নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৫ মার্চ ২০১৯, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০
জনতার মত
ধূমপান বিরোধী আইনের সঠিক বাস্তবায়ন চাই
রুম্মান আহমদ চৌধুরী
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। আমাদের দেশে প্রকাশ্যভাবে যে ধূমপান বেশি করা হয় তা হলো সিগারেট। সিগারেটের ঝোক এত বেশি যে, গ্যাসচালিত সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, বাসের ড্রাইভাররা নিশ্চিন্তে নির্দ্বিধায় সুখটানে মত্ত থাকেন। অথচ তাদের অসাবধানতার কারণে যে কোন সময় সিলিন্ডার বিষ্ফোরণের মত ঘটনা ঘটতে পারে। তাদেরকে সিগারেট খেতে না করলে বলেন, সিগারেট না খেলে মাথা ঠিক থাকে না। গাড়ি নাকি চালাতে পারেন না সিগারেট না খেলে। আমরা যারা বাধা দেই অনেক সময় তাদেরকে শুনতে হয় কটু কথা। আমরা নাকি আচানক মানুষ। তাদের এই আচরণ অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে ? এগুলো কেন? কারণ, জনসচেতনতার অভাব। আর আইনের প্রয়োগ না থাকা। প্রথম যখন সিগারেট/ধূমপানের বিরোধী আইন বাস্তবায়ন করা হয়। তখন গ্রাম্য অনেক মানুষকে দেখেছি গাড়িতে উঠার আগে সিগারেট ফেলে দিতে। কিন্তু এখন অনেক শিক্ষিত মানুষকেও গাড়িতে বসে সিগারেট টানতে দেখা যায়।

ভদ্রতার সাথে কিছু বললেও রাগ করেন। সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যাদের হার্ট দুর্বল অথবা নাকে সাইনাসের সমস্যা তাদের জন্য তো আরো মারাত্মক। সাইনাসের অসুবিধা থাকলে সিগারেটের গন্ধ পেলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এমনকি কথা বলার সময় স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে কষ্ট হয়। গলার আওয়াজ নিচু হয়ে যায়। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার আইন (২০০৫) এর ধারা ১০ এর ০২ এর ক তে ধূমপান দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কাটন বা কৌটায় মুদ্রণ করে যে সতর্কবার্তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে (অর্থাৎ ধূমপান যে রোগগুলোর ক্ষতি করে) তা হলো - ধূমপানের কারণে গলায় ও ফুসফুসে ক্যান্সার হয়, ধূমপানের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়, ধূমপানের কারণে স্ট্রোক হয়, ধূমপানের কারণে হৃদরোগ হয়, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়, ধূমপানের কারণে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়, ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে, তামাকজাত দ্রব্য সেবনে মুখে ও গলায় ক্যান্সার হয়, তামাকজাত দ্রব্য সেবনে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়।

ধূমপান দুইভাবে হয়। প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষভাবে। যারা প্রত্যক্ষভাবে ধূমপান করে তারা তো ধূমপায়ী। আর যারা ধূমপায়ীর কাছে থাকে সে যখন ধূমপান করে তখন তার ধূমপানের সাথে সে সরাসরি না করলেও তার থেকে নির্গত শ্বাস গ্রহণের কারণে তারও ক্ষতি হয় ? প্রত্যক্ষ হোক আর পরোক্ষ ধূমপান হোক। তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ ধূমপানের কারণে রোগাক্রান্ত হচ্ছে এবং অনেকে মারা যাচ্ছে। ধূমপান শাসকষ্ট, হৃদরোগ, যক্ষা এবং ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। যারা ধূমপান করেন তাদের নিজের এবং আশপাশের মানুষের ভালোর জন্য হলেও ধূমপান ছাড়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে এবং ছাড়তে হবে। সরকার প্রতিবছর হাজার কোটি টাকা ট্যাঙ্ পায় এই খাত থেকে। তাই এগুলো সরাসরি বন্ধ করা যাবে না। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ এ পাবলিক প্লেস ও পরিবহণে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে,

(চ) 'পাবলিক প্লেস' অর্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও বেসরকারি অফিস, গ্রন্থাগার, লিফট, আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্র , হাসপাতাল ও ক্লিনিক ভবন, আদালত ভবন, বিমানবন্দর ভবন, সমুদ্রবন্দর ভবন, নৌ-বন্দর ভবন, রেলওয়ে স্টেশন ভবন, বাস টার্নিনাল ভবন, প্রেক্ষাগৃহ, প্রদর্শনী কেন্দ্র, থিয়েটার হল, বিপণী ভবন, চতুর্দিকে দেয়াল দ্বারা আবদ্ধ রেস্টুরেন্ট, পাবলিক টয়লেট, শিশুপার্ক, মেলা বা পাবলিক পরিবহণে আরোহণের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সারি, জনসাধারণ কর্তৃক সম্মিলিতভাবে ব্যবহার্য অন্য কোন স্থান অথবা সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, সময় সময় ঘোষিত অন্য যে কোন বা সকল স্থান।

(ছ) পাবলিক পরিবহণ অর্থ মোটর গাড়ি, বাস, রেলগাড়ি, ট্রাম, জাহাজ, লঞ্চ, যান্ত্রিক সকল প্রকার জন-যানবাহন, উড়োজাহাজ এবং সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্দিষ্টকৃত বা ঘোষিত অন্য যে কোন যান।

আমাদের জন্য দুঃখের একটা বিষয় হল, আইন প্রয়োগকারী ভাইদের হাতে যখন দেখি সিগারেট। অনেকে দেখা যায়, আইনের পোশাক পড়া অবস্থায়ই সুখটান দিচ্ছেন। সোস্যাল মিডিয়ায় তো এরকম অনেক ছবি ভাইরাল হয়। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। অতি দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, কোন সময় দেখা যায় তারা এই ব্যবসার সাথে জড়িত। এ আইন অলঙ্গনীয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আগে বিভিন্ন যায়গায় দৃশ্যমান ব্যানার লাগানো হতো। তাতে সতর্কবার্তা লিখা থাকতো। এখন তা আর দেখা যায় না। নাকি সময়ের সাথে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বৃদ্ধ হয়ে গেল? ২০১৫ সালের সংশোধিত আইনেও পাবলিক প্লেস ও পরিবহণে ধুমপান এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমাদের সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা চাই, আবারো শক্তভাবে তামাকবিরোধী আইনের বাস্তবায়ন। তা বাস্তবায়িত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত চেষ্টা একান্ত থাকবে এই প্রত্যাশা রইলো?

রুম্মান আহমদ চৌধুরী : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৩৮৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.