। লেখাপড়ার পাশাপাশি স্কাউটরা দুযর্োগকালীন দ্রুত সাড়াদান, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে অবদান রাখা, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্যাম্প, স্যানিটেশন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষার মতো বিভিন্ন সমাজ গঠনমূলক কাজে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে বাংলাদেশ স্কাউটসের সংখ্যা ১৭ লাখ, যা জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্ত নয়। স্কাউট সদস্য সংখ্যা ২১ লাখে উন্নীত করতে বাংলাদেশ স্কাউটস 'ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২১' বাস্তবায়ন করছে। এ পরিকল্পনার আলোকে স্কাউটের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্কাউটিংয়ের মান বৃদ্ধিতে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।

স্কাউটিং এ রয়েছে নানা বৈচিত্র, রয়েছে বিশাল জ্ঞানের ভা-ার যা মানুষের বাস্তব জীবনে সুস্থ ও সুন্দর থাকতে সাহায্য করে। এক সময় ধারণা ছিল স্কাউটিং মানে মাঠে ময়দানে শুধুই পিটি, প্যারেড করা। কিন্তু সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে যুগের প্রয়োজনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের সাথে আমাদের দেশের মানুষেরও ধারণা পরিবর্তন হয়েছে। সে কারণে আমাদের দেশসহ আজ বিশ্বের স্বীকৃত ১৫৪ টি দেশের প্রায় ২৫ কোটি মানুষ স্কাউটের পোশাক পরছেন। স্কাউটিং মানুষকে সামাজিক ও সমাজবদ্ধ করে। স্কাউটিং সামাজিক ঐক্য ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করে। স্কাউটরা অবসর সময়কে সফলভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পায় এবং নিজ, পরিবার, সমাজ তথা বৈশ্বিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। কাব হচ্ছে স্কাউট আন্দোলনের প্রথম স্তর। কাব স্কাউটের সংখ্যা ও মান যত বৃদ্ধি পাবে স্কাউটিংয়ের তত প্রসার ঘটবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে স্কাউট ও রোভারের তুলনায় কাবের সংখ্যা অনেক কম। অথচ কম বয়সী শিশু কিশারদের সংখ্যা অনেক বেশি। কাব বয়সী ছাত্রছাত্রীদের সৎ মন-মানসিকতা সৃষ্টি, সঠিক দিকনির্দেশনা দান, যথাযথ শারীরিক বিকাশ ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষামূলক কর্মকা-ের সাথে জড়িত রাখার জন্য কাব স্কাউটিং কার্যক্রম অত্যন্ত সহায়ক। সমপ্রতি সারা দেশব্যাপী প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাব দল গঠন ও সুষ্ঠুভাবে দল পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

সতীর্থ রহমান : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমার্চ - ২৫
ফজর৪:৪২
যোহর১২:০৫
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৫
এশা৭:২৭
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৬:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯৯৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.