নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৫ মার্চ ২০১৯, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০
হারিয়ে যাচ্ছে ভোটের উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ
কাজী মাহফুজুর রহমান শুভ
নানা কারণে দেশে নির্বাচন হয়ে পড়ছে জৌলুসহীন ও অনেকটাই প্রতিযোগিতাহীন। বাংলাদেশে কার্যকর নির্বাচনহীন গণতন্ত্রের এক হাইব্রিড মডেলে পুরোপুরি পদার্পণ করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে এই মডেলের যেন এক ধরনের পূর্ণতা দেয়া হলো। অনেক নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে বিজয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগের মতো দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনে বিশাল বাজেট, বিপুল আয়োজন। কোনো কিছুরই কমতি বা ঘাটতি ছিল না। কিন্তু যাদের জন্য এত সব, সেই ভোটদাতারের মধ্যে উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ থাকছে না প্রায়ই। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশ এখন এমন এক রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলা করছে, যে সঙ্কট অতীতের যে কোনো ধরনের সঙ্কটের চেয়ে ভিন্ন এবং গভীর। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিরাজমান শাসন ব্যবস্থার দৃশ্যত গণতান্ত্রিক উপাদানের পাশাপাশি শক্তিশালী কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার উপস্থিতি আরো জোরালো হয়েছে এবং শাসন পরিচালনার জন্য শক্তি প্রয়োগের ওপর নির্ভরতা নতুন মাত্রা লাভ করেছে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শুরুটা হলো কোনো ধরনের উত্তাপ ছাড়াই। প্রথম ধাপের নির্বাচনে অনেকে

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু সাধারণভাবে গণতন্ত্র বলতে বোঝায়, যে শাসন ব্যবস্থায় শাসন ক্ষমতা মুষ্টিমেয় লোকের হাতে না থেকে রাষ্ট্রের সব জনসাধারণের ওপর ন্যস্ত থাকে এবং জনগণই তাদের সরকার গঠন করে। গণতন্ত্র হলো এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে মেয়াদ শেষে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রাপ্ত বয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকার, একাধিক রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক কর্মকা-ে জনগণের অংশগ্রহণ, জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও কল্যাণ বৃদ্ধির ব্যবস্থা।

শুধু সরকার ও স্থানীয় সরকার পরিচালনায় নয়, দেশের ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের সংগঠনের নির্বাচনেও প্রায় একই অবস্থা। সাধারণ নির্বাচনের মতো পেশাজীবী সংগঠনগুলোর আঙিনা থেকেও উধাও হয়ে যাচ্ছে ভোটের উত্তাপ। এমন পরিস্থিতির জন্য বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সব রাজনৈতিক দলকেই কমবেশি দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।

দেশের নির্বাচনে জাতীয় সংসদের পর অন্য বড় আয়োজনটির নাম উপজেলা নির্বাচন হলেও পঞ্চম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে নিরুত্তাপ পরিবেশে। সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন নিয়েও ভোটারদের মধ্যে এখন তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সদ্য শেষ হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাচনও যারপরনাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হওয়ায় ছিল একেবারেই পানসে। আসন্ন এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন পরিবেশে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনজীবী ও চিকিৎসকের মতো অন্যান্য কিছু পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনেও দূষণের অভিযোগ আছে। ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও আজকাল মারামারির অভিযোগ উঠছে। বিভক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচনেও জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে।

এমন পরিস্থিতির জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো একে অন্যকে দায়ী করে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর জন্য কোনো দল ও সরকারই এককভাবে দায়ী নয়। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলসহ বিএনপির সময় বিভিন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিতর্কিত পদ্ধতিতে। সেই সময়গুলোতে অনেক নির্বাচনই ছিল জৌলুসহীন ও একতরফা।

এছাড়া একতরফা নির্বাচনে খুব কম ভোট পড়ে। এ কারণেই বিএনপির আমলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন ছিল ভোটারহীন। একইভাবে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও ভোট কম পড়ে।

ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য মতে, ২০০০-০২ সাল মেয়াদের আগেও এফবিসিসিআইতে সরাসরি সাধারণ পরিষদের সদস্যদের ভোটে সভাপতি নির্বাচন হতো। বিএনপি-জামায়াতের সরকারের আমলে ২০০২ সালের এক আদেশে সংগঠনটির নির্বাচনে ভোট নির্বাসিত হয়ে পড়ে। ঐ সময়ের বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক আদেশের মাধ্যমে ভোটের বিধানে পরিবর্তন আনেন। এরপর থেকেই সাবেক সভাপতি ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সমর্থনে এফবিসিসিআই সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। প্রায় একই অবস্থা পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএতেও। ২০১৩ সালের পর থেকে বিজিএমইএতে সরাসরি সদস্যদের ভোটে নির্বাচন হয়নি। বিজিএমইএ ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৬ এপ্রিল ভোট আর নির্বাচিত ও মনোনীত পরিচালকদের নিয়ে ২ মে এফবিসিসিআইয়ের বোর্ড গঠন এবং ঐদিন সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন করার কথা রয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন-রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেয়া কমিশনের জন্য অস্বস্তিকর। সিইসি তার এই বক্তব্যে স্বীকার করে নিলেন যে, জনগণ ও দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। যে দেশে ভোটের আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাঙ্ ভর্তি করা হয়, ভোট চুরি হয়, মানুষ ভোট দিতে পারে না- সেখানে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ধিক্কার ছাড়া অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য নয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনের ভোট আগের রাতে হয়ে গেছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। দিনশেষে ফল ঘোষণা করা হয়। গণতন্ত্রকে হত্যা করে এই তামাশার নির্বাচন করছে সরকার।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন ইসি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। কমিশন বলেছে, তারা ব্যর্থতার দায় নেবে না। এখন কমিশন যদি দায় না নেয় এ দায় কে নেবে?। তার মতে, নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের যে হার তাই এ নির্বাচনকে বিকৃত নির্বাচন বলাই স্বাভাবিক। জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনই নয়, বহুল প্রতাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনেও যা কিছু ঘটেছে, তাতে দেশের সচেতন মানুষ রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে। এ নির্বাচনেও রাতে ব্যালট বাঙ্ভর্তি, সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধার, শক্তি প্রয়োগ, হানাহানিসহ নানা ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মতোই হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যেভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনও সেই পথে যাবে। যেখানে গায়ের জোর ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভোটের ফলাফল ক্ষমতাসীনরা নিয়েছে। ডাকসুতে রাতে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এছাড়া এখানে দিনের বেলায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে গায়ের জোরে হলের মধ্যে ভোট হয়েছে। সরকার সমর্থিতরা জিতেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টা হল। তার মধ্যে ২-৪টা অন্যদের দিয়ে দিলো। তারপর বলছে গণতান্ত্রিক ফল হয়েছে। তা না হলে ওরা জিতলো কীভাবে?

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, আমরা এবার নির্বাচনে গিয়েছি জনগণকে সাথে নিয়ে। আমি ৫৪ সালে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। এই পর্যন্ত সব নির্বাচন দেখেছি। পৃথিবীর বিভিন্ন পুঁজিবাদী দেশ, গণতন্ত্রী ও সমাজতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন দেখেছি। ভোট ডাকাতি আমাদের দেশেও হয়, কিন্তু এমন জঘন্যতম এবং বেহায়াপনা ডাকাতির নির্বাচন আমি দেখিওনি পড়িওনি। আমাদের দেশের জনগণ ভোট দিতে চেয়েছিল, কিন্তু ভোট ২৯ ডিসেম্বর রাতেই শেষ হয়ে গেছে। যেমন পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র শেষ, তেমনি ভোটের আগে ব্যালট পেপার শেষ। অনেক বুদ্ধিজীবীরা বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে না গিয়ে ভুল হয়েছে, কিন্তু এবার কি প্রমাণিত হলো এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু নয়।

সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের আস্থা অর্জনে কিছুটা হলেও ব্যর্থ হয়েছে। আস্থা পরিপূর্ণভাবে কেন ধরে রাখতে পারেনি আমার মনে হয় কর্তৃপক্ষকে সেটা খুঁজে দেখতে হবে। ভবিষ্যতে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক হিসেবে আমাদের শিক্ষকসহ কর্মকর্তারা পূর্ণ আস্থা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন_এ প্রত্যাশাই ব্যক্ত করছি।

গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবনতি হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এই সূচক থেকে দেখা যায় যে, ২০১৭ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯২তম। ১৬৫টি দেশে এবং দুটি ভূখ- নিয়ে এই তালিকা করা হয়েছে। আগের বছর ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ছিল ৮৪তম অবস্থানে। অর্থাৎ এক বছরে সূচকে আট ধাপ নেমে গেছে বাংলাদেশ। গত এক দশকের মধ্যে এই সূচকে এটাই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন অবস্থান। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম। মূল্যায়নের ১০ পয়েন্টের মধ্যে এখন স্কোর ৫ দশমিক ৪৩। আগের বছর ছিল ৫ দশমিক ৭৩।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২২
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৬৪৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.