নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৫ মার্চ ২০১৯, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০
ডাকসু : রাজু ভাস্কর্য ও রোকেয়া হলে অনশন
জনতা ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু এবং হল সংসদের নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনঃতফসিলের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশন অব্যাহত ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। একই ধরনের দাবিতে রোকেয়া হলের ফটকে অনশনে বসেছেন পাঁচ শিক্ষার্থী। তারা রোকেয়া হল সংসদের পুননির্বাচন চান। অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের দুটি দলই বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনশন চলবে। গত ১১ মার্চের নির্বাচনে থাকা অধিকাংশ প্যানেল ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছে গত দুদিন ধরে। ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পাওয়া সরকার সমর্থক ছাত্রলীগকে চমকে দিয়ে ভিপি পদে নির্বাচিত

কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূরও রয়েছেন এই ভোট বাতিলের আন্দোলনে। বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা নূর আগামি ৩১ মার্চের মধ্যে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আর নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ভোট বর্জন করা প্যানেলগুলো। তবে সেই দাবি নাকচ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান গত বুধবার বলেছেন, সবার অক্লান্ত পরিশ্রমে যে নির্বাচন হয়েছে, তার ফলাফলকে 'অশ্রদ্ধা দেখানোর' এখতিয়ার তার নেই। নিয়ম মেনেই নির্বাচিতদের দায়িত্বগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে। নতুন করে ভোটের এই দাবিতে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন শুরু করেন চার শিক্ষার্থী। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও দুজন। তাদের একজন গত বুধবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার জায়গায় আরও দুজন পরে অনশনে যোগ দেন।

অনশনরত রাফিয়া তামান্না বলেন, আমাদের শরীরে যতক্ষণ শক্তি আছে ততক্ষণ অনশন চলবে। আমাদের মতো আমরা অনশন চালাব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। এমনকি হাসপাতালে অনিন্দ্যকে কেউ দেখতেও যায়নি। অনশনরতরা হলেন- ভূতত্ত্ব বিভাগের আল মাহমুদ ত্বাহা, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শোয়েব মাহমুদ, পপুলেশন সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের মাঈন উদ্দীন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তাওহীদ তানজিম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রাফিয়া তামান্না।

এছাড়া অনশনের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের অনিন্দ্য ম-লকে গত বুধবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাওহীদ স্বতন্ত্র জোটের প্যানেল থেকে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক পদে এবং অনিন্দ্য, শোয়েব ও মাঈন উদ্দিন হল সংসদের বিভিন্ন পদে প্রার্থী ছিলেন। তাদের সঙ্গে গত বুধবার নতুন যোগ দেওয়া দুজন হলেন ডাকসু নির্বাচনে বামজোটের আন্তর্জাতিক সম্পাদক প্রার্থী মীর আরাফাত মানব এবং সমাজসেবা সম্পাদক পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল ইসলাম। পুনর্নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পাশাপাশি ১১ মার্চের ভোটে দায়িত্ব পালনকারী সবাইকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন অনশনকারীরা। এদিকে রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন ও হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে পাঁচ শিক্ষার্থী গত বুধবার রাত ৯টার দিকে রোকেয়া হলের ফটকে অনশনে বসেন। এই পাঁচজন হলেন ইসলামিক স্টাডিজের রাফিয়া সুলতানা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা। তাদের মধ্যে রাফিয়া রোকেয়া হল সংসদে ভিপি পদে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী ছিলেন। দীপ্তি স্বতন্ত্র জোট থেকে ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। ছাত্র ফেডারেশনের সায়েদা হল সংসদের এজিএস এবং প্রমি খিশা সদস্য পদে নির্বাচন করেন।

ভোটের দিন রোকেয়া হলে প্রাধ্যক্ষের ওপর হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে সাত প্রার্থীসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে অনশনকারীদের চার দফার মধ্যে। অনশনরত প্রমি বলেন, প্রভোস্ট, প্রক্টর বা ভিসি কেউ আমাদের সাথে দেখা করেনি, কথা বলেনি। বরং প্রক্টরিয়াল টিমের বাহিনী এসে আমাদের উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ছাত্রলীগের কর্মীরা বারবার এসে আমাদের এখানে মহড়া দিয়ে যায়, রাতের বেলা অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন আচরণ করছে যেন আমরা মরে গেলেও তাদের কিছু যায় আসে না। অনশনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কাল রাতে আমরা কেউ ঘুমাইনি। আমাদের হাউজ টিউটররা ছিলেন, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা এসেছিলেন। তাদেরকে (অনশনকারী) আলোচনার জন্য আমরা ডেকেছিলাম, কিন্তু তারা আসেনি। নিজে কেন কথা বলতে যাননি - এমন প্রশ্নে অধ্যাপক জিনাত হুদা বলেন, তারা তো হলের বাইরে অবস্থান করছে। হলের ভেতরে হলে তাদের কাছে যাওয়ার কথা আসত। সাংবাদিকরা পদত্যাগের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে যান রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ। ভিপি নুরুল হক নূর বেলা দেড়টার দিকে রোকেয়া হলের সামনে গিয়ে অনশনে থাকা ছাত্রীর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৮
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩৩
এশা৭:৪৯
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২৮৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.